পেনশনের টাকায় দুঃস্থ-মেধাবী পড়ুয়াদের ‘ভালবাসা’ ছড়াচ্ছেন কিষেণ জেঠু

তাঁর গোটা পরিবারও আজ এই মহৎ কর্মযজ্ঞে শামিল৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৮, ২০:৪১

options
link
পেনশনের টাকায় দুঃস্থ-মেধাবী পড়ুয়াদের ‘ভালবাসা’ ছড়াচ্ছেন কিষেণ জেঠু

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: টানা সাত বছর ধরে পেনশনের টাকা দিয়ে দুঃস্থ অসহায় মেধাবী ছাত্রদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চন্দননগরের কিষেণলাল সেনগুপ্ত। সমাজের আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এই মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাছে কিষেণলালবাবু প্রিয় কিষেণ জেঠু বলেই পরিচিত। প্রত্যেক বছরই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের দুঃস্থ কৃতী মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কিষেণবাবু। তাঁর গোটা পরিবারও আজ তাঁর এই মহৎ কর্মযজ্ঞে শামিল৷ তাঁদের দেখে চন্দননগরের বেশ কিছু মানুষও এগিয়ে এসেছেন এই পরিবারের সদস্য হওয়ার জন্য। সকলের মিলিত ভালবাসায় তাঁদের আজকের এই পরিবারের নাম ‘ভালবাসা’।

Advertisement

[স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৩২ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের মারধর]

রবিবার চন্দননগরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে আর্থিক দিক থেকে দুঃস্থ পরিবারের ২৩ জন কৃতী ছাত্রছাত্রীর হাতে ‘ভালবাসা’র পক্ষ থেকে স্কলারশিপ ও সমস্ত পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। এইসব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে অথচ তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা নেই। এদিন শুধু ছাত্রছাত্রীদেরই নয়, তাদের মায়েদের সম্বর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[জঙ্গল থেকে দল বেঁধে গ্রামে ঢুকছে দলমার হাতি, আতঙ্কে স্থানীয়রা]

Advertisement

কিষেণবাবু ছোট থেকেই বাবা মাকে মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবা করতে দেখেছেন। ব্যাংকের একজন পদস্থ অফিসার হিসেবে অবসরের পর বাবা-মায়ের মতো মানুষের পাশে থেকে কাজ করার মধুর স্মৃতি অনুপ্রাণিত করে। তিনি অবসরের পরের বছর থেকেই দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রদের খুঁজে বেড়াতে থাকেন, যাঁদের সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি৷ খুঁজে খুঁজে ২০১১-য় দু’জন ছাত্রছাত্রীকে দিয়ে তাঁর ‘ভালবাসা’-র যাত্রা শুরু। তারপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি৷ বর্তমানে এই ‘ভালবাসা’র ভালবাসায় আগামী ডিসেম্বরে একজন ডাক্তার হতে চলেছেন। সেও জানিয়েছে আগামিদিনে সেও এই পরিবারের সদস্য হতে চায়। চন্দননগরে এক ডাকে সকলে তাঁকে কিষেণ জেঠু বলে চেনে। কোনও ছাত্র বা ছাত্রীর পড়াশোনায় সমস্যা হলে প্রথমেই মনে আসে তাঁর কথা। কেউ তাঁর কাছে গেলে খালি হাতে ফেরত আসে না। কিষেণবাবু বলেন, খবরের কাগজে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের খবর পড়ে দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র খুঁজতে গিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু ছাত্রী খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমান সমাজ এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রীদের ফোন করলে তারা কথা বলতে চায় না। বারবার ফোন করলে মনে করে এই লোকটা বাজে লোক, জ্বালাতন করছে। বহু যোগাযোগের পর সেইসব ছাত্রীদের মনে তিনি জায়গা করে নিতে পেরেছেন। আজকে সেই সকল ছাত্রীরা কিষেণবাবুকে বাবার আসনে বসিয়েছে। কিষেণবাবু বলেন, ‘‘সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য এদের পাশে দাঁড়াতে হবে, সকলকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। এক কথায় মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছে নিয়ে যদি কেউ এগিয়ে আসে তবে দেখা যাবে আপনার চলার পথে আপনার অনেক সাথী পেয়ে যাবেন।’’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন