SIR in West Bengal

মর্জিমাফিক! বাড়িতে নয়, কোমরে রড বসানো প্রবীণাকে শুনানিকেন্দ্রে যেতে বললেন BLO

দিশেহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ২০:৩০

options
link
মর্জিমাফিক! বাড়িতে নয়, কোমরে রড বসানো প্রবীণাকে শুনানিকেন্দ্রে যেতে বললেন BLO

অর্ণব দাস, বারাকপুর: বিএলও-র মর্জিমাফিক হচ্ছে শুনানির কাজ! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে অসুস্থ, বৃদ্ধ নাগরিকদের বাড়ি গিয়ে শুনানিতে নারাজ বিএলও। বরং তিনি চাইছেন, সদ্য অস্ত্রোপচারে কোমরে রড বসানো অবস্থায় বৃদ্ধাই নির্দিষ্ট শুনানিকেন্দ্রে আসুন। এমনই অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার ৩৩ নং ওয়ার্ডের বিএলও অমিত সাহার বিরুদ্ধে। তাঁর এই ভূমিকায় যথারীতি তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমস্ত ঘটনা শুনে বৃদ্ধার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর প্রদীপ বড়ুয়া।

Advertisement

পানিহাটি পৌরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সোদপুর কাঠগোলা এলাকায় চারতলা আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে এক ছেলেকে নিয়ে থাকেন ৭৯ বছরের অলকা মিত্র। তাঁর আরেক ছেলে ভর্তি নেশামুক্তি কেন্দ্রে। ২০২১ সালে অলকা দেবীর কোমরে অস্ত্রোপচার হয়, তাঁর কোমরে বসানো হয় রড। ঠিকমত হাঁটাচলা করতে পারেন না অলকাদেবী। এমতাবস্থায় এসআইআরে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয় তাঁকে। নোটিসে বলা হয়, সমস্ত নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে তাঁকে যেতে হবে। অলকাদেবীর আবাসনে কোনও লিফট নেই। চারতলা থেকে তাঁকে নামিয়ে শুনানিকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেসব জানিয়ে অলকাদেবীর ছেলে সব্যসাচী মিত্র স্থানীয় বিএলও অমিত সাহার কাছে আবেদন করেন। সব্যসাচীবাবু অনুরোধ করেন, তাঁর মা অসুস্থ, তাই তাঁদের আবাসনে গিয়ে সমস্ত নথি দেখে শুনানি করা হোক।

Advertisement

কিন্তু অভিযোগ, বিএলও অমিত সাহা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে শুনানিকেন্দ্রেই অলকাদেবীকে নিয়ে আসতে হবে। আর এই ঘটনায় যথেষ্ট অসহায় এই মিত্র পরিবার। বিএলও-র এহেন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। একজন অসুস্থ, বয়স্ক ভোটারকে এভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ পেয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলার প্রদীপ বড়ুয়া। তিনি জানিয়েছেন, ”আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যে বয়স্ক মানুষজনকে যেন অযথা শুনানিতে ডেকে হেনস্তা না করা হয়। ওঁর (অলকা মিত্র)ছেলে তো দিশেহারা। কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। আমরাও কী বলব, জানি না। আমি নিজে AERO-র সঙ্গে কথা বলেছি।তিনি বলছেন, শুনানিকেন্দ্রেই আসতে হবে, অন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। না আসতে পারলে দ্বিতীয়বার শুনানির নোটিস পাঠানো হবে। আসলে এসব হচ্ছে দেশের বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.