Bagdogra

পরকীয়ায় পথের কাঁটা, স্বামীকে খুনের পর ধর আলাদা, পাঁচ কিমি দূরে মাথা! গ্রেপ্তার স্ত্রী

বাগডোগরায় মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার নিয়ে তদন্তে নেমে চক্ষুছানাবড়া পুলিশের। ঘটনায় পাঁচজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু তারপরেই পুলিশ জানতে পারে খুনের গল্প। প্রেমের সম্পর্কের জেরে নিজের ১০ বছরের বিবাহিত স্বামীকে খুন করেন তাঁর স্ত্রী।

অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়
অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৮:০৬

options
link
পরকীয়ায় পথের কাঁটা, স্বামীকে খুনের পর ধর আলাদা, পাঁচ কিমি দূরে মাথা! গ্রেপ্তার স্ত্রী
স্বামীকে খুনের পর ধর আলাদা, পাঁচ কিমি দূরে মাথা!

বাগডোগরায় মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার নিয়ে তদন্তে নেমে চক্ষুছানাবড়া পুলিশের। ঘটনায় পাঁচজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু তারপরেই পুলিশ জানতে পারে খুনের গল্প। প্রেমের সম্পর্কের জেরে নিজের ১০ বছরের বিবাহিত স্বামীকে খুন করেন তাঁর স্ত্রী। প্রেমিকের সহযোগিতায় পরিচয় আড়াল করতেই দেহ থেকে মাথা আলাদা করা হয়। গত মঙ্গলবার বাগডোগরার হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে চা পাতা তোলার সময় একটি মুণ্ডুহীন মৃতদেহ দেখতে পান চা শ্রমিকরা। পরবর্তীতে বাগডোগরা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক‌্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।

Advertisement

ঘটনার তদন্ত নেমে খুনের কিনারা করে পুলিশ। গ্ৰেপ্তার করা হয় মৃতের স্ত্রী-সহ মোট ৫ জনকে। ধৃতরা হল মৃতের স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার প্রেমিক সুদীপ পাল। সে বাগডোগরা বাসিন্দা এবং সুদীপের ২ ভাগ্নে নিতাই পাল ও বাপি পাল এবং ভাগ্নের বন্ধু কৌশিক নাথ তিনজনই জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ বছর ধরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিল মৃতের স্ত্রী মমিনা বেগম। সেই মতো স্বামীকে সরাতে খুনের পরিকল্পনা করা হয়! 

Advertisement
Wife brutally murders husband in Bagdogra
আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধৃত স্ত্রীকে। নিজস্ব চিত্র

প্রেমিকের সহযোগিতায় বিহার থেকে বাগডোগরায় এনে খুন করা হয় ইমামকে। মৃত ইমাম পেশায় তান্ত্রিক ছিলেন। সেইসূত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় বাগডোগরা বাসিন্দা তথা তান্ত্রিক সুদীপ পালের। নিহত ইমামের শ্বশুরবাড়ি শিলিগুড়িতে। বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে সোমবার বিকেলে ফোন করে ইমামকে বাগডোগরায় ডাকে সুদীপ। এরপর তাকে ৫জন মিলে পরিকল্পনা করে কুপিয়ে খুন করে। কেউ যাতে তার দেহ চিনতে না পারে তার জন্য মাথা কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়! কিন্তু পুলিশ তদন্ত শুরু করেই সেই কাটা মাথার খোঁজ শুরু করে। অবশেষে খুনের ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার মুন্সিবাড়ি এলাকায় উদ্ধার করে মৃতের মাথা। তবে এই মাথা মৃতের কিনা তারও তদন্ত করে দেখবে পুলিশ। যদিও তাদের প্রাথমিক অনুমান এটাই সেই মাথা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ধৃত ৫ জনকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এছাড়া খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান করা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.