Durga Puja 2026

ঠাকুরদালান থেকে বিতাড়িত হতেই শুরু নিজেদের দুর্গা আরাধনা! পুরুলিয়ায় ধীবরদের পুজো এবার শতবর্ষে

এবার পুরুলিয়া শহরের এই পুজো ১০০ বছরে পদার্পণ করছে। এই মন্দির ছুঁয়ে থাকা রাস মেলায় মণ্ডপ সজ্জায় তুলে ধরা হচ্ছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গকে।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ২০:৩৭

options
link
ঠাকুরদালান থেকে বিতাড়িত হতেই শুরু নিজেদের দুর্গা আরাধনা! পুরুলিয়ায় ধীবরদের পুজো এবার শতবর্ষে
চলছে ধীবর সমিতির দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ। নিজস্ব ছবি।

নিচু জাত বলে দুর্গা মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন পুরোহিতরা। তাই আর মহাঅষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়া হয়নি। অপমানে, অভিমানে, ক্ষোভে সেদিনই বৈঠক ডেকেছিলেন ধীবররা। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাঁরাই দুর্গা মন্দির গড়ে মায়ের পুজো দেবেন। আর যাবেন না পুরুলিয়া শহরের চকবাজারের ওই ঠাকুরদালানে!

Advertisement

ব্যস, সেই সিদ্ধান্ত মতোই শুরু হয়ে যায় কাজ। ওই অপমানের ঠিক এক বছর পর ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে খড়ের দুর্গা মন্দির বানিয়ে সেখানেই মায়ের পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়। ততক্ষণে ওই মন্দিরের জন্য ২ বিঘা জমি দান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুরুলিয়া ধীবর সমিতির ওই দুর্গা পুজোয় পুরোহিতের আসনে কে বসবেন ? সমস্ত কিছু আয়োজন করেও পুরোহিত পেতে নাকাল হন জেলেরা। পুরুলিয়া শহরের পুরোহিতদেরও একই কথা, নিচু জাতের দুর্গা পুজোয় তাঁরা পূজাপাঠ করবেন না! এই সময় দেবী ওই ধীবর সমিতির এক সদস্যকে স্বপ্নাদেশ দেন। স্বপ্নে মা দুর্গা বলেন, পুজো করবে বাঁকুড়ার মেজিয়ার পুরোহিত। সঙ্গে সঙ্গে ধীবররা মেজিয়ায় যান। পাগল ঠাকুর নামে চক্রবর্তী পরিবারের এক পুরোহিত পুজো করতে রাজি হন। অপমান, অভিমানের জবাব দিয়ে খড়ের দুর্গা মন্দিরেই বেজে ওঠে ঢাক। হয় মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি। এই ভাবেই একটু একটু করে আজও মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে। পুজোর ১০০ বছরেও চোখ জুড়িয়ে যাওয়া মন্দিরের ফিনিশিং টাচ দেওয়ার কাজে বিরাম নেই। এদিকে দরজা বন্ধ করে আলো জ্বালিয়ে ঠাকুরদালানে মায়ের রূপ ফুটিয়ে তুলছেন ধীবর সমিতির সদস্য তথা মৃৎশিল্পী শান্তনু ধীবর। ২২ ফুটের সাবেকি প্রতিমা চোখ টানছে তাঁর নিপুন হাত।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এবার পুরুলিয়া শহরের এই পুজো ১০০ বছরে পদার্পণ করছে। এই মন্দির ছুঁয়ে থাকা রাস মেলায় মণ্ডপ সজ্জায় তুলে ধরা হচ্ছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গকে। কেদারনাথ থেকে কাশীধাম। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গকে তুলে ধরে ধীবর সমিতি ওই শিল্প কলার নাম দিয়েছে নীলকণ্ঠ ধাম। ভাস্বর রাহুল দাসের ছোঁয়ায় মণ্ডপে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ ফুটে উঠবে। কলকাতার শহরতলি এলাকা থেকে আলোকসজ্জা যাচ্ছে। এই পুজোর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হল একাদশীর আতসবাজি প্রদর্শন। এবার তা আরও নজরকাড়া হবে। নীলকন্ঠ ধামের শিল্পশৈলীকে বাঁচিয়ে রাতের আকাশে প্রদর্শিত হবে আতশবাজি।

Advertisement

ধীবর সমিতির পিওন বলে পরিচিত মধুসূদন ধীবর বলেন, ” নিচু জাত বলে যেভাবে আমাদের মহাঅষ্টমীর দিনে তাড়িয়ে দিয়েছিল তার দুঃখ-কষ্ট আমরা কোনও দিন ভুলব না। অপমান থেকেই আমাদের পুজোর জন্ম। আমরা কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা করতে চাই না। শুধু অতীতের অপমান মনে রেখে মায়ের চরণে নিজেদের সপেঁ দিয়েছি। আমাদের পুজোর ১০০ বছরে থাকছে নানান চমক।” এই ধীবর সমিতি তাদের পুজোর জন্য কোন চাঁদা আদায় করে না। মায়ের নামে যে পুকুর রয়েছে এবং যে মাছের ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে চলছে সেখান থেকেই দুর্গাপুজোর খরচ ওঠে। আজও মেজিয়ার চক্রবর্তীরা বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন। তাই এবার ১০০ বছরের পুজোয় বর্তমান পুরোহিত নন্টু চক্রবর্তীর হাত ধরেই মায়ের আরাধনা হবে। আজ থেকে ১০০ বছর আগে কেশব ধীবর, তিনকড়ি ধীবর, বঙ্কু ধীবররা এই পুজো শুরু করেছিলেন। মন্দিরের জায়গায় আগে ছিল বিশাল গর্ত। শহরের সমস্ত জল এখানে জমা হত। সেই সময় মধ্যবয়স্ক থেকে বৃদ্ধরা বালি, পাথর, সিমেন্ট নিয়ে গর্ত ভরাট করে ভিত তৈরি করেছিলেন। আজ এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ২২৫টি অংশীদার। যা আগে ছিল মাত্র ৪৬ টি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.