হিন্দুর মৃতদেহ সৎকার মুসলিমদের

করোনা আতঙ্কে হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে এল না কেউ, ‘রাম’ ধ্বনি তুলে কাঁধ দিলেন মুসলিমরা

নেটিজেনরা বলছেন, “এটাই আমাদের প্রকৃত ভারতবর্ষ।”

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২০, ১৭:৪৯

options
link
করোনা আতঙ্কে হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে এল না কেউ, ‘রাম’ ধ্বনি তুলে কাঁধ দিলেন মুসলিমরা
ছবি: প্রতীকী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে বর্তমানে একটাই আতঙ্ক-করোনা। অতঃপর কেউ একটু অসুস্থ হলেই কিংবা শারীরিক কোনও অসুস্থতা দেখা দিলে, অথবা কারও মৃত্যু ঘটলেই, নেপথ্যে ‘করোনা’কে দায়ী করা হচ্ছে। বুলন্দশহরের বাসিন্দা রবিশংকরের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় সেই প্রৌঢ়ের। প্রতিবেশীরা মনে করেছিলেন করোনা সংক্রমণের জেরেই হয়তো মৃত্যু হয়েছে রবিশংকরের। তাই শেষ দেখাটুকুও কেউ দেখতে আসেননি। পাড়া-প্রতিবেশী তো আসেনই-নি। এমনকী আত্মীয়স্বজনরা অবধি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অসহায়, শোকাহত পরিবারটির কাছ থেকে। তাহলে, সৎকার কী করে হবে? চিন্তায় পড়ে যান রবিশংকরের পরিবার। কারণ, শ্মশান অবধি কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ারও যে কেউ নেই!

Advertisement

রবিশংকরের পাড়ার পাশেই রয়েছে মুসলিম অধুষ্যিত এক এলাকা। খবর জানাজানি হতেই, একদল মুসলিম যুবক তৎক্ষণাৎ চলে আসেন মৃত হিন্দু প্রৌঢ়ার বাড়িতে। জানতে পারেন, কাঁধ দেওয়ার কিংবা সৎকার করার কেউ নেই। অসহায় পরিবারের চরম বিপদ দেখে ওই মুসলিম যুবকরাই তাঁর পরিবারকে আশ্বাস দেন যে, সৎকারের সমস্ত ব্যবস্থা তাঁরাই করবেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মাথায় ফেজ টুপি, আর মুসলিম যুবকদের মুখে তখন ‘রামনাম সত্য হ্যায়’ ধ্বনি। কাঁধে করে শ্মশান অবধি নিয়ে রবিশংকরের সৎকারের ব্যবস্থাও তাঁরাই করলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিওই এখন ভাইরাল। সম্প্রীতির দৃশ্যতেই মজেছেন নেটিজেনরা। বলছেন, “এটাই আমাদের প্রকৃত ভারতবর্ষ।” কেউ বা কাজী নজরুলের কবিতার লাইন উল্লেখ করে বলছেন, ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।’

Advertisement

[আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় সরকারের পাশে দেবস্থান, ৫১ কোটি টাকা অনুদান সাঁইবাবা ট্রাস্টের]

এদেশে হিন্দু-মুসলিমদের লড়াই কিছু কম হয়নি। গত বছরেরই কথা। মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। গোমাংস বিক্রি করার জেরে খুনও হতে হয়েছে মুসলিম যুবককে। জামিয়া মিলিয়ার কথাই ধরুন কিংবা সাম্প্রতিক অতীতের জ্বলন্ত দিল্লি ইস্যু, ধ্বজাধারী রাজনীতির শিকারে এদেশে যে বার বার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়েছে, তার উদাহরণ রয়েছে ঝুড়ি ঝুড়ি। দাবানলের মতো সমাজের সুস্থ চিন্তাভাবনাকে গ্রাস করছে বিভাজননীতি। অতীতেও করেছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশজুড়ে এই লকডাউনের মাঝে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে যে দৃশ্য দেখা গেল, তাতেই ধন্য ধন্য করছেন নেটিজেনরা। আমাদের দেশে সম্প্রীতির এরকম নজিরও কিছু কম নেই বইকী! ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলোই যে  মানবতার দলিল হয়ে রয়ে যাবে, তা বোধহয় আলাদা করে আর বলার প্রয়োজন পড়ে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

[আরও পড়ুন: নামেই বিপত্তি, ভাইরাস দাপট বাড়াতেই বিদ্বেষের শিকার উত্তরপ্রদেশের ‘করোনা’র বাসিন্দার]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.