‘সিপিএম অতীত’ বলে শুধু জোট-সম্পর্কে দাঁড়ি টানা নয়, সাঁইবাড়ি ক্ষতও খুঁচিয়ে তুলল প্রদেশ কংগ্রেস! বর্ধমান জেলা তো বটেই, যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে আলিমুদ্দিনেও। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি অতীত মোছাই শুধু নয়, বর্ধমানে দলের ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে সিপিএমের সঙ্গে সরাসরি সম্মুখসমরের পথেই যেতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস? সামনে এসে গিয়েছে তৃণমূলের সেই স্লোগান, ‘রক্তভাত খাচ্ছে মা, এই দৃশ্য আর না’।
আরও পড়ুন:
সিপিএমের বক্তব্য, কংগ্রেস যা চাইছে করুক, মানুষ সব বিচার করবে। সিপিএম যতই এ কথা বলুক, সাঁইবাড়ির প্রসঙ্গ উঠতে প্রাক্তন কংগ্রেস কর্মীদের উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনার স্মৃতি উসকে উঠেছে। যার প্রভাব কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে পড়বে বলেই দাবি দলের একটা অংশের। ২০১৬ থেকে মাঝে দু’-একটি বাদ দিলে ২০২১ পর্যন্ত বেশিরভাগ নির্বাচনেই কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোট হয়েছে। তখন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল যে, বর্ধমান শুধু নয়, রাজ্যজুড়ে তাদের চিরশত্রু সিপিএমের সঙ্গে জোট হয়েছিল কীভাবে? সেই সম্পর্ক অতীত। বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করে ২৯৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে একা লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করেছে এআইসিসি।
২০১৬ থেকে মাঝে দু’-একটি বাদ দিলে ২০২১ পর্যন্ত বেশিরভাগ নির্বাচনেই কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোট হয়েছে। তখন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল যে, বর্ধমান শুধু নয়, রাজ্যজুড়ে তাদের চিরশত্রু সিপিএমের সঙ্গে জোট হয়েছিল কীভাবে?
এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে জেলা সফর শুরু করে প্রচার একপ্রকার শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। বর্ধমান ঘুরে, বীরভূম হয়ে তাদের হুগলি যাওয়ার কথা। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ছাড়া রয়েছেন দলের পর্যবেক্ষক গোলাম মীর, সিনিয়র পর্যবেক্ষক ত্রিপুরার নেতা সুদীপ রায়বর্মনরা। এই পরিস্থিতিতেই শুভঙ্কর সাঁইবাড়ির শহিদদের স্মরণ করে সিপিএমের সঙ্গে সম্পর্ক ‘অতীত’ বলে দিয়েছেন। তাতেই পুরনো ঘায়ের স্মৃতি উসকে উঠেছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “কংগ্রেস নেতারা একা লড়বেন ঠিক করেছেন। তার জন্য বর্ধমানে যাচ্ছেন যান, আরও দ্রুতগতিতে যান। সাঁইবাড়ির কথা বললে বলবেন। কিন্তু মানুষ জানতে চাইবে, তদন্ত রিপোর্টের কী হল? তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলেও কোনও রিপোর্ট সামনে আসেনি, আবার কংগ্রেস যে তৃণমূলের সঙ্গে জোট সরকার করেছিল তারাও কোনও রিপোর্ট দেয়নি। এসব কংগ্রেসের ভোটের (West Bengal Assembly Election) কারবার।”
এ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া সামনে এনে দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া, “পুরনো রক্ত-ঘাম যা জবাব দেওয়ার দেবে। কিন্তু সিপিএম এ নিয়ে এত চিন্তিত কেন!” তাঁর বক্তব্য, “আমরা অতীত নিয়ে ভাবছি না। যখন আমাদের জোট ছিল, তখনও এই ঘটনা স্মৃতিতে ছিল সকলের। পুরনো স্মৃতি নিয়ে না ভেবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। বাংলার বেকার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাই। বেকার তো কংগ্রেসের ঘরেও আছে, সিপিএমের ঘরেও আছে।”
সর্বশেষ খবর
-
পরকীয়ার টান! তিন সন্তানকে ঘরে রেখে মোয়াজ্জিনের হাত ধরে পালালেন বাংলাদেশি মহিলা
-
সদ্যোজাত কোলে একদিনে ৭০টি রিল! জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সরের ‘আসক্তি’তে বিতর্কের ঝড়
-
‘কালের যাত্রায় পা মিলিয়ে’ মমতার সঙ্গ ছেড়ে বিধানসভায় চন্দ্রিমা, বৈঠক ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গে
-
রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথেও দানের টাকা চুরি! উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
-
গাফিলতিতে ঢোকেনি অন্নপূর্ণার টাকা! ধূপগুড়ি পুরসভার ৩২ কর্মীকে শোকজ মহকুমা শাসকের