রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: রাজ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এবার জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ৷ বামেদের সঙ্গে ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি’র সঙ্গে হাত মেলাল ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট পার্টি৷ রাজ্যে এই প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ১ ও ২ ব্লকে পঞ্চায়েত ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিল ডিএসপি৷
বামফ্রন্টের শরিক থাকার সুবাদে রাজ্যের প্রাক্তন আবগারিমন্ত্রী প্রবোধ সিনহার দল ডিএসপি এগরা মহকুমায় বিধানসভা থেকে লোকসভা, এমনকী ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে একতরফা প্রার্থী দিয়ে এসেছিল। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ছেড়ে ডিএসপিতে নাম লেখানো মামুদ হোসেনকে প্রার্থী করা হয়৷
বিধানসভা নির্বাচনের পরে বড় শরিক সিপিএমের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় শরিক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয় ডিএসপি। এর পরই প্রথম কোনও নির্বাচনের বামাদের সঙ্গ ছেড়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে শরদ পাওয়ারের এনসিপির সঙ্গে জোট বাধল ডিএসপি৷ শুধু জোট গঠন করাই নয়, এবারের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ডিএসপি’র বদলে এনসিপি দলের হয়ে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসপি নেতৃত্ব৷ ডিএসপি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রবোধচন্দ্র সিনহা জানান, ডিএসপি দল এনসিপি দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে জোট বেধেছে৷ তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনে এগরার অধিকাংশ আসনে এনসিপি দলের প্রতীকে প্রার্থী দেওয়া হবে৷ সেকারণে ডিএসপি নিজে কোন প্রার্থী দিচ্ছে না৷ সেই সঙ্গে কয়েকটি আসনে নির্দল প্রার্থীও দেওয়া হবে৷ ৩৬ বছরের জোট সঙ্গী বামফ্রন্টকে ছাড়ার পরে ডিএসপি দল বাংলায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে দীর্ঘদিন আগেই৷ বাংলায় শুধু পোস্টার আর ব্যানারে এই দলের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই৷
বামফ্রন্টের ছোট শরিক হওয়ার কারণে নির্বাচনের সময় হলে রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা আসন ওই দলের প্রাপ্য ছিল৷ এর বাইরে বাংলায় এই দলের কোন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে৷ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদীয়া, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এই কয়েকটি জেলায় জেলা কমিটিকে নিয়ে রাজ্য কমিটি রয়েছে৷ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রবোধচন্দ্র সিনহা ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা এগরার বিধায়ক ছিলেন৷ বামফ্রন্টের সরকারের মন্ত্রীও নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ তারপর থেকে তৃণমূলের কাছে দফায় দফায় হার মানতে হয় ডিএসপি নেতৃত্বকে৷
পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ছাড়া দুই মেদিনীপুরের আর কোথাও এই দলের সংগঠন নেই বললেও চলে। তাছাড়া ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে পরাজিত করে তৃণমূল রাজ্য সরকারে আসার পরে বামফ্রন্টের সংগঠনে ভাঙন শুরু হয়৷ ফলে ডিএসপি দল অনেক আগে থেকেই বামফ্রন্টের সঙ্গে ছেড়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জাতীয়স্তরের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যা রাজ্য বামফ্রন্ট নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি। ফলে দুই তরফে মতানৈক্য শুরু হয়। যার করানে ডিএসপি শরিক ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে শরদ পাওয়ারের দলের সঙ্গে জোট বাঁধে ডিএসপি। তাই এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম ডিএসপি নিজের প্রতীকে প্রার্থী দিচ্ছে না।
সর্বশেষ খবর
-
টানা ফ্লপের পর খেতে চাষবাদে ব্যস্ত বরুণ ধাওয়ান, ‘তবুও সাদা জামায় কাদা নেই?’, খোঁচা নেটপাড়ার
-
তৃণমূল নেতার ছায়াসঙ্গী! ক্যানিংয়ে গ্রেপ্তার বিহারের ‘দুষ্কৃতী’, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র
-
কোটি কোটি বকেয়া! ‘অন্ধকার’ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কমাল আদানি গ্রুপ, উদ্বিগ্ন ঢাকা
-
দিল্লি হাই কোর্টে স্বস্তি, জল বোর্ডে দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেন আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন
-
জিম-ডায়েট ছাড়াও সাতদিনে ঝরবে ৫ কেজি! ৪ মিনিটের জাপানি শরীরচর্চা জানলেই বাজিমাত