কোটায় আটকে পড়া পড়ুয়া

‘নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরব ভাবিনি’, রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদজ্ঞাপন কোটায় আটকে পড়া পড়ুয়াদের

স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই বাড়ি ফেরার অনুমতি পাবে তারা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২০, ১৭:২৭

options
link
‘নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরব ভাবিনি’, রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদজ্ঞাপন কোটায় আটকে পড়া পড়ুয়াদের

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: বাড়ি থেকে বহু কিলোমিটার দূরে পড়তে গিয়েছিল তারা। কিন্তু আচমকা দেশজুড়ে লকডাউন জারি হয়। বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে আটকে পড়ে। সমস্যায় পড়ে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীরা। তবে রাজ্য সরকার কথা দিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনবে। কথা রাখল সরকার। বাসে চড়ে বাংলায় ফিরল রাজস্থানের কোটায় পড়তে যাওয়া একদল পড়ুয়া। বিপদের দিনে সরকারের সাহায্য পেয়ে আপ্লুত তারা। বাড়ি ফিরতে পারায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা।

Advertisement

শুক্রবার আসানসোলের ঝাড়খণ্ড সীমানার ডুবুডি চেকপোস্টে বাসগুলি এসে দাঁড়ায়। তাঁদের অভ্যর্থনা জানান পুলিশ কর্তারা। কুলটির চৌরঙ্গি মোড়ে একটি রিসর্টে ভিন জেলার পড়ুয়াদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। মন্ত্রী মলয় ঘটক নিজে সকলের সঙ্গে কথা বলেন। ভিনজেলার পড়ুয়াদের জেলাভিত্তিক বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বাংলায় ঢুকতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সবাই। এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদজ্ঞাপন করে তারা। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Student-returning-home

Advertisement

[আরও পড়ুন: বিজেপির মদতে চাল চুরি করছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, তৃণমূলের অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার]

বারাকপুরের রুদ্রনীল বিশ্বাস, সাগর বিশ্বাস এবং কলকাতার শুভম সাউও বাড়ি ফিরছে। তারা বলে, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অশেষ ধন্যবাদ। তাঁর আশীর্বাদেই বাড়ি ফিরতে পারছি। ১৫০০ কিলোমিটার পেরিয়ে বাসে করে ফিরছি। মুখ্যমন্ত্রী এভাবে পাশে না দাঁড়ালে বাড়ি ফিরতে পারতাম না। মেস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খাবার জুটছিল না। কীভবে বাড়ি ফিরবো তা ভাবতেই ভয় লাগছিল। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যেদিন আশ্বাস দিলেন সেদিন বুকে বল এসেছিল।” প্রশাসনের তরফে ঠিক কেমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল? ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পড়ুয়াদের দাবি, “এলাহি আয়োজন করেছে প্রশাসন। কোনও অসুবিধা হয়নি। এভাবে এত নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারবো তা ভাবতেই পারিনি।” কোটায় আটকে পড়া রুদ্রনীল বিশ্বাসের মা স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যিই মায়ের মতো তাই এই ব্যবস্থা তিনি করেছেন। আর প্রশাসনের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ তাদের এই পরিশ্রমের জন্য। আজ বুঝতে পারছি বাংলার প্রশাসন যথেষ্ট মানবিক।”

Student-returning-home

 

মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পড়ুয়াদের তদারকি করেন। ছিলেন ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা। বাস সাড়ে ১১ টা নাগাদ বাঁশকোপাতে পৌঁছয়। হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরের মোট ৭৫৯ জন পড়ুয়া বাঁশকোপার লজে বিশ্রাম নেয়। শারীরিক পরীক্ষা করা হয় তার। সকালের এবং দুপুরের খাবারেরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেখান থেকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। দেওয়া হয় মাস্ক এবং স্যানিটাইজারও। দুর্গাপুর মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে বলেন, “৩৪টি বাস নিজের নিজের জেলায় পৌঁছে দেবে তাদের। জেলা প্রশাসন তখন তাদের নিজের নিজের বাড়ি পৌঁছে দেবে। সেখানে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।”

Medical Test

[আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যুতে হাসপাতালে ভাঙচুর, রণক্ষেত্র সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ]

এদিকে, রাজস্থানের কোটা থেকে আসা পড়ুয়াদের শান্তিনিকেতন থানার গোয়ালপাড়ায় একটি বৃদ্ধাশ্রমে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা তাতে আপত্তি জানায়। বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ-সহ বোলপুর ব্লকের বিডিও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এর আগে পাড়ুইয়ে কোয়ারেন্টাইন সেণ্টার করাকে কেন্দ্র করেও গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়। তাতে প্রাণও যায় একজনের।

দেখুন ভিডিও:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.