নির্দল কাঁটায় বিদ্ধ তৃণমূল, বিরোধিতা করে জিতলেও দলে না ফেরানোর সিদ্ধান্ত মমতার

বোর্ড গঠনে সংকট হলেও নির্দলদের ফেরাবে না শাসক দল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৫, ২০১৮, ০৮:১৯

options
link
নির্দল কাঁটায় বিদ্ধ তৃণমূল, বিরোধিতা করে জিতলেও দলে না ফেরানোর সিদ্ধান্ত মমতার

স্টাফ রিপোর্টার: দলের বিরোধিতা করে যাঁরা নির্দল হয়ে ভোটে লড়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিল তৃণমূল। সাফ জানিয়ে দিল, জিতলেও তাঁদের দলে নেওয়া হবে না। সোমবার ভোটপর্ব মেটার সঙ্গে সঙ্গেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া এই নির্দেশের কথা জানিয়ে দিল তৃণমূল। সেক্ষেত্রে জয়ীদের না পেয়ে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া থমকে গেলে, বোর্ড বিরোধীদের হাতে চলে গেলেও সিদ্ধান্ত বদল করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

[  জীবনের নয়া প্রাপ্তি, প্রথমবার ভোট দিলেন অশীতিপর বৃদ্ধা ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বস্তুত, গোটা রাজ্যে এদিনের ভোটচিত্রে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীরা অনেক জায়গাতেই নির্দলের হাঙ্গামার সামনে পড়েছেন। দল তাঁদের প্রার্থী করেনি। অথচ বিরোধী দলগুলির মদত নিয়ে তাঁরাই দলীয় প্রার্থীদের বিরোধিতা করছে, এটা তৃণমূল মেনে নেবে না। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর, ভোটে জিতলে নির্দল প্রার্থীরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দরাদরি করে দলে ফিরতে চাইবে। কিন্তু দলের কড়া মনোভাব বজায় রাখতে এই সুযোগসন্ধানীদের আটকাতে চায় তৃণমূল। দলের মহাসচিব এদিন তাই বলেছেন, “দলের টিকিট না পেয়ে যাঁরা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা জিতলেও আর তাঁদের তৃণমূলে ফেরত নেওয়া হবে না।” সেক্ষেত্রে বোর্ড গঠনে সমস্যা তৈরি হলে কী এদের সাহায্য নেওয়া হবে? পার্থবাবু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বোর্ড গঠন হবে না। ওই অবস্থাতেই পড়ে থাকবে। এ নিয়ে আমরা কোনওভাবেই সিদ্ধান্ত বদল করব না। তাঁদের দলেও  ফেরানো হবে না।”

Advertisement

[ পঞ্চায়েতে নজর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, দিলীপকে ফোন রাজনাথের ]

পঞ্চায়েতের বিগত বোর্ডের মেয়াদ আগস্ট পর্যন্ত। তৃণমূল যদি সিংহভাগ আসনও জেতে, তারপরও কোথাও যদি দেখা যায় নির্দলদের জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা সম্ভব হল না, সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। যদিও সেসব নিয়ে ভাবছেই না তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার দায় এদিন একযোগে বিজেপি ও সিপএমের ঘাড়ে চাপিয়েছে তৃণমূল। মহাসচিব বলেছেন, পড়শি রাজ্য অসম-ঝাড়খন্ড ছাড়াও পড়শি দেশ বাংলাদেশ থেকে বহিরাগত দুষ্কৃতী এনে সন্ত্রাস করেছে বিজেপি। এমনকী, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধেও ভোটারকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন। বলেছেন, “প্রত্যক্ষভাবে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা জানি কাদের অঙ্গুলিহেলনে এমন সন্ত্রাস হয়েছে।” একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধীদের বিদ্ধ করে কমিশনের কাছে ৫০টি নালিশের চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। পার্থবাবুর কথায়, “বিজেপির সঙ্গে সিপিএম, কংগ্রেসও অতি সক্রিয় হয়েছে। আদর্শের ভিত্তিতে নয়, ক্ষমতা দখলের জন্যই সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস একত্রিত হয়ে তৃণমূলকে হারানোর চেষ্টা করেছে।” ভোটপর্ব মিটতে এদিন রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছে তৃণমূল। ধন্যবাদ জানিয়েছে পড়শি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে। বলেছেন, বিক্ষিপ্ত গন্ডগোলের ঘটনা ছাড়া মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ। তার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের মহসাচিব।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.