Domkal

খোয়া গিয়েছে ব্যাঙ্কের পাশবই, থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতেই মার খেলেন গবেষক!

ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে খবর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৫, ১৮:২২

options
link
খোয়া গিয়েছে ব্যাঙ্কের পাশবই, থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতেই মার খেলেন গবেষক!
আক্রান্ত গবেষক

অতুলচন্দ্র নাগ, ডোমকল: থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তন ছাত্র ডক্টর ইমন কল্যাণ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ডোমকলের। অভিযোগ, ইমন কল্যাণ তাঁর ব্যাঙ্কের পাশবুক হারানোর জন্য সোমবার বিকেলে ডোমকল থানায় ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ না নিয়ে তাঁকে থানাতেই বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনই অভিযোগ তাঁর।

Advertisement

ওই গবেষকের অভিযোগ, কর্তব্যরত অফিসার তাঁর অভিযোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প মেরে আনতে বলেন। ইমন কল্যাণ জানান, তাঁর ব্যাঙ্কের ওই শাখা খড়্গপুরে। কারণ, পড়াশোনার সময় সেখানে ওই অ্যাকাউন্ট করা হয়েছিল। তখন ওই অফিসার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। কেন অভিযোগ নেওয়া হবে না? তাই নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও শুরু হয়।

Advertisement

সেসময় থানার এসআই উজ্জ্বল বিশ্বাস সেখানে যান। তিনি ওই কাগজপত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে গবেষককে যেতে বলেন। থানারই একটি ঘরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দরজা বন্ধ করে বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত গবেষক নিজের শিক্ষকতা যোগ্যতা ও পেশার কথাও বলেন ওই এসআইয়ের কাছে। কিন্তু তিনি ক্ষান্ত হননি। প্রবল মারধরে তিনি কাহিল হয়ে যান। পরে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর হাত-পা ও শরীরের একাধিক জায়গায় চাপচাপ দাগ দেখা গিয়েছে। ঘটনার পরে তিনি পুলিশের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, “ডোমকল থানার ব্যাপারে একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

Advertisement

এদিকে ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে ডোমকল জুড়ে। ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। অন্য অনেক জায়গায় এই ধরনের ঘটনা শুনে ভাবতাম পুলিশ এমন করতে পারে না। কিন্তু খোদ ডোমকলেই এমন ঘটনা? লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। নিশ্চয় ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনায় উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলব পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।” অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থার জেলা সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, “একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ওই শিক্ষক মানসিক শান্তি পায়।” ডোমকল ব্লক কংগ্রেস সভাপতি তহিদুল ইসলাম বলেন, “পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও ডোমকলের পুলিশ যেভাবে ওই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তাতে ওই অফিসারদের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করছি।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.