দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

করোনা কেড়েছে স্বামীর প্রাণ, দিশেহারা হয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ গৃহবধূর

নিউ জলপাইগুড়ির ঘটনায় তিনজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরতি হাসপাতালে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২০, ২২:৩১

options
link
করোনা কেড়েছে স্বামীর প্রাণ, দিশেহারা হয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ গৃহবধূর

শুভদীপ রায়নন্দী, শিলিগুড়ি: করোনা কেড়েছে স্বামীর প্রাণ। মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়ির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে দিশেহারা স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শোক আর আতঙ্কে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে দুপুরে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনায় স্তব্ধ গোটা শহর। রেল পুলিশের তৎপরতায় গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁরা উদ্ধার হয়েছেন। প্রথমে মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে তিনজনকে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপাতত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, মৃত শিক্ষক শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধাননগরের নিবেদিতা রোডের বাসিন্দা। শুক্রবার অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে পরিবারের সদস্যরা শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভরতি করেন। এরপর তাঁর লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে করোনা (Coronavirus) রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি হৃদরোগেও আক্রান্ত ছিলেন। জেলা হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। ফলে তাঁকে COVID হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়নি। সোমবার তাঁর জ্বর আসে। এদিন মাঝরাতে তিনি মারা যান। আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছয় বাড়িতে।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনার বলি ২৫ জন, একলাফে সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার]

এরপর বাড়ি থেকে চুপিসাড়ে পাঁচ ও দু’বছরের দুই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে যান মৃতের স্ত্রী। টোটো ধরে হাসমিচকে নামেন। সেখান থেকে ফের টোটোয় এনজেপি স্টেশনে চলে যান। দুপুর ১ টা ৪২ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে ডাউন আগরতলা-দিল্লি এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে শিশুদের নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে স্ত্রী। তবে বরাতজোরে বেঁচে যায় দুই শিশু-সহ তিনজনই। কিন্তু তাঁদের আঘাত গুরুতর। বড় মেয়ের বাঁ হাত এবং ছোট মেয়ের এক হাত ও পা হারিয়েছে ওই দুর্ঘটনায়। স্ত্রীর পায়ের একটা অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত জিআরপির আইসি ননীগোপাল দত্তের কথায়, “ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে এসে প্ল্যাটফর্মে নামেন ওই বধূ। এরপর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছাড়তেই শিশুদের নিয়েই লাইনে ঝাঁপ দেন। আমরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠাই।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: মানুষের স্বার্থে ভ্রাম্যমান থানা, নদিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে অভাব-অভিযোগ শুনছে পুলিশ]

ঘটনার পরই এলাকার পাশাপাশি পুরো শহরে থমথমে পরিবেশ বজায়। দুপুর থেকে এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। জনমানবশূন্য হয়ে যায় রাস্তাঘাট। ঘটনার খবর পৌঁছয় পর্যটন মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দেবের কাছে। তিনি বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি মনিটরিং করছি। প্রয়োজনে বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে এঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।” মৃত শিক্ষকের সহকর্মী অম্বুজ রায় বলেন, “একে বন্ধুকে হারানোর শোক। সেই সময়ে তার স্ত্রী এবং শিশুর আত্মহত্যার ঘটনায় আমিরা স্তম্ভিত।” এদিন বিকেল পর্যন্ত মৃত শিক্ষকের দেহ ছিল হাসপাতালে। এরপর রাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাহুডাঙির শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে প্রশাসন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.