সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: পরিকল্পনা আর প্রত্যাশামতো রামনবমীর (Ram Navami) সকাল থেকে পথে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। সংঘের নির্দেশে বিজেপি নেতৃত্ব শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে। একদিকে নন্দীগ্রামে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ছাব্বিশের আগে নতুন করে হিন্দুত্বের জিগির তুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শক্তি প্রদর্শনে কয়েক কদম এগিয়ে মহিলারা নেতৃত্বও। হাতে তরোয়াল নিয়ে মিছিলে নামলেন অগ্নিমিত্রা পল। নিউটাউনে স্কুটি চড়ে রামনবমীর শোভাযাত্রায় শামিল হলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। সবমিলিয়ে রামনবমীতেই ছাব্বিশের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রচার শুরু হয়ে গেল।
বাংলায় রামমন্দিরের জিগির আগেই তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রামনবমী থেকে সেই কাজ শুরু হবে, তেমন কথাও শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। সেইমতো রবিবার, নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করলেন বিরোধী দলনেতা। যজ্ঞ করে তিনি বলেন, “রাম আস্থার প্রতীক। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের ভাগাভাগি করা যাবে না। এখানে এখন গেরুয়া স্রোত বইছে।” হুঁশিয়ারির সুরে তাঁর আরও মন্তব্য, ”রাত ১০টার মধ্যে বাংলা দখল হয়ে যাবে।” শনিবার রানাঘাট থেকেই শুভেন্দু হিন্দুদের একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এদিনও সেই মেরুকরণেই জোর দিলেন বিরোধী দলনেতা।

পরনে লাল-সাদা পাঞ্জাবি, একই রঙের ধুতিতে রামনবমীর সকালে বিষ্ণুপুরের রাস্তায় দেখা গেল বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে। শুধু মিছিলে হাঁটা নয়, নেতৃত্ব দিয়ে তিনি লাঠিখেলাও দেখালেন। কসরৎ করলেন বেশ খানিকটা। লাঠি খেলার পর তাঁর বার্তা, ”হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দু সনাতনী মহিলাদের রক্ষার জন্য লাঠি ধরতে হবে হাতে। অন্যদের মতো আমি তো অস্ত্র ধরতে বলতে পারি না।” মন্দির শহর বিষ্ণুপুরকে ঘিরে এবার রামনবমীতে নতুন করে হিন্দুত্বের প্রদর্শনী হয়ে গেল।

অন্যদিকে, অস্ত্র হাতে শক্তি প্রদর্শনে পিছিয়ে রইলেন না বিজেপির মহিলা নেতৃত্বও। আসানসোলে রামনবমীর মঞ্চে তরোয়াল হাতে দেখা গেল বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে। তলোয়ার উঁচিয়ে স্লোগান দিলেন ‘জয় শ্রীরাম’। রাধানগর রোড যুব সমিতির ক্লাবে পাগড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন, ”এরাজ্যে হিন্দুরা সংকটে। রামনবমীর মিছিল বা আখড়ার অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। তবে বাধা সত্ত্বেও আজ রাজ্যে ২ কোটি সনাতনী হিন্দু রাস্তায় থাকবে।”

নিউটাউনের মিছিলে স্কুটিতে চড়ে নেতৃত্ব দিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। রামনবমীতে ফের সক্রিয় রূপে দেখা গেল হুগলির প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে। চব্বিশের নির্বাচনে হারের পর থেকে দলের কাজেও সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না লকেটকে। মাঝেমধ্যে একাধিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিলেও রামনবমীতে দারুণ সক্রিয় হতে দেখা গেল। সবমিলিয়ে, রামনবমী ঘিরে গেরুয়া শিবির নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অক্সিজেন খুঁজল, তা বলাই যায়।
সর্বশেষ খবর
-
স্বাধীনতা দিবস স্পেশাল ডিপিতে দেশাত্মবোধের ছোঁয়া চাই? এআইকে এই ৫ প্রম্পট দিলেই কেল্লাফতে!
-
৯ ঘণ্টা লোডশেডিং, রাত ৮টায় বন্ধ দোকান-বাজার, আলোর খোঁজে ভারতের দ্বারস্থ অন্ধকার বাংলাদেশ!
-
‘যন্তর মন্তরে শাবানাজির মতো জেন জি’রা ছিলেন!’ ‘নর্দমার প্রজন্ম’র পর ফের বিস্ফোরক কঙ্গনা
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জাহাজের ধাক্কায় নূরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত শুরু
-
মেসি পেরেছে, রোহিত-বিরাট কেন নয়? বিশ্বকাপের আগে গম্ভীরকে ‘চ্যালেঞ্জ’ বিজেপি সাংসদের