শুভদীপ রায়নন্দী, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন। করোনা ভাইরাসকে (Coronavirus) যে পরাজিত করবেন, সেটাই প্রত্যাশিত ছিল। টানা ২১ দিনের লড়াইয়ের পর মারণ জীবাণুকে ঘায়েল করে ঘরে ফিরে এলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক তথা পুরনিগমের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য। করোনাজয়ী কমরেডকে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নিলেন সহকর্মীরা। অভিনন্দন জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরাও। আপাতত নিয়ম মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে (Home Quarantine) থাকবেন তিনি।
সোমবার দুপুর দুপুর ১২টা নাগাদ মাটিগাড়ার COVID হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট পান অশোক ভট্টাচার্য। সপ্তাহ তিনেক আগে করোনা পজিটিভ হয়ে এখানেই ভরতি হয়েছিলেন তিনি। এখানকার চিকিৎসা পরিষেবায় অত্যন্ত খুশি বর্ষীয়ান বাম বিধায়ক। চিকিৎসক থেকে শুরু হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরাও তাঁকে করোনা যুদ্ধে সাহস আর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। আর তাতে ভর করেই তিনি সুস্থ হয়েছেন বলে মনে করেন। তাই এদিন হাসপাতাল থেকে বেরনোর আগে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অশোকবাবু। বলেছেন, ”বিশ্বাস ছিল যে এই লড়াইটা জিততে পারব। এখানে এসে এঁদের দেখে সেই বিশ্বাস আরও শক্তপোক্ত হয়েছে। এক নার্স আমাকে লিখে পাঠিয়েছেন যে আমি সাহসী যোদ্ধার মতো লড়েছি। ওঁরা সকলে এই সাহস না দিলে পারতাম না হয়ত।” তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে সংগ্রামী অভিবাদন জানান হাসপাতালের কর্মীরাও।
[আরও পড়ুন: দুপুরে শপিং মলে গিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী, দুর্গাপুরের ঘটনায় দানা বাঁধছে রহস্য]
রবিবারই হাসপাতাল থেকে দীর্ঘ একটি বার্তা দিয়ে করোনাকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। বলেছিলেন, ”করোনা মানেই মৃত্যু নয়। মরার আগে মরব কেন?” এই সংকটকালে কীভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত এক করে নিজেদের দায়িত্ব পালনে অটল হয়ে রয়েছেন, তা নিয়ে অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন। গত সপ্তাহেই তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। তারপরও নিরাপত্তার স্বার্থে বর্ষীয়ান নেতাকে কিছুদিন হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আজ, ২১ দিনের মাথায় বাড়ি ফেরার অনুমতি পেলেন তিনি।
[আরও পড়ুন: কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দরে ট্রলারের ব্যাটারি বিস্ফোরণ, জখম ১ মৎস্যজীবী]
তবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বাড়ি নয়, এদিন সোজা অশোকবাবুর গাড়ি গিয়ে থামে শিলিগুড়ি শহরে সিপিএম পার্টি অফিসের সামনে। তবে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি গাড়ি থেকে কোথাও নামেননি তিনি। পার্টি অফিসের সামনে তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই সহকর্মীরা পুষ্পবৃষ্টি করেন। তিনিও গাড়ির ভিতর থেকে হাত নাড়িয়ে সকলের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর গাড়ি চলে যায় ২০ নং ওয়ার্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে। স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে কাছে টেনে নেন।
সর্বশেষ খবর
-
বোয়িংয়ের সফটওয়্যারে ত্রুটি, ঝুঁকির মুখে ভারতে ব্যবহৃত ৯৬টি বিমান
-
দুর্নীতি পাঁক থেকে বেরতে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগে নয়া তালিকা প্রকাশ এসএসসি-র
-
শুটিংয়ে ফের লক্ষ্যভেদ, ভারতে এল এশিয়াডের পঞ্চম সোনা, পদক সংখ্যায় হাফসেঞ্চুরি!
-
রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারে প্রবল বিস্ফোরণ, হুড়মুড়িয়ে ভাঙল বাড়ি, উত্তরপ্রদেশে মৃত ৪
-
কুনালের পর অগ্নিমিত্রার সঙ্গে মঞ্চভাগ, ‘দলবদলু’ তকমা জুটতেই শ্রীলেখার হেঁয়ালি, ‘ভাবনা তো ট্যাক্স ফ্রি’