সুপার সাইক্লোন আমফান

বুধবারই আছড়ে পড়বে আমফান, আতঙ্কে থরহরিকম্প বাংলা-ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চল

১৯৯৯ সালের পর এত শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন এই প্রথম, বলছেন আবহবিদরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২০, ১১:৩৩

options
link
বুধবারই আছড়ে পড়বে আমফান, আতঙ্কে থরহরিকম্প বাংলা-ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চল

নব্যেন্দু হাজরা: ১৯৯৯’এর স্মৃতি উসকে দিয়ে দুই বাংলার দিয়ে ধেয়ে আসছে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান। এই সুপার সাইক্লোনটি আগামী ৬ ঘণ্টায় চরম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। আপাতত মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে আমফান। আজ দিনভর শক্তি সংগ্রহ করে বুধবার বিকেলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়ার মাঝ বরাবর আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। এ রাজ্যের মোট ৭ জেলায় প্রভাব পড়তা পারে আমফানের। মনে করা হচ্ছে, ১৯৯৯এর পর বঙ্গোপসাগরের উপর এত শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন আগে হয়নি। তাই উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আপাতত দিঘা থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দূরে আমফানের অবস্থান। এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে তা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর হচ্ছে। দিঘা, হাতিয়ায় আছড়ে পড়ার সময়ে এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯৫ কিলোমিটার হতে পারে। যে সাত জেলায় আমফান ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, তা হল – কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলিতে চরম সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। আজ বিকেল থেকেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে মূলত উপকূলের জেলা অর্থাৎ পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বাকি চার জেলায় সন্ধের পর আবহাওয়া বদলের সম্ভানা। আজ ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ৬০-৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। বুধবার সকাল থেকে ১০০ কিলোমিটার ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে এবং তা বেড়ে উপকূলের জেলাগুলিতে বিকেল বা সন্ধ্যের দিকে ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্তও হতে পারে ঝড়ের গতিবেগ। কলকাতায় ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার হতে পারে।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ওড়িশা থেকে কষ্ট করে ঘরে ফেরাই সার, বাড়ির পরিবর্তে আমবাগানে ঠাঁই পরিযায়ী শ্রমিকদের]

আমফানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন। এ রাজ্য দিঘা উপকূলবর্তী অঞ্চলের নিচু জায়গা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা মিলে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই হলদিয়া বন্দরে জাহাজ প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। প্রচুর কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। এছাড়া আবহবিদরা জানাচ্ছেন, অমাবস্যার সময়ে এই ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় সমুদ্র প্রবল উত্তাল হয়ে উঠবে এবং উপকূল অঞ্চলে ঝড়ের চেয়ে জলোচ্ছ্বাসই বেশি ক্ষতি করতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ১৩টি এবং ওড়িশায় ১৭ টি NDRF দল পাঠানো হয়েছে।

[আরও পড়ুন: বাংলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে ঘূর্ণিঝড় আমফান, মোকাবিলায় প্রস্তুত রাজ্য সরকার]

১৯৯৯ সালে ওড়িশার পারাদ্বীপ তছনছ করে দিয়েছিল শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন। আমফানও তেমনই শক্তিশালী হতে চলেছে বলে আশঙ্কা আবহবিদদের। আবার সুন্দরবন এলাকা কাঁপছে আয়লার আতঙ্কে। বুধবারের পর সাইক্লোনের শক্তি কমলেও, বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। মূলত ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গ জুড়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন