Education

ফেলে দেওয়া খাতার পাতায় মিটবে অভাব, প্রান্তিক পড়ুয়াদের জন্য কলকাতায় বিশেষ উদ্যোগ

ফেলে দেওয়া আবর্জনার স্তূপ। তার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে শিক্ষার আলো। হাতেনাতে প্রমাণ করল কলকাতার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা পুরনো খাতার অব্যবহৃত সাদা পাতা। এখন থেকে প্রান্তিক শিশুদের পড়াশোনার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে সেই উদ্‌বৃত্ত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১১, ২০২৬, ১৩:৪৮

options
link
ফেলে দেওয়া খাতার পাতায় মিটবে অভাব, প্রান্তিক পড়ুয়াদের জন্য কলকাতায় বিশেষ উদ্যোগ
খাতার অভাবে যেন কোনও শিশুর পাঠ মুখ থুবড়ে না পড়ে, অভিনব উদ্যোগ কলকাতার সংস্থার। নিজস্ব ছবি।

ফেলে দেওয়া আবর্জনার স্তূপ। তার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে শিক্ষার আলো। হাতেনাতে প্রমাণ করল কলকাতার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা পুরনো খাতার অব্যবহৃত সাদা পাতা। এখন থেকে প্রান্তিক শিশুদের পড়াশোনার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে সেই উদ্‌বৃত্ত। একজনের কাছে যা ব্রাত্য, অন্যের কাছে তা-ই সম্বল। শহর কলকাতার এক অভিনব উদ্যোগ। ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে সাধারণ মানুষের মনে।

Advertisement

প্রতি বছর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেই বাড়ির স্টোররুমে ভিড় জমায় গত বছরের পুরনো খাতার বান্ডিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই খাতাগুলি নামমাত্র দামে পুরনো কাগজের দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অথচ একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, অধিকাংশ খাতার অর্ধেকের বেশি পাতা সাদা এবং অক্ষত থেকে গিয়েছে। এই অপচয় রুখতেই ময়দানে নেমেছে ‘উৎকর্ষে আরোহণ’ নামে একটি সংস্থা। তাদের মূল লক্ষ্য, খাতার অভাবে যেন কোনও শিশুর পাঠ মুখ থুবড়ে না পড়ে।

Advertisement

সংস্থার কর্মীরা কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন স্কুল এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ধরনের পুরনো খাতা সংগ্রহ করছেন। এরপর অত্যন্ত যত্ন সহকারে খাতাগুলি থেকে সাদা পাতাগুলি আলাদা করা হচ্ছে। সেই পাতাগুলি পৌঁছে যাচ্ছে বউবাজারের একটি বাইন্ডিং কারখানায়। সেখানে অবহেলায় পড়ে থাকা আলগা পাতাগুলিই মলাটবন্দি হয়ে নতুন রূপ পাচ্ছে। এই নতুন খাতাগুলি তুলে দেওয়া হচ্ছে গ্রামাঞ্চল ও শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকার অভাবী পড়ুয়াদের হাতে।

Advertisement

সংস্থার কর্ণধার অনুপম মজুমদার বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেক খাতাতেই অর্ধেকের বেশি পাতা ব্যবহারই হয় না। সেই পাতাগুলি নষ্ট না করে যদি নতুন খাতা তৈরি করা যায়, তাহলে অনেক শিশুর উপকার হবে। আমাদের উদ্দেশ্য, খাতার অভাবে কোনও ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা যেন থেমে না যায়।” এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়ে খুশি অম্বিকা কানোয়ার্জির মতো খুদে পড়ুয়ারাও। আগে যে পাতাগুলি সে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিত, এখন নিজেই তা সযত্নে গুছিয়ে রাখছে। অম্বিকার কথায়, আমার না-লেখা পাতায় অন্য কেউ লিখতে পারবে জেনে খুব ভালো লাগছে। বাইন্ডিং কারখানার কর্মীরাও বাড়তি খাটুনি হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতার টানে।

পরিবেশবিদেরা মনে করছেন, কাগজের এই পুনর্ব্যবহার পরোক্ষভাবে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে। একদিকে যেমন গাছের অপচয় কমছে, অন্যদিকে তেমনই অভাবী ঘরের শিশুদের শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগ এক বড় সামাজিক বার্তা দিচ্ছে— অবহেলায় ফেলে দেওয়া সামান্য বস্তুও সংকল্পের ছোঁয়ায় হয়ে উঠতে পারে অন্যের জীবনের অমূল্য সম্পদ। দিনশেষে এই ছোট ছোট সাদাকালো অক্ষরগুলোই অভাবী শিশুদের জীবনে বড় রামধনু হয়ে ধরা দিচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.