কথায় বলে, বন্দুকের গুলি আর মুখের বুলি একবার বেরিযে গেলে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বলিউডের ক্যুইন কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। নিট কেলেঙ্কারিতে আন্দোলনরত জেন জিকে ‘নর্দমার প্রজন্ম’ কটাক্ষ করে বিপাকে কঙ্গনা। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আগ্রার বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালতে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাজীব গান্ধী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা আইনজীবী রমাকান্ত শর্মা। এরপর ভিডিওবার্তায় সেই ‘বিষাক্ত বুলিবচন’-এর সাফাই দিয়েছেন। সেখানে আবার প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমিকে একহাত নিলেন মাণ্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাউত।
৭৫ বছর বয়সী একজন মহিলা কীভাবে জেন জি আন্দোলনের অংশ হতে পারেন সেই প্রশ্ন তুলেছেন। ‘ক্যুইন’-এর মতে, নির্দিষ্ট তরুণ মহিলা যাঁরা দায়িত্বহীনভাবে সংগ্রাম করেছেন তাঁদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলেছেন। প্রসঙ্গত, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করা হাজার হাজার প্রতিবাদকারীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন প্রবীণ বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে তাঁকে একটি ট্রাকে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে যেতে এবং ব্যারিকেড টপকাতেও দেখা যায়। অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গেও ট্রাকে থাকা একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করে কঙ্গনা বলেন, “পুরো দেশের যুবসমাজ? আপনি যদি শুধু জেন জি-র কথা বলেন, তাহলে তাঁদের জনসংখ্যা প্রায় ৩০-৩৫ কোটি হতে চলেছে। যন্তর মন্তরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন শাবানা আজমির মতো মানুষ। সেখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দেখা গিয়েছিল। আমরা যদি নির্দিষ্টভাবে যুবসমাজ বা জেন জি-র কথা বলি, তাহলে সেখানে প্রায় ২ হাজার জেন জি ছিল। তাহলে কীভাবে এটিকে জেন জি-র প্রতিবাদ বলা হচ্ছে? গোটা দেশের জেন জি প্রতিবাদ করছে এমনটা কীভাবে বলা যায়?”
অভিনেত্রীর সংযোজন, “ওখানে যে ভিড়টা হয়েছিল, আমি শুধুমাত্র সেই ভিড়ের কথাই বলেছিলাম। ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ছি, আমার এমন কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য দেখান যেখানে আমি গোটা প্রজন্মকে বোঝাতে চেয়েছি। আমার সঙ্গে অযথা রাজনৈতিক মতোবিরোধের জড়াবেন না। আমি কখনও যুবসমাজের বিরোধী নই। কারণ আমিও নিজে একজন তরুণ।”

উল্লেখ্য, জাভেদ আখতারের সঙ্গে কঙ্গনার দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি জটিলতা চলেছে। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন বিশিষ্ট গীতিকার। পঁচিশ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়াতেই কোর্ট চত্বরে হাসিমুখে একফ্রেমে ধরা দিয়েছিলেন জাভেদ-কঙ্গনা। একে-অপরের প্রশংসাতেও একেবারে পঞ্চমুখ।

‘নর্দমার প্রজন্ম’ মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর বুধবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে কঙ্গনা বলেন, “যন্তর মন্তরের প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে কোনও সামগ্রিক মন্তব্য করিনি। মুষ্টিমেয় কিছু কিছু মানুষ বা কিছু মহিলার কথা বলেছিলাম।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘একা হয়ে পড়েছিলাম’, ইডি তলব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কেঁদে ভাসালেন নোরা
-
হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল, নেপালে একতা চাইছেন ‘ভারতবিদ্বেষী’ বলেন্দ্র! নয়াদিল্লির পাঠানো ত্রাণ নেবেন?
-
যজ্ঞেই শয়তান তাড়ানোর কথা বলে ‘শ্লীলতাহানি’, গয়না নিয়ে উধাও সঙ্গিনী-সহ তান্ত্রিক
-
হড়পা বানে আটকে কৈলাসযাত্রী শিষ্যরা, বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজে নামতে চান সদগুরু!
-
রাজ্যে উড়ল প্যালেস্তাইনের পতাকা! ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে আপস নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর