Bengal STF

স্ত্রী-কন্যা ফেলে ভিনরাজ্যে কাজে রশিদুল-সফিকুল, কীভাবে পাক গুপ্তচর! ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা

পাক চর সন্দেহে উত্তরবঙ্গে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে সফিকুল ইসলামকে। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার রশিদুল হক ও নাসিরুদ্দিন আলি।

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো
সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১৬:৪১

options
link
স্ত্রী-কন্যা ফেলে ভিনরাজ্যে কাজে রশিদুল-সফিকুল, কীভাবে পাক গুপ্তচর! ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা
ধৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে ধৃতদের। নিজস্ব চিত্র

পাক চর সন্দেহে উত্তরবঙ্গে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে সফিকুল ইসলামকে। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার রশিদুল হক ও নাসিরুদ্দিন আলি। জেলা পুলিশের সঙ্গে বেঙ্গল এসটিএফ অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কীভাবে তারা পাক গুপ্তচর হল? ঘটনা জানাজানি হতেই প্রতিবেশীরা হতবাক। তারা জঙ্গি, ভাবতেই পারছেন না পরিবারের লোকজন।

Advertisement

উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরের পাঞ্জীপাড়া ফাঁড়ির পোখারিয়া পঞ্চায়েতের দেওনা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি সফিকুলের। স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়ে ও শাশুড়ি ওই গ্রামের বাড়িতে থাকে। গতকাল, শুক্রবার রাতে কোচবিহার জেলা পুলিশ, এসটিএফের আধিকারিকরা হানা দেন ওই বাড়িতে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পাকড়াও করা হয় সফিকুলকে। স্ত্রীকেও প্রাথমিক জেরা করা হয়। এরপরেই সফিকুলকে ওই বাড়ি থেকে তদন্তকারীরা নিয়ে যান।

Advertisement

কিন্তু কী কাজ করত সফিকুল? সেই বিষয়ে কোনও কিছুই বলতে পারেননি স্ত্রী-শাশুড়ি। জানা গিয়েছে, বিহারের কিষানগঞ্জে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকত সফিকুল। তবে সেখান থেকে পালিয়ে গোয়ালপোখরে শ্বশুরবাড়িতে লুকিয়েছিল সে। পড়শিদের থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিয়ে হয়েছিল তাদের। কিন্তু সফিকুল সম্পর্কে আর বিশেষ কিছুই জানত না স্থানীয়রা। ইসলামপুর পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন,”শুক্রবার রাতেই ধৃতকে নিয়ে যাওয়া হয়।”

Advertisement

অন্যদিকে, কোচবিহারের সীমান্ত এলাকায় বাড়ি রশিদুলের। বাড়িতে মা-বাবা স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। রশিদুলের স্ত্রী নুরবানু খাতুনের দাবি, স্বামী দীর্ঘদিন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ব্যাঙ্গালোরে কাজ করত। বছর খানেক আগে সে বাড়ি ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার কুর্শাহাট বাজারে বাইক ঠিক করাতে গিয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। শুক্রবার গভীর রাতে কিছু পুলিশ কর্মী বাড়িতে এসেছিল। বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশি অভিযানে বাড়ি থেকে পাঁচটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি কিপ্যাড মোবাইল। রশিদুলের পরিবারের দাবি, তার ছেলে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত থাকতে পারে না।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক চর সন্দেহে সাতজনের নাম উঠে আসছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি চারজনের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। ধৃতরা ভারতীয় মোবাইলের সিমকার্ড বাংলাদেশের মাধ্যমে পাচার করত! সেই সিমকার্ড বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চলে যেত বলে অভিযোগ। জালনোট ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ ধৃতদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এদিন ধৃত ৩ জনকে দিনহাটা আদালতে তোলা হয়েছিল। ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.