Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
Tarapith

প্রাণহানির পর টনক নড়ল! কৌশিকী অমাবস্যার আগেই তারাপীঠের হোটেলগুলির ‘স্বাস্থ্যে’ নজর প্রশাসনের

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে আধিকারিকরা অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন প্রশাসনিক কর্তারা।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০২৬, ২১:১৭

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০২৬, ২১:১৭

options
link
প্রাণহানির পর টনক নড়ল! কৌশিকী অমাবস্যার আগেই তারাপীঠের হোটেলগুলির ‘স্বাস্থ্যে’ নজর প্রশাসনের zoom
ছবি: সুশান্ত পাল।
Advertisement

তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ ঝলসে মৃত্যু ন’জনের। আর এই অগ্নিকাণ্ডের পরেই কড়া হাতে অ্যাকশন। হোটেলগুলির নিরাপত্তায় ৯ দফা নির্দেশ জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। কৌশিকী অমাবস্যার আগেই সমস্ত হোটেলের নথিপত্র এবং ফায়ার সেফটির ঘাটতি নিয়ম মেনে ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশেষ দল নিয়ে তারাপীঠে পরিদর্শনে নামেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক, এসডিপিও, দমকল বিভাগের আধিকারিক এবং তারাপীঠ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তারা।

ইতিমধ্যেই নথিপত্র ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় ১৫টি হোটেলে নোটিস দিয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে আধিকারিকরা অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যার আগেই যেসব হোটেলে নথিপত্র বা ফায়ার সেফটির ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়ম মেনে ঠিক করতে হবে। এর পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল –

Advertisement
  • জরুরি নির্গমন দরজা, করিডোর ও সিঁড়ি কোনওভাবেই সিলিন্ডার, বোতল বা অন্য কোনও জিনিসপত্র দিয়ে আটকে রাখা যাবে না। জরুরি নির্গমন দরজা কাঠ বা বোর্ডের পরিবর্তে এমন গ্রিল গেট রাখতে হবে, যাতে ধোঁয়া সহজে বের হতে পারে।
  • কোনও নির্গমন গেটে তালা দিয়ে রাখা যাবে না। জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে মানুষ দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য গেট সবসময় খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
  • হোটেলগুলিতে জরুরি নির্গমনের জন্য সঠিক সাইনবোর্ড এবং প্রশিক্ষিত কর্মী রাখার কথাও বলা হয়েছে। জরুরি অবস্থায় লোকজনকে নিরাপদ পথে বের করে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীকে প্রস্তুত রাখতে হবে। অতিথিদের চেক-ইনের সময় আগুন লাগলে কী করণীয় এবং বেরোনো বা পালানোর পথ কোথায়—তা জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
  • ছাদের গেট নিয়েও দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশ। কাঠ, প্লাইউড, কাচ বা লোহার পাত দিয়ে তৈরি গেটের পরিবর্তে গ্রিল গেট রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সহজে বাইরে বের হওয়া যায়। ছাদে যাওয়ার গেট তালাবন্ধ রাখা যাবে না এবং আগুন লাগলে মানুষ যাতে দ্রুত ছাদে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য গেট খোলা রাখতে হবে।
  • হোটেল কর্মীদের ফোনে পুলিশ ও দমকলের জরুরি যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখার পাশাপাশি হোটেলের যোগাযোগ নম্বরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিপদের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছনো সম্ভব হয়।
  • এছাড়া হোটেল কর্মীদের ফোনে পুলিশ ও দমকলের জরুরি যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখার পাশাপাশি হোটেলের যোগাযোগ নম্বরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিপদের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছনো সম্ভব হয়। 

প্রশাসনের নির্দেশ, কৌশিকী অমাবস্যার আগেই সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনওরকম গাফিলতি না করার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর সতর্কতা শ্রীরামপুরেও। শ্রীরামপুর থানা ও শ্রীরামপুর দমকলের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীরামপুর শহরের ছোট-বড় বেশ কিছু হোটেল, গেস্ট হাউসে তল্লাশি চালানো হয়। বেশ কিছু হোটেলকে আগেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এদিন ফের তাদের লাইসেন্স চেক করে পুলিশ।

শ্রীরামপুরের হোটেলে লাইসেন্স সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের আধিকারিক।
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.