Purulia

মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ

শুক্রবার পশ্চিম সিংভূম জেলার পুলিশের কাছে স্ত্রী পিঙ্কি এবং আরেক সদস্য কদমনী কড়ারকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সালুকা।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০০:৩০

options
link
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
অসীম মন্ডল ওরফে আকাশের খোঁজে পুলিশ।

বঙ্গেই আত্মগোপন সিপিআই (মাওবাদী)-র একমাত্র জীবিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকাশের। ঝাড়খণ্ড পুলিশের জেরায় চাঞ্চল্যকর দাবি ধৃত মাও নেতা মদন মাহাতোর। কয়েকদিন আগেই বঙ্গ ব্রিগেডের তিন মাও নেতা-নেত্রীকে সরাইকেলা- খরসোওয়া জেলা পুলিশ জঙ্গল ঘেরা দুটি গ্রাম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক সহ গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মদন মাহাতো ওরফে শঙ্কর পুলিশি জেরায় জানিয়েছেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার উত্তর ফুলচকের বাসিন্দা তথা সিপিআই (মাওবাদী)র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ এই বাংলাতেই গা ঢাকা দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশ ওই মাও নেতার মাথার দাম রেখেছে ১ কোটি টাকা। ফলে তাকে পাকড়াও করতে এই রাজ্যের পুলিশের সাথে সমন্বয় শুরু করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

Advertisement

সম্প্রতি মদন, বীরেন ও মীরার গ্রেপ্তারের পরেই শুক্রবার পশ্চিম সিংভূম জেলার পুলিশের কাছে স্ত্রী পিঙ্কি এবং আরেক সদস্য কদমনী কড়ারকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সালুকা।

ধৃত মাও নেতার কথা অনুযায়ী ১৫ দিন আগে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে তিনি এই রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নতুন করে সংগঠন ঢেলে সাজাতে অস্ত্রের প্রয়োজন হয়েছিল। ২ বছর আগে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি এলাকা থেকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকায় সিপিআই (মাওবাদী)র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সব্যসাচী গোস্বামী ওরফে কিশোর ধরা পড়ে পুরুলিয়া পুলিশের হাতে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাংলা কমিটি গঠনের পর তারা অর্থের অভাবে নেপাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আনতে পারেনি বাংলায়। সেই কাজই অসম্পূর্ণ করতে কি বঙ্গে হাজির আকাশ? কারণ মদনের সঙ্গে ধৃত মাও নেতা সাগর সিং ওরফে বীরেনের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে অস্ত্র কেনার জন্যই বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলছিল তারা। সেই কারণেই তিনি গ্রেপ্তার হন। ফলে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

Advertisement

অন্যদিকে সারান্ডা থেকে আকাশের স্কোয়াডে কয়েকজনকে নিয়ে সম্প্রতি যোগ দেওয়ার কথা ছিল ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা পুলিশের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড মাও নেতা সালুকা কায়েম ওরফে ডাঙ্গিল ওরফে মারু ওরফে ভুবনেশ্বর-র। ওই দুই রাজ্যে যার মাথার দাম ছিল ৪২ লাখ টাকা। তবে সম্প্রতি মদন, বীরেন ও মীরার গ্রেপ্তারের পরেই শুক্রবার পশ্চিম সিংভূম জেলার পুলিশের কাছে স্ত্রী পিঙ্কি এবং আরেক সদস্য কদমনী কড়ারকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সালুকা। আর এই আত্মসমর্পণের পরেই সারান্ডা যেখানে সিপিআই (মাওবাদী)র শেষ পূর্বাঞ্চল মুখ্যালয় ছিল সেই এলাকা পুরোপুরি মাও মুক্ত বলে ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ। তবে বঙ্গ ব্রিগেডের আকাশ-সহ তার স্কোয়াডের এখনও অনেক সদস্য অধরা। তাদের পাকড়াও করতে ধৃত তিন মাও নেতা-নেত্রীকে ম্যারাথন জেরার পাশাপশি তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করেছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

Advertisement
সালুকা কায়েম।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের অনুমান, মদন-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য তথা পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার পটমদা থানার ঝুঁজকা গ্রামের বাসিন্দা শচিন মান্ডি ও তার দলবল কোনো গ্রামে আত্নগোপন করে থাকতে পারে। সেই কারণেই শুক্রবার রাত থেকে ঝুঁজকা, রাজাবাসা, মেঘাদহ, অপো এবং বাটালুকা গ্রামে এই রাজ্যের বাম আমলের মতোই গ্রামে কর্ডন এন্ড সার্চ অপারেশন শুরু করে যৌথ বাহিনী। পাহাড়ি জঙ্গল ঘেরা প্রতিটি গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। কয়েকদিন আগেই বাটালুকা গ্রামের বাসিন্দা যুধিষ্ঠির মাহাতোকে লিঙ্কম্যান সন্দেহে পটমদা থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারপর শনিবার ভোরে ওই গ্রামেরই লক্ষণ সরেন এবং তার দুই স্ত্রী সুমী ও ভারতীকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিরোধ করেন গ্রামবাসীরা। ভোর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যৌথ বাহিনীকে ঘিরে রাখা হয়।চাপে পড়ে অবশেষে যুধিষ্ঠির সহ লক্ষণ এবং তার স্ত্রীদের পুলিশ ছেড়ে দিলে ঘেরাও মুক্ত হয়। তবে শুধু ঝাড়খণ্ডেই নয়। ওই এলাকা ছুঁয়ে থাকা পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার আসনপানি, থরকাদহ, হেঁসেলঘুটু, খড়বন, সেঁকেবাসা, বুড়িঝোর, সিরকা প্রভৃতি গ্রানেও এই রাজ্যের পুলিশ ২৪ ঘণ্টা তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে। চলছে অপারেশন। পাশাপশি সমস্ত রাস্তায় চলছে নজরদারি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.