‘ভাষা ও জাতের নামে বিভক্ত হবেন না।’ রাধাষ্টমীর সন্ধ্যায় এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সন্ধ্যায় বাগবাজারে গৌড়ীয় মঠে রাধারানির দর্শন করেন তিনি। মন্দিরে আয়োজিত সন্ধ্যারতিতেও অংশ নেন। শামিল হন প্রার্থনায়। সেখানেই তিনি বার্তা দেন সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্যও বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। ঐক্যের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, ভাষা-জাতের নামে বিভক্ত হবেন না। শুভেন্দু বলেন, “ভাষা-জাতের নামে ভেদাভেদের চেষ্টা হয়। বিভক্ত হবেন না। দিনের শেষে আমরা সবাই ভারতীয়-হিন্দুস্তানি।” শুভেন্দুর আশ্বাস, রাজ্য সরকার ভারতের দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও তার ঐতিহ্য-মর্যাদা ধরে রাখার কাজ করবে।
গৌড়ীয় মিশনের সন্ন্যাসী ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন গৌড়ীয় মঠের আচার্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ।
এদিন শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ-মন্দির জায়গা পাবে হেরিটেজ কমিশনে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের তীর্থক্ষেত্র সার্কিটেও স্থান পেতে চলেছে গৌড়ীয় মঠ। গৌড়ীয় মঠে আয়োজিত এদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘এই প্রতিষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহামানব পদার্পণ করেছেন। আগের সরকার হেরিটেজ কমিশন তুলে দিয়েছিল। আমি ফিরিয়ে এনেছি। হেরিটেজ কমিশনে এই মঠ-মন্দির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। আমরা এবার বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট করেছি। সেই তীর্থক্ষেত্র সার্কিটেও আমাদের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় শতাব্দী প্রাচীন বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ স্থান পাবে।’’
শুভেন্দু আরও জানান, ওই মঠে যাওয়া-আসার পথে শুদ্ধতা, পবিত্রতা, সাত্ত্বিকতা, তার পরিবেশ কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশ তৈরি করবে। নতুন একটি প্রকল্প হবে সেখানে। তার প্ল্যানের জন্য যে অর্থ কলকাতা পুরসভাকে দিতে হত, তা এদিন মকুব করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, গৌড়ীয় মঠে পার্কিং, মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম, মৃদঙ্গ শেখানোর ট্রেনিং সেন্টার থাকবে। বর্তমান কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটিও আরও বড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, ছাত্রাবাস-বৃদ্ধাবাস-সহ গৌড়ীয় মঠকে ঘিরে আরও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজ্য সরকার ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
রাধারানির আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গৌড়ীয় মিশনের উদ্যোগে এবছর ১০৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে রাধাষ্টমী মহোৎসব। সকাল থেকেই মঠ প্রাঙ্গণে ছিল ভক্তদের ভিড়। হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বিশেষ এই তিথি। সন্ধ্যায় গৌড়ীয় মঠে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মঠের সন্ন্যাসী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মন্দিরে গিয়ে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহের সামনে আরতিতে অংশ নেন তিনি। রাধাষ্টমীর আবহে সেই সময় মঠ চত্বর জুড়ে শোনা যায় হরিনাম সংকীর্তন। সন্ধ্যারতির পর গৌড়ীয় মিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে পুষ্পস্তবক ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এরপর গৌড়ীয় মিশনের সন্ন্যাসী ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন গৌড়ীয় মঠের আচার্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ। ছিলেন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারি, অরিজিৎ বক্সী, উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।
সর্বশেষ খবর
-
যত কাণ্ড রেজিনগরে! ‘বাঁশি’ হাতছাড়া হতেই গর্জে উঠলেন হুমায়ুন-পুত্র, মনে করালেন ২০১৬ সালের কথা
-
ট্রাম্পের রোষানলে বাক স্বাধীনতা! ‘সিএনএন’-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
‘লর্ডে’র ব্যাটে লর্ডসে সেঞ্চুরি, ২২ গজে মায়ের টোটকা! টিভি শোয়ের অভিষেকে সিক্রেট ফাঁস রোহিতের
-
মাও বঙ্গ ব্রিগেডের কফিনে শেষ পেরেক! পুলিশের জালে কিষানজি-আকাশের ২ দেহরক্ষী
-
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় চাঙ্গা লিগ, মিছিল ঘিরে তপ্ত ঢাকা, ৫০০-র বেশি গ্রেপ্তার