বঙ্গ ইতিহাসের পরতে পরতে যোগ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। রাজ্যে পালাবদলের পর বারবার নতুন বিজেপি সরকারের মুখে শোনা গিয়েছে দেশভাগের সময় বঙ্গরক্ষায় শ্যামাপ্রসাদের অবদানের কথা। আর এবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের সঙ্গেও জুড়ে যাচ্ছে ভারতীয় জন সংঘের প্রতিষ্ঠাতার নাম। গত বছর পর্যন্ত কলকাতার যে পুজো মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো নামেই খ্যাত ছিল, সেই সুরুচি সংঘের এবার থিমভাবনায় এবার ফুটে উঠবে ‘ভারত কেশরীর’ ইতিকথা। থিমের নাম ‘উৎস’।
সুরুচির মণ্ডপে প্রবেশ করে সেই ইতিহাসেরই সম্মুখীন হবেন দর্শনার্থীরা। শিল্পী অনির্বাণ জানাচ্ছেন, মণ্ডপে থাকবে শ্যামাপ্রসাদের বিরাট মূর্তি। বাঙালির বিস্মৃতির পাতায় চলে যাওয়া নানা ইতিহাস।
এবার রাজ্যজুড়ে আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়েছে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। সে কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাবে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ। শ্যামাপ্রসাদ ও ‘হিন্দু মহাসভা’ একটি আপসহীন গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনমতকে বাংলা ভাগের পক্ষে নিয়ে আসতে তৎপর হয়েছিলেন। ভাইসরয় ওয়াভেলকে লেখা ১৯ মার্চ, ১৯৪৭ সালের চিঠিতে গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, বাংলা ভাগের আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন মুখ্য প্রবর্তক। তিনি হিন্দু বাঙালিদের ভারতভুক্ত করার পক্ষে কেবল জোরালো মত রেখে থেমে যাননি, বাংলা ভাগ আটকাতে যে সব শক্তি পরস্পর হাত মিলিয়েছিল, তাদের মধ্যে লিগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশকে একই বন্ধনীতে রেখে সমালোচনাও করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি বাংলায় সংখ্যাগুরু মুসলিম লীগের আধিপত্য ও হিন্দুদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব মেনে নিতে পারেননি। জিন্নার উগ্রতার রাজনীতিকেও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অমলেশ ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন যে, একজন ‘উদারপন্থী’ হিন্দু রূপে শ্যামাপ্রসাদ হিন্দুদের ‘ভালো’র জন্য ফজলুল হকের সঙ্গে হাত মেলাতে বা কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকী বাংলা ভাগের প্রশ্নে বঙ্গীয় আইনসভার হিন্দু সদস্যদের তিনি যথেষ্ট প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সুরুচির মণ্ডপে প্রবেশ করে সেই ইতিহাসেরই সম্মুখীন হবেন দর্শনার্থীরা। শিল্পী অনির্বাণ জানাচ্ছেন, মণ্ডপে থাকবে শ্যামাপ্রসাদের বিরাট মূর্তি। বাঙালির বিস্মৃতির পাতায় চলে যাওয়া নানা ইতিহাস। তাঁর বিষয়ে জানা-অজানা তথ্য। ঠিক যেমনটা গতবার শিল্পীর ভাবনায় এখানে ফুটে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুশীলন সমিতির এবং দুর্গাপুজোর ইতিহাস। তবে শিল্প ভাবনার মাঝেও দেবী দুর্গা এখানে মহিষাসুরমর্দিনীই।
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের