শুভদীপ রায় নন্দী, শিলিগুড়ি: ফের নতুন অতিথি সমাগমে সেজে উঠতে চলেছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। কেন্দ্রীয় জু অথরিটির নিয়ম অনুযায়ী ‘পশু বিনিময় চুক্তি’ মেনে হিমাচল প্রদেশ থেকে দার্জিলিংয়ে পৌঁছাচ্ছে পাখির দল। বিনিময়ে হিমাচলে যাচ্ছে এখানকার স্নো লেপার্ড। রঙিন পাখির আগমনে পাহাড়ি চিড়িয়াখানার আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে আশা কর্তৃপক্ষ।

মিশমি টাকিনের পর এবার দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি ৬টি পাখি। সুদূর হিমাচল প্রদেশের কুফরির হিমালয়ান নেচার পার্ক থেকে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্কের শোভা বর্ধনে আসছে ছ’টি পাহাড়ি প্রজাতির পাখি। ‘পশু বিনিময় চুক্তি’ অনুযায়ী, পদ্মজা নায়ডু পার্ক থেকে কুফরির হিমালয়ান নেচার পার্কে পাঠানো হবে স্নো লেপার্ড দম্পতিকে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে রাজ্যের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কেন্দ্রীয় জু অথরিটির। ছাড়পত্র পেয়েছে পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের মধ্যেই দুই চিড়িয়াখানার পশু-পাখি বিনিময়ের কাজ সম্পূর্ণ হবে। কুফরিতে চলে যাবে ২টি স্নো লেপার্ড, পরিবর্তে দার্জিলিংয়ে পৌঁছে যাবে ছ’টি পাখি। হিমালয়ান নেচার পার্ক থেকে দার্জিলিংয়ে যাওয়া নতুন পাখিগুলি ময়ূর প্রজাতির ছ’টি পাখি।যার মধ্যে ২ টি হিমালয়ান মোনাল, ২টি কালিজ ফিসেন্ট এবং ২টি চিয়ার ফিসেন্ট। এই পাখিগুলির আদি জন্মস্থান নেপাল।
[রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী আবাসনে অবাধে চলছে চুরি, আতঙ্কিত স্থানীয়রা]
রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, “রাজ্য বন দপ্তরের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্নো লেপার্ড দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় পর্যাপ্ত রয়েছে। দু’টি স্নো লেপার্ডকে পাঠিয়ে ছ’টি পাখি হিমাচলের চিড়িয়াখানা থেকে আনা হচ্ছে। চলতি মাসেই ওই ছ’টি পাখিকে দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।” হিমাচল প্রদেশের মুখ্য বন অধিকর্তা সবিতা বাসুদেবা জানিয়েছেন, “ছ’টি পাখি কুফরি চিড়িয়াখানা থেকে পাঠানো হচ্ছে। এক সময় দুটি স্নো লেপার্ড থাকলেও বর্তমানে আমাদের চিড়িয়াখানায় একটিও স্নো লেপার্ড নেই। সেই জন্য স্নো লেপার্ডগুলিকে আনার আগে পৃথক এনক্লোজার তৈরি করা হয়েছে।” দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক থেকে সুভাষ ও জাসমিন নামে দু’টি স্নো লেপার্ডকে পাঠানো হবে। সুভাষ ২০০২ সালে দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতেই জন্মায়। ২০০৬ সালে তাকে শিমলার চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়। ২০১৩ সালে ফের সুভাষকে ফিরিয়ে আনা হয় দার্জিলিংয়ে। অন্যদিকে, আরেকটি স্নো লেপার্ড জাসমিন ২০০৮ সালে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় জন্মায়। এখনও পর্যন্ত জাসমিনকে প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। সুভাষ ও জ্যাসমিনকে বাদ দিলে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় মোট ১৪টি স্নো লেপার্ড রয়েছে। এছাড়া তিনটে হিমালয়ান মোনাল, পাঁচটি কালিজ ফিসেন্ট ও পাঁচটি চিয়ার ফিসেন্ট রয়েছে। এবার নতুন বাসিন্দাদের টানে ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষে। বাড়বে আয়ও।

সর্বশেষ খবর
-
‘ভুয়ো’ প্রকল্প দেখিয়ে ১৩১ কোটি আদায়! কলকাতা-সহ দেশের ২০ জায়গায় তল্লাশি ইডির
-
যত কাণ্ড রেজিনগরে! ‘বাঁশি’ হাতছাড়া হতেই গর্জে উঠলেন হুমায়ুন-পুত্র, মনে করালেন ২০১৬-র ‘ইতিহাস’
-
ট্রাম্পের রোষানলে বাক স্বাধীনতা! ‘সিএনএন’-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
‘লর্ডে’র ব্যাটে লর্ডসে সেঞ্চুরি, ২২ গজে মায়ের টোটকা! টিভি শোয়ের অভিষেকে সিক্রেট ফাঁস রোহিতের
-
ভাষা-ধর্মের নামে বিভেদ নয়, রাধাষ্টমীর সন্ধ্যায় ঐক্যের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর