Trinamool

ময়দানে ‘দিদির’ সৈনিকরা! মমতার উন্নয়নকে হাতিয়ার করে মাসব্যাপী কর্মসূচি তৃণমূলের

১ থেকে ৭ জানুয়ারি গান্ধীজি, নেতাজি, বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর-সহ বাংলা ও দেশের মনীষীদের সম্মানজ্ঞাপন করা হবে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১২:০৭

options
link
ময়দানে ‘দিদির’ সৈনিকরা! মমতার উন্নয়নকে হাতিয়ার করে মাসব্যাপী কর্মসূচি তৃণমূলের
ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: বিজেপি চেয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে এসআইআরের মধ্য দিয়ে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে দলের সৈনিকদের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্য নেতৃত্বের মতে এতে শাপে বর হয়েছে। যেখানে ভোটের কিছুদিন আগে কর্মীরা ভোটের কাজে নামেন, সেখানে এবার অনেক আগে থেকে ওয়ার্ম আপ শুধু নয়, বিজেপিকে রুখতে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যের শাসক দলের। তার জন্য তির্যক মন্তব্যে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে দলের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোটা জানুয়ারি জুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement

আজ, ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার দলের প্রতিষ্ঠা দিবস। এই উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথমে কালীঘাটে, ১০টায় দলের সদর দপ্তর বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা তুলে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি শুরু করলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। সকাল সাড়ে ১০টায় সায়েন্স সিটির কাছে পুরনো তৃণমূল ভবনে এই কর্মসূচি করেন রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এসআইআর তো বটেই, নতুন বছরে তৃণমূলের আরও হাতিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ১৫ বছরের খতিয়ান, যাকে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নাম দিয়ে ইতিমধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছে শাসক দল। জানুয়ারি মাসব্যাপী ব্লক ও অঞ্চলস্তরে চলবে এ নিয়ে প্রচার। এই দু’টি ইস্যুই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের মূল অস্ত্র তৃণমূলের। এছাড়া বাংলার মনীষীদের বারবার ভুল নামে ডেকে, বিকৃত উচ্চারণে সম্বোধন করে তাঁদের বারবার অপমান করেছে বিজেপি। তার প্রতিবাদে আরও বেশি মর্যাদায় মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যুর দিনগুলিতে তাঁদের সম্মান দিয়ে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে বিঁধে দলের এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, “এসআইআর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে নামিয়েছিল বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম কাটতে। বাংলার ভোটারদের মধ্যে তারা রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি খুঁজতে নেমেছিল। তাতে তারাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। উলটে পরোক্ষে হলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে সাহায্য করেছে তাদের কর্মীদের এক জায়গায় এনে মাঠে-ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে নির্বাচনের এত আগেই।”

Advertisement

গত ২০ ডিসেম্বর এই সংক্রান্ত কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নির্দিষ্ট করে বার্তা দলের সর্বস্তরে পাঠিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এক-দু’মাস আগে থেকে কোনও রাজনৈতিক দলের ‘ইলেকশন মেশিনারি’ কাজ করা শুরু করে। বিজেপির একটা ‘ভুল চাল’ সেই মেশিনারিকেই সচল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনই বলে মত তৃণমূলের নেতৃত্বের। তার সঙ্গে মাসব্যপী কর্মসূচি তো রয়েইছে। ফলে বর্তমানে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল প্রস্তুত হয়ে উঠছে সামনের লড়াইয়ে জন্য। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এর ঠিক উলটোদিকে বিজেপির সংগঠনে বিরাট ধাক্কা। তাদের রাজ্য কমিটি এখনও প্রস্তুত হয়নি। ফলে নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যেই তারা যেতে পারছে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কলকাতায় এসে ভোকাল টনিক দিতে হচ্ছে দলকে। শাসক দলের বক্তব্য, এর পরও কোনও সুবিন্যস্ত পার্টি সংগঠন না থাকলে যে সমস্যা হওয়ার কথা সেই সমস্যাই বিজেপিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে। আর শাহ সেটা বুঝতে পেরেই পার্টির বিধায়ক-সাংসদদের বলেছেন নিজের নিজের এলাকায় গিয়ে পড়ে থাকতে। তাঁদের প্রশ্ন, কিন্তু যদি সংগঠনই না থাকে তাহলে কাদের নিয়ে বিধায়ক সাংসদরা দল করবেন? এ প্রসঙ্গে দলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন সর্বতোভাবে মনেপ্রাণে এবং প্র্যাক্টিসে সামনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”

Advertisement

এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি ১ থেকে ৭ জানুয়ারি গান্ধীজি, নেতাজি, বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর-সহ বাংলা ও দেশের মনীষীদের সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গেই ‘উন্নয়নের পাঁচালির’ বিপুল প্রচার চলবে। এরপর ১২ জানুয়ারি বিবেকান্দের জন্মদিন, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে ব্লকে, ওয়ার্ডে, অঞ্চলে সর্বত্র সুভাষ উৎসব করা হবে। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস পালনের সঙ্গে সঙ্গে ৩০ জানুয়ারি গান্ধীজির প্রয়াণ দিবসকে শহিদ দিবস হিসাবে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.