চলন্ত ট্রেনে প্রসব, রামপুরহাটে ১৫ মিনিট দাঁড়াল এক্সপ্রেস

রেলকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা যাত্রীদের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৬:১১

options
link
চলন্ত ট্রেনে প্রসব, রামপুরহাটে ১৫ মিনিট দাঁড়াল এক্সপ্রেস

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: ট্রেনে প্রসব হওয়া শিশুর চিকিৎসার জন্য ১৫ মিনিট রামপুরহাট স্টেশনে দাঁড়াল এক্সপ্রেস ট্রেন। শিশুর চিকিৎসা শেষে ডাক্তাররা নিশ্চিত হওয়ার পরই ট্রেন ফের অসমের দিকে রওনা দেয়। বুধবার রাতে রামপুরহাট স্টেশনের এই ঘটনায় চালক ও রেলকর্মীদের ভূমকিায় এখন ধন্য ধন্য রব।

Advertisement

[কুয়োর জল আচমকা নীল, রানিগঞ্জে শোরগোল]

Advertisement

আপ ২২৫০১ বেঙ্গালুরু-তিনসুকিয়া এক্সপ্রেসের মধ্যেই সন্তান প্রসব করেন আসামের এক গৃহবধূ। জন্মের পর শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ফোনে আরপিএফ সেই খবর পেয়ে চিকিৎসককে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় রামপুরহাট ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ রামপুরহাট স্টেশনে ট্রেনটি এসে পৌঁছয়। এস-নাইন কামরায় থাকা শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন এস ভাওয়াল ও তাঁর সঙ্গীরা। শিশুর পাশাপাশি তার মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। রামপুরহাট আরপিএফ আধিকারিক এ মজির জানান, গৃহবধূ বাসিরুন বেগম গর্ভবতী অবস্থায় মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে অসমে ফিরছিলেন। আসামের দলগাঁওয়ের পদ্মাগুড়িতে তাদের বাড়ি। ট্রেনের মধ্যে ওই বধূর প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। সঙ্গে ছিলেন স্বামী হাবিবুর রহমান। পেশায় দিনমজুর হাবিবুর তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের জন্য দেশবাড়িতে ফিরছিলেন।

Advertisement

রামপুরহাট.jpg 2

[গৌড় এক্সপ্রেসে প্রাক্তন মন্ত্রীর ব্যাগ চুরি, ফের প্রশ্নের মুখে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা]

ট্রেনের মধ্যে স্ত্রীর আচমকা প্রসবযন্ত্রনা ওঠায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেন হাবিবুর। সেই সময় ওই কোচে থাকা কয়েকজন মহিলা বাসিরুনকে নিয়ে শৌচাগারের কাছে নিয়ে যান। তাঁদের সহযোগিতায় পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। হাবিবুরের বক্তব্য, ‘‘স্ত্রীর প্রসবযন্ত্রনা উঠতেই কর্তব্যরত টিকিট পরীক্ষকের কাছে গিয়ে চিকিৎসকের খোঁজ করি। কিন্তু পাওয়া যায়নি। কামরার মহিলারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিলে বড় বিপদ হয়ে যেত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নিত্য নতুন ট্রেন চালু হচ্ছে। কিন্তু দূরপাল্লার ট্রেনে একজন করে চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতে পারছে না রেল।’’ বুধবার সন্ধ্যায় বোলপুরে ট্রেন ঢুকতেই শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। ট্রেনেরই এক যাত্রী আরপিএফে খবর দেন। আরপিএফ আধিকারিক জানান, ‘‘খবর পাওয়া মাত্র রামপুরহাট স্টেশনে ট্রেনটি ঢোকার আগে থেকেই চিকিৎসক নিয়ে আমরা প্লাটর্ফমে অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন দাঁড়াতেই চিকিৎসক মা ও শিশুর চিকিৎসা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।’’ তবে রামপুরহাটে চিকিৎসা করিয়ে অসমের দিকে সন্তান ও মাকে নিয়ে ফিরে যান হাবিবুর ও বাসিরুণ।

ছবি: সুশান্ত পাল

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.