FrostHacks S02

প্রযুক্তির মেলায় আগামীর রূপকার, ব্যান্ডেল এওটি-তে সমাপ্ত হল ‘ফ্রস্টহ্যাকস’

খাতা-কলমের তাত্ত্বিক লড়াই নয়। এ ছিল ল্যাবরেটরি থেকে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ৩৬ ঘণ্টার এক ম্যারাথন দৌড়। ব্যান্ডেলের অ্যাকাডেমি অফ টেকনোলজি (এওটি) চত্বরে আয়োজিত ‘ফ্রস্টহ্যাকস’ সিজন-২-এর আসর কার্যত হয়ে উঠল দেশের তরুণ প্রতিভাদের এক মিলনমেলা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১৭:২৩

options
link
প্রযুক্তির মেলায় আগামীর রূপকার, ব্যান্ডেল এওটি-তে সমাপ্ত হল ‘ফ্রস্টহ্যাকস’
চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াইয়ে বিচারকের আসনে টিসিএস-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আধিকারিকরা।

খাতা-কলমের তাত্ত্বিক লড়াই নয়। এ ছিল ল্যাবরেটরি থেকে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ৩৬ ঘণ্টার এক ম্যারাথন দৌড়। ব্যান্ডেলের অ্যাকাডেমি অফ টেকনোলজি (এওটি) চত্বরে আয়োজিত ‘ফ্রস্টহ্যাকস’ সিজন-২-এর আসর কার্যত হয়ে উঠল দেশের তরুণ প্রতিভাদের এক মিলনমেলা। গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ আয়োজিত এই জাতীয় স্তরের হ্যাকাথনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা তুলে ধরলেন তাঁদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা।

Advertisement

আইআইটি পটনা, এনআইটি রৌরকেল্লা থেকে শুরু করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়— দেশের নামী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এবারের মূল উপজীব্য ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা, নিরাপত্তা এবং মুক্ত উদ্ভাবন। টানা ৩৬ ঘণ্টা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে পড়ুয়ারা তৈরি করেছেন আগামীর উপযোগী নানা প্রযুক্তি। কেউ বানিয়েছেন পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস, কেউ বা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণের নাগালে আনার সহজ অ্যাপ।

Advertisement

এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর বিচারপ্রক্রিয়া। হ্যাকাথনের জগতে যা সচরাচর দেখা যায় না, সেই ‘ডাবল ব্লাইন্ড’ পদ্ধতিতে প্রাথমিক বাছাই সেরেছিলেন আইআইটি এবং এনআইটি-র অধ্যাপকরা। চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াইয়ে বিচারকের আসনে ছিলেন টিসিএস-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আধিকারিকরা। এই কঠোর মূল্যায়নই ফ্রস্টহ্যাকসকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নলেজ পার্টনার হিসেবে টিসিএস-এর সক্রিয় উপস্থিতি পড়ুয়াদের পেশাদারী শিক্ষা দিয়েছে। পাশাপাশি বিটস পিলানির স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ পড়ুয়াদের নতুন দিশা দেখিয়েছে।

Advertisement

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিসিএস অ্যাকাডেমিক অ্যালায়েন্সের প্রধান ড. কে এম সুচীন্দ্রন। তিনি বলেন, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি এই ধরণের হাতে-কলমে কাজ করার মানসিকতাই কর্মজীবনে সাফল্য আনে। প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অধ্যাপক দিলিপ ভট্টাচার্য জানান, ছাত্রছাত্রীদের ভুল থেকে শেখার এবং নতুন কিছু করে দেখানোর আদর্শ ক্ষেত্র হল এই হ্যাকাথন।

এওটি-র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক জগন্নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণের স্বপ্নকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছে এই আয়োজন। বর্তমান চেয়ারপার্সন অধ্যাপক অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই উদ্ভাবনী মঞ্চ আগামী দিনে শিল্পমহল ও শিক্ষাক্ষেত্রের দূরত্ব আরও কমিয়ে আনবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। সব মিলিয়ে, ৩৬ ঘণ্টার এই লড়াই শেষে এওটি ক্যাম্পাস থেকে পড়ুয়ারা কেবল পুরস্কার নয়, সাথে নিয়ে গেলেন ভবিষ্যতের একগুচ্ছ স্বপ্ন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.