অতুলচন্দ্র নাগ, ডোমকল: লঙ্কার জমি থেকে পুরুষাঙ্গ কাটা এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রানিনগরের সীমান্ত গ্রাম উত্তর চর মাঝারদিয়াড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম নিজামউদ্দিন শেখ (৬০)। ওই ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। নাম পারভিনা বিবি (৪৫)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই খুনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও মৃতের স্ত্রী নুরবানু বিবির অভিযোগ, “পারভিনা বিবি আমার স্বামীর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিল। যা না দেওয়ায় দিন দশেক আগে বচসাও হয়েছিল। সম্ভবত তার জেরে সোমবার রাতে ডেকে নিয়েছিল বাড়িতে। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। সকালে লোক মুখে শুনতে পাই বাড়ি থেকে প্রায় দুশো মিটার দূরে লঙ্কার জমিতে স্বামীর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। ছুটে গিয়ে শনাক্ত করি।”
[কওসরের গ্রেপ্তারির খবরে স্বস্তিতে খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা, চরম শাস্তির দাবি]
এরপরেই নুরবানু বিবি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, “ওই পারভিনা ও তার স্বামী-পুত্র মিলে আমার স্বামীকে খুন করেছে।” যদিও জানা গিয়েছে, তিনদিন আগে থেকেই অভিযুক্তরা গ্রামছাড়া। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে একা ওই মহিলার দ্বারা ওই বৃদ্ধকে খুন করে দু’শো মিটার দূরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? ডোমকলের এসডিপিও মাকসুদ হাসান বলছেন, “খুনের মোটিভ দেখে মনে হচ্ছে অনেকটা ক্ষোভের কারণেই তাঁকে মারা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকায় প্রতিবেশী এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।”
[শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, অভিযুক্তকে গণধোলাই]
এদিকে স্থানীয়দের বক্তব্য, পারভিনার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা জানান, টাকা ধারের গল্প সাজানো। পারভিনার স্বামী-পুত্র বছরের বেশিরভাগ সময় ভিন রাজ্যে কাজে থাকে। সম্প্রতি তারা বাড়িতে এসেছিল। ওই অবস্থাতেও দিন দশেক আগে নিজামউদ্দিন পারভিনার বাড়িতে গিয়েছিল। রাতের দিকে কেন তাদের বাড়িতে নিজামউদ্দিন এসেছে জানতে চাওয়ায় বচসা হয়। তারপর দিন দশেক কোনও যোগাযোগ ছিল না। কারণ নিজামউদ্দিন খুনের তিনদিন আগে থেকেই পারভিনার স্বামী-পুত্র গ্রামে নেই।
[বিশ্বভারতীর বিশেষ উদ্যোগ, দৃষ্টিহীনদের জন্য গীতাঞ্জলির ব্রেইল সংস্করণ]
এদিকে নিজামউদ্দিনের মৃতদেহ পড়েছিল পারভিনার বাড়ি থেকে দু’শো মিটার দূরে বাড়ির পিছনে লঙ্কার জমিতে। খুন কে করেছে সে সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্যই হয়তো জমিতে মৃতদেহ নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার ফলে যে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তা ছড়িয়েছিল ওই রাস্তায়। ফোঁটা ফোঁটা ওই রক্তের সূত্র ধরেই তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ওসি অরূপকুমার রায় পৌঁছে যান পারভিনা বিবির বাড়িতে। ঘটনায় অনেকটাই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলেন পারভিনা, কিন্তু পারেননি। পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়তেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সীমান্তের ওই গ্রামে৷
[জালিয়াতি ঘটনায় গ্রেপ্তার হতে পারেন ব্যাংক ম্যানেজার, কড়া বার্তা পুলিশের]
সর্বশেষ খবর
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের
-
নিজেই নিজেকে গুনবেন! রাজ্যে স্ব-গণনায় বিশেষ পোর্টাল খুলে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
-
বাম আমলে ‘খুন’, প্রতিজ্ঞা পূরণ করে ৩৪ বছর পর বিজেপিকর্মী বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন ছেলেরা
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার হারে অভিযান শুরু অধিনায়ক শ্রেয়সের, বৈভবকে না খেলিয়েই ভুগল ভারত!