কোথাও পোড়া মাছ, কোথাও নিরামিষ, কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর ভোগেও নানা চমক
চলুন জেনে নেওয়া শহরের কোন বনেদি বাড়িতে ভোগ হিসাবে দেবীকে কী নিবেদন করা হয়।
১৬১০ খ্রিস্টাব্দ, কলকাতার বুকে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হল বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের বাড়িতে। আটচালার দুর্গাপুজোর বোধন হয় কৃষ্ণানবমী তিথিতে। একসময় পুজোয় ১৩টি পাঁঠা, একটি মোষ, আখ আর চালকুমড়ো বলির রীতি ছিল। এখন মোষবলি বন্ধ। এই বাড়িতে মা’কে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। ফল, মিষ্টি, লুচি, তরকারি, খিচুড়ি, ভাত, পোলাওয়ের সঙ্গে ল্যাটা মাছ পোড়া দেওয়া হয়। দশমীর দিন দেওয়া হয় পান্তাভাত, কচুশাক।
আরও পড়ুন:
ছাতুবাবু ও লাটবাবুর পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে নানা কাহিনি। ১৭৮০ সালে ঈশ্বর রাম দুলাল দে এই পুজো শুরু করেন। মৃত্যুর পর দুই ছেলে আশুতোষ ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথ ওরফে লাটুবাবুর আমলে পুজোর রমরমা। ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয় ঘিয়ে ভাজা লুচি। সঙ্গে ছানা, ধোঁকা, স্টাফ ক্যাপশিয়াম, ফুলকপির তরকারি। মায়ের ভোগে নুন দেওয়ার চল নেই। নৈবেদ্যতে থাকে চাল, ফল, মিষ্টি ও দই।
আরও পড়ুন:
কথিত আছে, জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়িতে এসে মা নাকি গয়না পরেন। আর কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্র বাড়িতে ভোজন করেন। আর নাচ দেখেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। শতাব্দী প্রাচীন এই বাড়ির ভোগে রোদে শুকনো মুগডাল দিয়ে খিচুড়ি তৈরি করা হয়। সঙ্গে নানা ভাজা সবজি, তরতকারি এবং খাঁটি মাখনের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এছাড়া নানারকমের মিষ্টি, লুচি তো রয়েছে।