Humayun Kabir

হুমায়ুনকন্যার শ্বশুরের ১০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত! ক্ষোভে ফুঁসছেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক

২০২৫ সালে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাঁরই এক আত্মীয় জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয় কোটি টাকার মাদক।

শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১৯:৩৫

options
link
হুমায়ুনকন্যার শ্বশুরের ১০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত! ক্ষোভে ফুঁসছেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক
শরিফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু।

হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু করল মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার পুলিশ। মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলাম! এহেন অভিযোগে আজ সোমবার থেকে তাঁদের প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে হয়েছে জোর বিতর্ক। ঘটনায় শরিফুল ইসলামকে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ২২ ডিসেম্বর নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে আমার পরিবার, মেয়ের শ্বশুর, মেয়ে এবং জামাইকে ‘অপদস্থ’ করার জন্য পুলিশের তরফ থেকে মিথ্যা এই মামলা শুরু করা হয়েছে। এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে পালটা হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের। 

Advertisement

জানা যায়, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাঁরই এক আত্মীয় জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক। যার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় কোটি টাকা। এরপরেই ঘটনার তদন্তে নেমে লালগোলা থানার পুলিশ জানতে পারে, বেআইনিভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামও জড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, বেআইনিভাবে মাদক পাচার করে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলেও দাবি পুলিশের।

Advertisement

এরপরেই মাদক পাচারের মামলায় শরিফুলকে যুক্ত করে অবৈধ টাকায় করা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য গত ১ জানুয়ারি পুলিশের তরফ থেকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই নির্দেশ আসার পর সোমবার থেকে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই মতো এদিন মুর্শিদাবাদের লালগোলার নলডহরি-সহ বেশ কিছু এলাকায় শরিফুল ইসলামের নামে থাকা বেশ কিছু সম্পত্তি এবং জমি চিহ্নিত করা হয় প্রথমে। এরপরেই সেগুলি ‘ফ্রিজ’ করার প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

Advertisement

process starts to sieze property of humayun kabir's daughter in laws

সূত্রের খবর, মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি ১৭ টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তালিকায় একাধিক জমির পাশাপাশি, বাড়ি এবং অফিস আছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী একটি ব্যাঙ্ককে ভাড়া দিয়ে রাখা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

সূত্রের খবর, মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি ১৭ টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তালিকায় একাধিক জমির পাশাপাশি, বাড়ি এবং অফিস আছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী একটি ব্যাঙ্ককে ভাড়া দিয়ে রাখা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, ”জিয়াউর রহমান নামে যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এই মামলা শুরু করেছে, তার সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুরের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই ব্যক্তি আমার মেয়ের শ্বশুরের অনেক দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় হন। গত ২২ ডিসেম্বর আমি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে আমার পরিবার , মেয়ের শ্বশুর, মেয়ে এবং জামাইকে ‘অপদস্থ’ করার জন্য পুলিশের তরফ থেকে মিথ্যা এই মামলা শুরু করা হয়েছে।”

সাসপেন্ডেড বিধায়কের আরও দাবি, আমার মেয়ের শ্বশুরের ইটভাটা ছাড়া অনুষ্ঠান বাড়ি, জমি কেনা বেচার ব্যবসা-সহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে। কোটি টাকার রোজগার হয়। এমনকী আয়করও দেন। সেই সমস্ত নথিও রয়েছে। এরপরেও যেভাবে পুলিশ সম্মানহানি করেছে তার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.