জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: করোনা সংক্রমণ বাড়ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। বাড়ছে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজও। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি জায়গা Containment Zone হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছ। নতুন করে Containment Zone হয়েছে বনগাঁ পুর এলাকার ৬ টি ওয়ার্ড। আজ সকাল থেকে সেখানে লকডাউন সফল করতে অত্যন্ত কড়া হাতে নেমেছে পুলিশ। দোকান-বাজার বন্ধ তো বটেই। এমনকী সকালে বনগাঁ শহরের রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংক খুললেও , পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। ফলে পরিষেবা না পেয়ে কার্যত হতাশ গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্তা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের নির্দেশেই তাঁরা ব্যাংকের দরজা বন্ধ করেছেন। এনিয়ে দিনের শুরুতেই অসন্তোষের পরিবেশ বনগাঁ এলাকায়।
সম্প্রতিই বনগাঁর ৬টি ওয়ার্ড এলাকা – ১, ২, ৪, ১০, ১৩ নং ওয়ার্ড এলাকাকে Containment Zone ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিও পড়ছে Containment Zone-এ। ওই সড়ক গুলির আশপাশে থাকা বাজার – নিউ মার্কেট, নেতাজি মার্কেট, রেলবাজার, কিষাণ মান্ডি- সব বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডগুলির বাকি অংশ বাফার জোন। তাই কোনওরকম যান চলাচলও নিষিদ্ধ। আর তা যাতে ঠিকমত পালন করা হয়, তার জন্য বেশ তৎপর পুলিশ। এলাকার মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল বসানো হয়েছে বাঁশ দিয়ে গেট করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে বাইরে বেরনো ব্যক্তিদেরও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷
[আরও পড়ুন: লকডাউনে দুস্থ মানুষদের পাশে তৃণমূল, বিধায়কের উদ্যোগে বসিরহাটে বসল ‘ফ্রি বাজার’]
সেই একই রকম তৎপরতা দেখিয়ে কার্যত ব্যাংকের ঝাঁপ ফেলানো হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও Containment Zone বা অন্য কোনও জোনে ব্যাংক পরিষেবা দেওয়া যাবে না, এরকম কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকের কাজ হওয়ার কথা। বনগাঁয় দেখা গেল ভিন্ন ছবি। সকালের দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের কাজ শুরু হয়। ব্যাংক খোলা দেখে অনেকেই সেখানে যান। কিন্তু বেলা একটু বাড়তেই টহলরত পুলিশ কর্মীরা তা বন্ধ করে দেন। ফলে শূন্য হাতেই ফিরতে হয় গ্রাহকদের। টাকা তুলতে গিয়ে, সেই কাজও হয় না। কিন্তু নিয়ম তো এমনটা নয়,লকডাউনে প্রশাসনের নির্দেশ মেনেও তো ব্যাংকের পরিষেবা দেওয়া যাবে – একথার জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন ব্যাংক কর্তা। তিনি এটুকু বলেই দায় সেরেছেন – প্রশাসনের নির্দেশে ব্যাংক বন্ধ হয়েছে, পরিষেবা দেওয়া যাবে না।
[আরও পড়ুন: মগরাহাটে করোনা আক্রান্ত আরও ৩ নাবালিকা, কোয়ারেন্টাইনে পরিবার]
রবিবারই এই এলাকাগুলিতে ২১দিনের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সাহায্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়ার কথা নাগরিকদের। তবে ব্যাংকের কাজ তো আর প্রশাসনের সাহায্যে হওয়ার নয়। তাই মাসের প্রায় মধ্যভাগে ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়েও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বেশ সমস্যায় গ্রাহকরা। লকডাউন সফল করতে পুলিশের এহেন ভূমিকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তাঁদের। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যাংকের সামনে ভিড় হচ্ছিল। তাই মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
এলেন-দেখলেন-জয় করলেন…., ফ্রিকিকে মেসি ম্যাজিক, জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
-
আমেরিকার হামলার বদলা! কুয়েত-বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে গোলাবর্ষণ ইরানের, কী বললেন ট্রাম্প?
-
‘কলকাতা বইমেলা একটি সংগঠনের নয়’, প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে উদ্যোগী সংঘ
-
শ্যামাপ্রসাদের ভিটে সংস্কারে ২০০ কোটি, বসবে ১২৫ ফুটের মূর্তিও, বদলের আশা পর্যটন মানচিত্র
-
জুলাইতেই জ্বালানি মানচিত্রে নতুন অধ্যায়, অশোকনগরে শুরু বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন