আরামবাগে তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুন, দিনহাটায় আক্রান্ত শাসকদলের কর্মী

কোচবিহারের একাধিক জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২১, ১৭:০৯

options
link
আরামবাগে তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুন, দিনহাটায় আক্রান্ত শাসকদলের কর্মী

সুব্রত যশ ও বিক্রম রায়: রাজ্যের তিনটি আলাদা আলাদা জায়গায় আক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। রবিবার রাতে হুগলির আরামবাগে পিটিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল নেতা শেখ মোক্তারকে। অন্যদিকে গতকাল রাতেই দিনহাটায় বিধায়ক উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। রবিবার রাতেই তৃণমূল তুফানগঞ্জ মহকুমা ছাত্র-যুব কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।   

Advertisement

রবিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি ও সেচ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শেখ মোক্তারের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর বাড়ি হুগলির আরামবাগ থানার হরিণখোলা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোজাফফরপুর গ্রামে। এই এলাকাটি পুরশুড়া বিধানসভার মধ্যে। শেখ মোক্তার মোজাফফরপুর গ্রাম থেকে মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সেখান থেকে আধ কিলোমিটার দূরের মধুরপুর বাজারে আসেন তিনি। মধুপুর বাজার থেকে কেশবপুরের দিকে যাওয়ার পথে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর রাস্তা আটকায় বলে খবর। শেখ মোক্তারের পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দুষ্কৃতী তাঁকে লাঠি, রড, বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ঘটনাস্থল থেকে আরামবাগ থানার পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে শেখ মোক্তারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পার্থ হাজারী বলেন, “বর্তমানে যারা লাল থেকে এসে টিএমসি হয়েছে তারাই এইভাবে অঘটন ঘটাচ্ছে। শেখ মোক্তারকে কে বা কারা পিটিয়ে খুন করল তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।” এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Advertisement

আড়াই মাসে মৃত্যু ২০ শিশুর, কালনায় উদ্বেগ ]

Advertisement

এদিকে কোচবিহারের একাধিক জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার রাতে দিনহাটা মহকুমা শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি অজয় রায়ের গাড়িতে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণ পরে নাজিরহাট দু’নম্বর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি ডিম্পল রায়ের গাড়ি নাজিরহাট বাজারে আটকে ভাঙচুর করা হয় এবং ব্যাপক বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় ডিম্পল রায়কে উদ্ধার করে প্রথমে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল ও পরে কোচবিহার শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়েছে। দুই নেতাই বিধায়ক উদয়ন গুহ’র ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিনহাটা দু’নম্বর ব্লক সভাপতি মীর হুমায়ুন কবিরের দিকে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিধায়ক উদয়ন গুহ জানান, ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া ছাত্র-যুবর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তুফানগঞ্জ মহকুমায়। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাতেই বিক্ষোভে দেখায় তৃণমূল ছাত্র-যুব কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ মহকুমার পুলিশ। তুফানগঞ্জ মহকুমার যুবনেতা তনু সেনের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে একদল দুষ্কৃতী কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালায়। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও একাংশের অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অনুগামীরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তুফানগঞ্জ শহর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি চাঁদ মোহন সাহা।

আজ অন্ধ্রে আছড়ে পড়বে ‘ফেতাই’, আগামী দু’দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গে ]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.