জীবনের সমস্তটাই কি রিল সর্বস্ব? মানুষে মানুষে প্রেম-ভালোবাসা-স্নেহ-সম্মান সবটাই কি কেবল ক্যামেরার সামনে? ক্যামেরা সরে গেলে এই মানুষেরা কেমনভাবে আচরণ করেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে? সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-ইউটিউব জুড়ে কেবলই রিলের বাড়বাড়ন্ত। ভিডিওর মতো দীর্ঘমেয়াদি নয়, তাই দেখতে-বানাতে যৎসামান্য সময় লাগে। কিন্তু সহজ বলেই রোজের জীবনের সবকিছু কি তুলে ধরা যায় নেটনাগরিকদের সামনে?

আরও পড়ুন:
‘সন্তান নয়, কনটেন্ট জন্মেছে ঘরে’— এমন কমেন্টে ভরে গিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সর ‘দোলা পরমা দেবনাথের’ টাইমলাইন। কেন? কারণ তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরের মুহূর্ত থেকেই তাকে নিয়ে অগণিত রিল পোস্ট হয়েছে তাঁর প্রোফাইলটিতে (Bengal influencer controversy)। যদিও সন্তান জন্মের আগের কোনও মুহূর্তেও তা থেমে থাকেনি। গর্ভাবস্থার প্রতিটি পর্যায় রিলে ধরা রয়েছে। ব্যাগ গুছিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে যাওয়া, সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে যাবতীয় কথোপকথন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থা— সবই দেখা যায় রিলে।
সন্তান জন্মানোর অব্যবহিত পরেই ইনফ্লুয়েন্সার পরমাকে দেখা যায়, হাসপাতালের ঘরে দাঁড়িয়েই যে জামদানি শাড়ি-ব্লাউজে সেজে বাড়ি ফিরবেন, তা দর্শকদের দেখাতে। এরপরের ঘটনা আরও আশ্চর্যের। সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নিয়েই হাসপাতালের লবিতে তোলা একের পর এক রিল দেখা যায় তাঁর প্রোফাইলে। সিজারিয়ান সেকশনের দেড়দিন পরেই তাঁকে শাড়ি-মেকআপ সমেত গাড়ির ফ্রন্টসিটে বসে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। এমনকী পথে গাড়ি থামিয়ে ম্যাগি কিনে খেতে দেখা যায়!
বাড়ি ফিরতে, পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো ব্যান্ডপার্টি-সমেত স্বাগত জানায় সদ্যোজাতর। বাড়িতে প্রবেশ করেই শিশুটির পা আলতায় ছুঁইয়ে কাপড়ে ছাপ তোলেন তাঁরা। এরপর বাড়ির ঠাকুরঘরে আশীর্বাদ নেন। আর প্রতিটি পর্যায়েই একাধিক ক্যামেরাপারসনকে হাজির থাকতে দেখা যায় ঘটনাস্থলে। সোশাল মিডিয়া জানাচ্ছে, এই একদিনেই প্রায় ৭০টি রিল পোস্ট করা হয়েছে অ্যাকাউন্টটিতে, যার অধিকাংশেই ছাড়িয়েছে ১ মিলিয়ন!
যদিও কমেন্ট সেকশনের সিংহভাগই ভরে গিয়েছে নেতিবাচক মন্তব্যে। কেউ ভিডিও করার অনুমতি দেওয়ার জন্য আঙুল তুলেছেন সুপরিচিত হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষের দিকেও। সত্যিই কি সিজারিয়ান সেকশন হয়েছে পরমার? সে নিয়েও প্রশ্নের ভিড়। সত্যিই হয়ে থাকলে, মাত্র একদিনের মাথায় আই-ভি ড্রিপ ছাড়া, সায়া-ব্লাউজ পরে, গাড়িতে পিঠসোজা করে বসে কীভাবে ফিরতে পারেন তিনি, তা নিয়ে সন্দিহান ফলোয়াররা। এছাড়া তিনদিনের শিশুর পা আলতায় ছোঁয়ানো থেকে শুরু করে আঁতুড় অবস্থায় ঠাকুরঘরে প্রবেশ— সব নিয়েই উঠেছে কটাক্ষের ঝড়। অনেকেই দাবী করেছেন, প্রতিটি রিলেই শিশুটিকে খিদেতে কাঁদতে দেখা গিয়েছে, যদিও শুটিং-এ ব্যস্ত বাবা-মায়ের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই সেদিকে। শিশুকে নিয়ে কনটেন্ট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হোক, দাবী জানিয়েছেন অনেকেই।

যদিও এতে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি প্রোফাইলটির কনটেন্টে। বরং একই গতিতে রিল পোস্ট হয়ে চলেছে সেখানে। যা চিন্তার, তা হল অগণিত নেতিবাচক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মন্তব্যও রয়েছে একাধিক, যা জানান দিচ্ছে অনেকের কাছেই এ ধরনের কনটেন্ট গ্রহণযোগ্য। এমনকী, নিজ ক্ষেত্রেও হয়তো এই পথ অনুসরণ করার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই।
বলা বাহুল্য, এই বিপুল পরিমাণ ভিউ থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিপুল অর্থও উপার্জন করবেন সংশ্লিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সর। যা আক্ষরিক অর্থেই আগামী দিনে উৎসাহ জোগাবে এই ধরনের কনটেন্টকে। তাতে আরও মানুষ ‘ইনফ্লুয়েনসড’ হবেন, নিঃসন্দেহে। কিন্তু এমনটা চলতে দিলে দ্রুত মুছে যাবে প্রাইভেট ও পালবিক জীবনের সীমারেখা। ভবিষ্যৎ জুড়ে গজিয়ে উঠবে আরও অনেক প্রশ্নচিহ্ন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
লিভারের দুরারোগ্য ব্যাধিতে মৃত্যুর মুখে খুদে! জনতার দরবারে অসহায় বাবাকে সাহায্য ‘মানবিক’ মুখ্যমন্ত্রীর
-
হরমুজ বিপর্যয়ে কীভাবে জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা ভারতের? ‘ফাঁস’ করলেন মোদি
-
এবার বিশ্বকাপের ‘ট্রাইওন্ডা’ বল যাবে চাঁদে! মেগা পরিকল্পনা নাসার, শর্ত একটাই
-
‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে কড়া আইন রাজ্যের, কিন্তু প্রয়োগেও সতর্কতা জরুরি
-
আসছে অত্যাধুনিক যন্ত্র, দক্ষ উদ্ধারকারী! তারাতলার ‘ত্রাতা’দের সম্মানিত করে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর