Taslima Nasrin

‘মুসলিম মৌলবাদীরা কবর দিতে দেয়নি’, নারীশিক্ষার পথিকৃৎ সেই বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধা তসলিমার

মঙ্গলবার পানিহাটিতে বেগম রোকেয়ার মূর্তিতে মাল্যদান করে ফের হাসিনাকে নিয়ে বার্তা দিলেন লেখিকা।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১৭:০৫

options
link
‘মুসলিম মৌলবাদীরা কবর দিতে দেয়নি’, নারীশিক্ষার পথিকৃৎ সেই বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধা তসলিমার
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট পানিহাটিতে তসলিমা নাসরিন, শ্রদ্ধা জানালেন বেগম রোকেয়াকে, নিজস্ব ছবি

দু’দশক নির্বাসনের পর প্রিয় শহরে এসেছেন বিশ্বখ্যাত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। গত সপ্তাহে কলকাতায় অনুষ্ঠানের পর মঙ্গলবার তিনি চলে গেলেন পানিহাটিতে। বেগম রোকেয়ার সমাধির সামনে দাঁড়িয়েই নিজের লড়াইয়ের সঙ্গে জুড়ে দিলেন এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া নারীমুক্তির সংগ্রামকে। তসলিমা নাসরিন স্পষ্ট ভাষায় বললেন, তাঁর এই সফর শুধু এক অগ্রজ নারীবাদী লেখিকাকে সম্মান জানানো নয়, মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও। পানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই সমাধি ও মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানালেন তসলিমা। বুঝিয়ে দিলেন, মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানো রোকেয়া আজও কতখানি প্রাসঙ্গিক। সেইসঙ্গে এদিনও শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে বার্তাও দিলেন ‘দ্বিখণ্ডিত’ লেখিকা।

Advertisement

মঙ্গলবার পানিহাটিতে বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধার জানাতে গিয়ে তসলিমা জানান, ‘‘১৯৩২ সালে রোকেয়ার মৃত্যুর পর কলকাতার মৌলবাদী মুসলিমরা তাঁকে সমাধির জন্য জায়গা দেয়নি। রাতের অন্ধকারে এখানে এনে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। উনি নারীশিক্ষা ও প্রগতিশীলতার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছেন, লেখিকাও ছিলেন। সেদিক থেকে আমার অগ্রজ। আমি একজন লেখিকা হয়ে তাঁকে আজ শ্রদ্ধা জানালাম।”

৪ আগস্ট, মঙ্গলবার পানিহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে সময় কাটালেন তসলিমা, নিজস্ব ছবি

আজীবন নারীশিক্ষা ও প্রগতির জন্য বেগম রোকেয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম চিরস্মরণীয়। তাঁর নামে কলকাতায় বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল আছে। আধুনিকতার আলো দেখিয়ে সমসময়ে তিনি মৌলবাদীদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। ১৯৩২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। কলকাতার কোথাও রোকেয়াকে সমাধিস্থ করা যায়নি। সোদপুরের পানিহাটিতে তাঁকে শেষপর্যন্ত কবর দেওয়া হয়। পরে সেই স্মৃতিসৌধকে ঘিরে তৈরি হয় পানিহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। মঙ্গলবার সেখানে বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধার জানাতে গিয়ে তসলিমা জানান, ‘‘১৯৩২ সালে রোকেয়ার মৃত্যুর পর কলকাতার মৌলবাদী মুসলিমরা তাঁকে সমাধির জন্য জায়গা দেয়নি। রাতের অন্ধকারে এখানে এনে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। উনি নারীশিক্ষা ও প্রগতিশীলতার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছেন, লেখিকাও ছিলেন। সেদিক থেকে আমার অগ্রজ। আমি একজন লেখিকা হয়ে তাঁকে আজ শ্রদ্ধা জানালাম।” 

Advertisement

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের শেখ হাসিনাকে নিয়ে বার্তা দিলেন তসলিমা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি মনে করি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। চাই, উনি দেশে ফিরে আবার রাজনীতি করার সুযোগ পান। ওঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা অন্যায়। তবে হ্যাঁ, ধর্মীয় রাজনীতির আমি বরাবরের বিরোধী। ওটা করলে দেশ সামনে এগোয় না। নারীরা এগোতে পারে না তাই জামাত-ই-ইসলামির মতো দল নিষিদ্ধ হলে কোনও আপত্তি নেই।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.