মা লক্ষ্মীই ‘পাহারাদার’, সিঁধেল চোরে ভয় নেই কুলটির নবপল্লির

কীভাবে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন লক্ষ্মীদেবী?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৭, ০৬:৫১

options
link
মা লক্ষ্মীই ‘পাহারাদার’, সিঁধেল চোরে ভয় নেই কুলটির নবপল্লির

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: চোরের উপদ্রব ঠেকাতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেছিলেন গ্রামবাসীরা। সেই পুজোর পরম্পরা এখনও অব্যাহত। বরং জাঁকজমক আর বাহুল্যতায় কুলটির নবপল্লির সেই পুজো এখন রূপ পেয়েছে সর্বজনীনের। ১৬ বছর আগে কুলটির ওই এলাকায় লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করার উদ্দেশ্য ছিল একত্রিত হয়ে চোরের উপদ্রব ঠেকানো। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য মা লক্ষ্মীর কৃপা পড়েছে তাঁদের জনপদে। নবপল্লিতে অনেকটাই এড়ানো গিয়েছে রাতবিরেতে চোরের হানাদারি।

Advertisement

[কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: দেবীকে সন্তুষ্ট করতে ভুলেও এই ৩ কাজ করবেন না]

Advertisement

২০০১ সালে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা মিঠানি গ্রামের বাইরের দিকে নতুন বসতবাড়ি তৈরি করেন। তার আগে থেকেই অবশ্য চার-পাঁচটি পরিবার বাড়ি তৈরি করে থাকতে শুরু করেছিলেন। তখন প্রায়ই ছিঁচকে চোর বা সিঁধেল চোরের উপদ্রব হত। এমনকী ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছিল। পরবর্তীতে ওই এলাকায় আরও বেশকিছু পরিবার বাইরে থেকে এসে নতুন বসতবাড়ি তৈরি করে থাকতে শুরু করেন। বসতবাড়ি সংখ্যা বাড়লেও একে অপরের অচেনা থাকায় সেই যোগাযোগটা ছিল না। ২০০০ সাল থেকে ওই এলাকায় হঠাৎই গৃহস্থ বাড়িতে চুরির ঘটনা বাড়তে থাকে। চোরের উপদ্রব ঠেকাতে কুলটি থানা পরামর্শ দেয় পাড়ায় পাড়ায় রাত পাহারা বা আরজি পার্টি তৈরি করার। অন্য সব পাড়াতে আরজি পার্টি তৈরি হলেও পাহারাদারের অভাবে নবপল্লিতে সমস্যা তৈরি হয়। দুর্গাপুজোর আগে থেকে রাত পাহারা শুরু হয় গ্রাম জুড়ে। তবুও বিপদ যায় না। তারপর পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা বিজয় মুখোপাধ্যায়, আবগানি চট্টরাজ, বিল্টু খাঁরা উদ্যোগ নেন লক্ষ্মী পুজো আয়োজনের। ঠিক হয় পুজোর পাশাপাশি একসঙ্গে খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করা হবে। উদ্দেশ্য সবাইকে একত্রিত করে তোলা। পুজোর আয়োজনের মাধ্যমে নতুন পুরাতন বাসিন্দাদের মিলনমেলা তৈরি হয় নবপল্লিতে।

Advertisement

[লালন নাম সার্থক, কালীমন্দির গড়তে এগিয়ে এলেন মুসলিম প্রতিনিধি]

পুজোর উদ্যোক্তা কৌশিক চট্টরাজ জানান, চোরের উপদ্রব ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নিষ্ঠাভরে তিন প্রহরে যজ্ঞের মাধ্যমে মা লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। কৌশিকের দাবি পুজো শুরুর পর থেকে বড় কোনও অঘটন আর ঘটেনি নবপল্লিতে। স্থানীয় বাসিন্দা মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, মা লক্ষ্মী খুবই জাগ্রত। মানত করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। প্রথম বছর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতিমা তাঁদের কিনতে হয়নি। প্রতি বছর লক্ষ্মী প্রতিমা কেউ মানত করেন কিংবা কেউ দিয়ে যান। পাড়ার বধূ গোপা মুখোপাধ্যায় জানান, নবপল্লিতে দুটি স্কুল তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু দোকান রয়েছে। আসানসোল বা বার্ণপুর থেকে বাইরে লোকজন নতুন করে বাড়ি তৈরি করেছেন। বেশিরভাগই অপরিচিত। কিন্তু বছরে একটি দিন তাঁরা মিলিত হন সবার সঙ্গে। ফলে রাত-বিরেতে বিপদ হোক বা অন্যকিছু প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এক ডাকে। সবার সঙ্গে সংযোগ করে দিয়েছেন মা লক্ষ্মীই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.