মধুচক্র

তৃণমূলে নেতার ঘরেই রমরমিয়ে মধুচক্রের আসর, আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশের জালে ৩

ধৃতদের মধ্যে এক সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ২১:০৮

options
link
তৃণমূলে নেতার ঘরেই রমরমিয়ে মধুচক্রের আসর, আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশের জালে ৩
ছবিটি প্রতীকী

রাজা দাস, বালুরঘাট: তৃণমূলের উপপ্রধানের ফাঁকা ঘরে মধুচক্রের আসর। ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে এক সিভিক ভলান্টিয়ার ও এক তৃণমূল নেতা-সহ এক মহিলা। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আরও দুইজন। কুশমণ্ডি থানার খাগড়াকুড়ি এলাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ধৃতদের বুধবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

Advertisement

অভিযোগ, কুশমণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান প্রকাশ ঝার ফাঁকা বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে চলত মধুচক্রের আসর। মঙ্গলবার রাতেও বেশ কয়েকজন যুবক এক মহিলাকে নিয়ে খাগড়াকুড়ির উপপ্রধানের ঘরে আসে। মদ মাংস খাওয়া চলছিল। পাশাপাশি ওই যুবতিকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়। কিন্তু ওই যুবকদের হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। দু’জন পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে যায় যুবতি-সহ ৩ জন। ধৃতদের নাম মহম্মদ আজিজ ওরফে বাচ্চু (২৬) এবং রবিউল ইসলাম (২৮)। বাচ্চু জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি অম্বরীশ সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী৷ আবার রবিউল পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। গ্রামবাসীরা রাতেই মহম্মদ আজিজ, রবিউল ইসলাম-সহ ওই মহিলাকে কুশমণ্ডি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে বাড়ির মালিক তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রকাশ ঝা বাইরে থাকায় তার কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

Advertisement

[ আরও পড়ুন: হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে কাউন্সিলরদের ক্ষোভের মুখে মমতাজ সংঘমিতা ]

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক সরকার জানান, ওই ঘরটিতে অনেকদিন ধরেই মধুচক্রের চলত। এর আগেও বেশ কয়েকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে কাজকর্ম অব্যাহত রাখছিল ওই যুবকরা। রোজ রাতেই ওই ঘরে বসত মদের আসর। বাইরে থেকে ছেলেমেয়ে আসত। মঙ্গলবারও কয়েকজন মোটর বাইক করে আসে। সঙ্গে ছিল একটি মেয়ে। এরপরই তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন অম্বরীশের ঘনিষ্ঠ। ঘটনা প্রসঙ্গে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি অম্বরীশ সরকার বলেন, “উপপ্রধানের বাড়িতে কি হয় আমি জানি না। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম বিষয়টি। তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কোনও অসামাজিক কাজকর্ম আমরা বরদাস্ত করব না। আইন আইনের পথে চলবে। থানা এবং প্রশাসনকে বলেছি উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে।”

অন্যদিকে কুশমণ্ডি থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা বলেন, “এলাকার একটি ঘরে দেহব্যবসা চলছে এমন খবর আমরা পেয়েছিলাম। অভিযান চালিয়ে দু’জন পুরুষ-সহ এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।”

[ আরও পড়ুন: কৃতীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক বদলি নিয়ে স্মারকলিপি জেনকিনসের পড়ুয়াদের ]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.