‘‘জোচ্চুরি করে আমাদের হারানো হয়েছে।’’
‘‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ফিফা।’’
আরও পড়ুন:
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এই দাবি করেছেন মিশর কোচ হোসেম হাসান। এখানেই থামেননি তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারের পর মেসিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, ‘‘আরও একটি বিশ্বকাপ জেতার জন্য ওদের শুভেচ্ছা! ফিফা ওদের বিশ্বকাপটা দিয়ে দিলেই পারে!’’
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তখন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ২-০ এগিয়ে মিশর। যদিও তাদের আরও একটি গোল বাতিল করেছিলেন রেফারি ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ার। ম্যাচের বয়স তখন ৬০ মিনিটের কাছাকাছি। কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে অসাধারণ এক মুভে সালাহর পাস থেকে গোল করলেন মোস্তাফা জিকো। অথচ ভিএরআর দেখে রেফারি বললেন, যে সময় কাউন্টার শুরু করেছিল মিশর, তখন নাকি লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল। অদ্ভুত এই যুক্তিতে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। তারপরও অবশ্য ২-০ করে মিশর। এই গোল বাতিল না হলে, যা হতে পারত ৩-০। এখানেই থামেনি বিতর্ক। আর্জেন্টিনার দু’টি গোলের ক্ষেত্রেও উঠল বিতর্ক। ৭৯ মিনিটে রোমেরো যখন ব্যবধান কমান, তখন মিশর ফুটবলাররা অফসাইডের দাবি তোলেন। রেফারি একবারও ভিএআর দেখার প্রয়োজনই মনে করেননি। তেমনই উত্তেজিত ভাবে বলা হচ্ছে, ৬০ মিনিটে মিশরের গোল বাতিল হল, তার থেকেও স্পষ্টভাবে ৮৩ মিনিটে যখন মেসি সমতা ফেরালেন, সেই আক্রমণ যে মুভ থেকে শুরু হয়েছিল, তাতে সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করা হয়েছিল। যা থেকে পেনাল্টি পেতে পারত মিশর। অথচ এক্ষেত্রেও ভিএআর না দেখে আর্জেন্টিনাকে গোল দিয়ে দেওয়া হল। এরপর মিশর বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ শুরু হতে যথেচ্ছভাবে কার্ড দেখানো তো হলই।

এরপর যা হওয়ার, হল ঠিক তেমনটাই। ম্যাচ শেষে প্রথমে সাংবাদিক সম্মেলন ও তারপর মিক্সড জোনে গিয়ে অগ্ন্যুৎপাত করেন মিশর কোচ হোসেম। বলেন, ‘‘শুরু থেকেই আমাদের হারাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন রেফারি। গোটা ম্যাচ একপেশে খেলিয়ে গেলেন। ম্যাচে হার-জিত থাকে। কিন্তু যেভাবে আমাদের হারানো হল, মানা যায় না। আমরা হারিনি। জোচ্চুরি করে হারানো হয়েছে।’’ এরপরই যোগ করেন, ‘‘আর্জেন্টিনাকে আবার জেতাতে বদ্ধপরিকর ফিফা। মেসিকে দৌড়ে রাখতেই এত কিছু। চতুর্থবার ট্রফি জেতার জন্য এখন থেকেই ওদের অভিনন্দন।’’ ম্যাচের পর রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে প্রথমে ড্রেসিংরুমে ও পরে সেখান থেকে টিম বাসে উঠে হোটেল যান মিশর ফুটবলাররা। হারের জন্য তাঁদের চোখেমুখে কোনও যন্ত্রণা ছিল না। যা ছিল, তা হল অন্যায়ের প্রতিবাদ। দিনের অন্যতম গোলদাতা মোস্তাফা জিকো বলেন, ‘‘রেফারি চাননি, আমরা ম্যাচটা জিতি। মাঠে নেমেছিলাম বিশ্বসেরাদের বিরুদ্ধে খেলব বলে। যদি বুঝতাম ওরা নিজেদের দমে জিতেছে, কিছু বলার ছিল না। আজ যা হল, তা সবাই দেখেছে।’’

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে রীতিমতো ট্রেন্ডিং হতে শুরু করলেন দিনের রেফারি লেটেক্সিয়ার। তাঁর প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে লিগ ওয়ান থেকে অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ- লেটেক্সিয়ার যেখানে, বিতর্ক সেখানে। প্রশ্ন উঠছে, একটি ম্যাচেই যদি এভাবে এতগুলো বাজে সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভিএআর প্রযুক্তির কী প্রয়োজন? উঠছে এই প্রশ্ন। নেট নাগরিকরা আবার প্রশ্ন তুলছেন, ’৮৬ সালে না হয় প্রযুক্তি ছিল না বলে মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করেছিলেন। কিন্তু আজকের এই নিকৃষ্ট সিদ্ধান্তের পিছনে কারণ কী? ব্যাখ্যাই বা কী?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মহিলা চিকিৎসককে মারধর শিব সেনা নেতার! ভিডিও ভাইরাল হলেও ক্ষমা চাইতে নারাজ রমেশ
-
উত্তরে প্রবল দুর্যোগ, দক্ষিণেও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, কেমন থাকবে কলকাতার আবহাওয়া?
-
৫ দিনে ৭ গ্রামজুড়ে চিরুনি তল্লাশি, অবশেষে খতম কাশ্মীরের শীর্ষ লস্কর জঙ্গি জাকির
-
‘ঠিক হয়েছে, কর্মফল পেয়েছে’, বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসকে শেষ দেখাও দেখবেন না মা!
-
টিম ইন্ডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার, ব্যর্থ হয়েও উজ্জ্বল বৈভব! লজ্জা ঢাকতে কী বললেন শ্রেয়স?
