দিল্লিতে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক সেরেছেন মোদি সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। কী আলোচনা হয়েছে সেই বৈঠকে? সরকার কি সংরক্ষণ বাতিলের পক্ষে? এখনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি বিজেপি। এরই মধ্যে ২০ দিনের পুরনো ইস্যু তুলে দেশে দলিতদের দুর্দশা নিয়ে সরব হলেন রাহুল গান্ধী। উত্তরাখণ্ডের হলদিয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে শুদ্ধিকরণ করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় সুবিচার দিতে হবে, দাবি লোকসভার বিরোধী দলনেতার।
বিতর্কের সূত্রপাত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভা থেকে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হলদিওয়ানির রামলীলা ময়দানে সভা করেন কংগ্রেস সভাপতি। পরদিনই ওই সভাস্থলে রীতিমতো পুজো অর্চনা করে ওই সভাস্থলে শুদ্ধিকরণ করায় একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। রাম সেনা নামের ওই সংগঠনের শুদ্ধিকরণের ছবি-ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তাতে মল্লিকার্জুন খাড়গে অপমানিত বোধ করেন। কংগ্রেস সভাপতি দলিত। তাঁর বক্তব্য, তিনি দলিত বলেই এভাবে শুদ্ধিকরণ করেছে রাম সেনা। উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গৌডিয়াল বলেন, “খাড়গে দলিত হওয়ায় এভাবে শুদ্ধিকরণ করা হল। এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। গোটা দলিত সমাজকে অপমান।”
আরও পড়ুন:
সেসময় দু-একজন ছাড়া আর কোনও কংগ্রেস নেতা খাড়গের ওই অপমান নিয়ে আন্দোলন করেননি। দলের নির্দেশে রাজ্যে রাজ্যে ছোটখাট বিক্ষোভ হলেও সেটা দানা বাঁধেনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাহুল গান্ধী নিজে কিছু বলেননি। তাতে মল্লিকার্জুন খাড়গে মর্মাহত হন। এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সেই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই ঘটনার প্রায় ৩ সপ্তাহ বাদে লোকসভার বিরোধী দলনেতা নতুন করে ইস্যুটি তুলে আনলেন। তিনি ইন্দিরা ভবনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন, “এই শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই আরেক রূপ। এটা সংবিধান অনুযায়ী অপরাধ। কিন্তু এটাই বিজেপি আরএসএসের মানসিকতা।”
রাহুল বলেন, “কংগ্রেস সভাপতিকে সুবিচার দিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নাকি সব জাতির। তাহলে তাঁর দলেরই উত্তরাখণ্ডের রাজ্য সভাপতি ওই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার পরও পার পেয়ে গেলেন কেন? আমাদের স্পষ্ট দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিতে হবে। উত্তরাখণ্ড বিজেপির সভাপতি একটা অপরাধ করেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চুপ। এটাই প্রধানমন্ত্রীর মানসিকতা।” রাহুলের বক্তব্য, “একা খাড়গে নন, এই দেশে আজও দলিতদের প্রতিপদে অপমানিত হতে হয়। দলিত পড়ুয়াদের স্কুলে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়। গ্রামের কুয়ো থেকে জল খেতে দেওয়া হয় না, চায়ের দোকানে বসতে দেওয়া হয় না, আলাদা কাপে চা দেওয়া হয়।” রাহুলের বক্তব্য, বিজেপির মনুবাদী মানসিকতার জন্য দলিতদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অপমানিত হতে হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এশিয়াডে নামবেন না নীরজ, পরপর পদক জিতেও সিদ্ধান্ত ‘সোনার ছেলে’র, কেরিয়ার শেষের পথে?
-
কৃত্রিম প্রসাধনীকে বলুন ‘না’! পদ্ম থেকে গোলাপ, এই ৫ ফুলেই লুকিয়ে রূপটানের জাদু
-
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে সেরা ফল, মহিলা হকি দলকে বিশাল আর্থিক পুরস্কার
-
কৃতীর ‘বিতর্কিত’ রাখি বিজ্ঞাপন বয়কটের প্রশংসা, প্রকৃত পৌরুষের পাঠ পড়ালেন ‘লক্ষ্মণ’ সুনীল
-
ছেলের সঙ্গে একই কুঠুরিতে বন্দি নির্মল! সময় কাটছে কীভাবে?