হুঁশ নেই হাসপাতালের, ২৪ ঘণ্টা নগ্ন অবস্থাতেই পড়ে থাকল রোগী

খবর ছড়িয়ে পড়তে তবেই টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৭, ০৬:৫৯

options
link
হুঁশ নেই হাসপাতালের, ২৪ ঘণ্টা নগ্ন অবস্থাতেই পড়ে থাকল রোগী

সৌরভ মাজি,বর্ধমান: অসহায় প্রৌঢ়কে রেললাইনের ধার থেকে তুলে এনে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল রেলপুলিশ। পরনের সম্বল বলতে ছিল একটিমাত্র গামছা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই খুলে যায় সেটুকুও। আর ওইভাবে নগ্ন হয়েই প্রায় ২৪ ঘণ্টা পড়ে রইলেন হাসপাতালে। ন্যূনতম একটি কাপড়ও কেউ তার গায়ে তুলে দিল না। এমনকী হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রাও এগিয়ে আসেননি। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল কালনা। যদিও রবিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কালনা মহকুমা হাসপাতালের বেডে পোশাকহীন অবস্থায় পড়ে থাকার পরে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয় তাঁর গায়ে। লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পান হাসপাতালের অন্যান্য রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

Advertisement

[গুরুংবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলায় এবার পুলিশের হাতে অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট]

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঞ্চান্নর ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় কালনা রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার করেছিল জিআরপি। সম্ভবত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার পর তাঁকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করে দিয়ে যায় রেল পুলিশ। সোমবার হাসপাতালে এসেছিলেন সেখানে ভরতি থাকা এক রোগীর আত্মীয় লক্ষণ পাল। তিনি এদিন বলেন, “সকাল ৬ টায় হাসপাতালে এসেছি। তখনও দেখেছি উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি। দুপুর ১২ টাতেও দেখেছি একই অবস্থায় থাকতে।” আর এক রোগীর আত্মীয় শাবানা বিবি এদিন বলেন, “রবিবার থেকেই দেখছি নগ্ন অবস্থায় ওই রোগী পড়ে রয়েছেন হাসপাতালের বেডে। ডাক্তার, নার্স সবাই দেখেছেন। কিন্তু পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়নি।”

Advertisement

[দেবী পালাতে পারেন, এই আশঙ্কায় ভক্তদের ‘নজরবন্দি’তে মা কালী]

হাসপাতালে ভরতি কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, রবিবার পুলিশ তাঁকে ভরতি করিয়ে দিয়ে যায়। তখন কেবলমাত্র একটা গামছা ছিল। পরে সেটিও খুলে যায়। কিন্তু কেউ গায়ে কাপড় জড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাটুকুও করেনি। এদিন দুপুরের পর বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতেই টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বরাই অবশ্য অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, “রোগীর অবস্থা ভাল নয়। তিনি প্রায়ই অচেতন অবস্থায় থাকছেন। গায়ে কাপড় রাখতে পারছেন না। তবে আমাদের তরফে পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসাও ঠিকমতো চলছে।”

Advertisement

[মুসলিম বধূর হাতেই দেবীর আরাধনা, সম্প্রীতির কালীপুজো হবিবপুরে]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.