Nadia

মৃত মায়ের চক্ষুদান নাকি চুরি! থানায় বিক্ষোভ সমাজকর্মীদের, কী বলছে পুলিশ?

রবিবার মৃত্যু হয় রাবেয়া বিবির। এরপরেই কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি জীবিত থাকতেই অঙ্গীকার করে যান চোখ ও অঙ্গদানের। সেই মতো রাবেয়া বিবির মৃত্যুর পর দুটি চোখ সংগ্রহ করে নিয়ে যান মরমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আর এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবেশীরা।

রমণী বিশ্বাস
রমণী বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১৮:৩৭

options
link
মৃত মায়ের চক্ষুদান নাকি চুরি! থানায় বিক্ষোভ সমাজকর্মীদের, কী বলছে পুলিশ?
ধৃত আমির চাঁদ। ফাইল ছবি।

আমির চাঁদ-সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কোতোয়ালি থানার সামনে বিক্ষোভ বিজ্ঞান কর্মী ও সমাজ কর্মীদের। মৃত মায়ের চক্ষু দান করে, কেন জেলে যেতে হল ছেলেকে? বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের এমন আচরণে আগামী দিন অঙ্গ পতঙ্গ দান করতে গিয়ে ভয় পাবেন মানুষ। বঞ্চিত হবে দৃষ্টিহীন ও অসহায় অসুস্থ মানুষগুলি। স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক অবক্ষয় ঘটতে চলেছে রাজ্যের। যদিও এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ প্রশাসনের দাবি, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে এখন গোটা ঘটনা বিচারাধীন রয়েছে।

Advertisement

রবিবার রাবেয়া বিবির মৃত্যুর পরেই শান্তিপুর মরমীর নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে দুটি চোখ সংগ্রহ করে সোমবার মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হসপিটালে জমা করা হয় তার কর্নিয়া। শুধু রাবেয়া বিবির নয়, ওই দিন এরকম আরও তিনজনের কাছ থেকে মৃত্যুর পর চোখ দান অঙ্গীকার করা মানুষদের কাছ থেকে চোখ সংগ্রহ করে মোট চারজনের চোখের কর্নিয়া জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এলাকার মানুষের দাবি রাবেয়া বিবির চক্ষু বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে শান্তিপুর মরমীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও অর্থের বিনিময়ে চক্ষু সংগ্রহ করা হয়নি। মরমীর পক্ষ থেকে তপন মজুমদার জানান, আমাদের সমস্ত বৈধ কাগজ রয়েছে। রাবেয়া বিবি মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হয়, খবর পেয়ে তারা চক্ষু সংগ্রহ করেন। 

Advertisement

যদিও এই বিষয়ে তোলপাড় হয়ে ওঠে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালী থানার সেনপুর এলাকায়। এই বিষয়ে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্ভব জৈন বলেন, ”স্থানীয়দের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। যদিও পুরো বিষয়টি কোর্ট বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।” অন্যদিকে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাপস চক্রবর্তী বলেন, ”আমাদের রাজ্যের পুলিশ এত তৎপর ন্যূনতম তদন্ত না করে পরিবারের পাঁচজনকে তুলে নিয়ে এসে জেলে পুড়ে দিল, এটা মানা যায় না। যেখানে নিয়ম মেনে যারা মরণোত্তর দেহ দান করে, সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেই দেহের একদম সরকারি নিয়ম মেনে কর্নিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে যায় একটি সংস্থা। সেখানে দাঁড়িয়ে কাদের নির্দেশে পরিবারের নির্দোষ পাঁচজনকে পুলিশ তুলে নিয়ে এসে জেলে ঢোকানো হল।”

Advertisement

বলে রাখা প্রয়োজন, রবিবার মৃত্যু হয় রাবেয়া বিবির। এরপরেই কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি জীবিত থাকতেই অঙ্গীকার করে যান চোখ ও অঙ্গদানের। সেই মতো রাবেয়া বিবির মৃত্যুর পর দুটি চোখ সংগ্রহ করে নিয়ে যান মরমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আর এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবেশীরা। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ হয় থানায়। এমনকি তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে শামিল হন প্রতিবেশীরা। এরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের পাঁচ সদসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন আদালত। এরপরেই সংগঠনের তরফে কোতোয়ালি থানায় বিক্ষোভ দেখানো হয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.