Chili

মরিচমন্থন! নয়ডার শ্রমিক-ক্ষোভেও ‘মিরচি’-যোগ

মরিচের প্রচলন বহু প্রাচীন। ক্রিস্টোফার কলম্বাস গোলমরিচের সঙ্গে একে গুলিয়েছিলেন। নয়ডার শ্রমিক-ক্ষোভে সম্প্রতি ‘মিরচি’-যোগ বেরিয়েছে!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ২০:০৬

options
link
মরিচমন্থন! নয়ডার শ্রমিক-ক্ষোভেও ‘মিরচি’-যোগ
‘তিখি মিরচি’ ব্যবহার করে জনমানসে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা!

ভালবাসার খেলায় কার লাটাইয়ে সুতো থাকবে, আর থাকবে না, আগাম বলা শক্ত। প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমিকের মনোমালিন্য ও ভুল বোঝাবুঝি চলছে। সেই রাগে, কিছুটা বদলা নিতেও, খেতে বসে প্রেমিক একের পর এক মরিচ, মানে ঝাললঙ্কা, খেয়ে নিল। অন্যরা উৎকর্ণ, উৎকণ্ঠিত। এই অবুঝ কাণ্ডের কোনও অর্থ নিশ্চয় রয়েছে। তবে ওই প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া কেউ তা বুঝতে পারছে না সেই সময়। যাই হোক, প্রেমিকা পরে গোপনে ক্ষমাটমা চেয়ে নিলে, মানভঞ্জন পর্ব সুষ্ঠুভাবে সমাধা হয়। কিন্তু নিয়তির চক্রান্তে এই দু’জনের চার হাত আর এক হয়নি। মেয়েটির বিয়ে হল অন্যত্র।

Advertisement

Advertisement

সে ছেলে প্রতিষ্ঠিত, তবে একটু গম্ভীর প্রকৃতির, খানিক বেরসিক। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সন্দেহ হতে থাকে, ঠিক মিলছে না যেন। নবপরিণীতা বউয়ের আচরণে ছোটখাট অনেক বিচ্যুতি! ক্রমে জানা গেল, এ বিয়ে হয়েছে মেয়েটির অমতে। স্বামী রাজপুত। কিন্তু পৌরুষের দম্ভ ভুলে স্থির করল, মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেবে পূর্বতন প্রেমিকের কাছে। সেজন্য তারা গেল ইতালি। সেখানে তন্নতন্ন করে খুঁজছে বউয়ের প্রাক্তন প্রেমিকের আস্তানা। পাকাপোক্ত ঠিকানা জানা নেই– নাকাল হতে হচ্ছে। এমনই একদিন প্রচুর ঘুরে ক্লান্ত হয়ে খেতে বসেছে তারা একটি রেস্তোরঁায়। স্বামী অর্ডার দিয়েছে চেনা খাবার। মেয়েটি আনমনে অর্ডার করে বসে এমন একটি ইতালীয় ডিশ, যা ঘোরতর আমিষ, তদুপরি মেয়েটি কখনও খায়নি। ডিশটি দেখে তো খাবার ভক্তি পুরো চলে গেল। স্বামী হাসে। সে হাসিতে কি হালকা বিদ্রুপ ছিল? মেয়েটি আহত হয়। সদ্য অর্ডার করা খাবারটি সে খেল না। স্বামীর খাবারও শেয়ার করল না। বরং টেবিলে থাকা ঝাললঙ্কা খেতে থাকল একের পর এক! পুরনো প্রেমের স্মৃতিতে।

Advertisement

সঞ্জয় লীলা বনশালি যেভাবে লঙ্কার মতো একটি অনুষঙ্গকে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমায় প্রেমার্তি বোঝাতে ব্যবহার করেছেন, অবিশ্বাস্য! মানুষের আবিষ্কার করা মশলাপাতির ইতিহাসে মরিচের স্থানটি আদি পর্যায়ে থাকবে।

সঞ্জয় লীলা বনশালি যেভাবে লঙ্কার মতো একটি অনুষঙ্গকে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমায় প্রেমার্তি বোঝাতে ব্যবহার করেছেন, অবিশ্বাস্য! মানুষের আবিষ্কার করা মশলাপাতির ইতিহাসে মরিচের স্থানটি আদি পর্যায়ে থাকবে। মেক্সিকোর মধ্য ও পূর্ব ভাগে লঙ্কা চাষের প্রচলন ছিল ৬ হাজার বছর আগে। ক্রিস্টপূর্বাব্দেও লঙ্কা খাওয়া হত। পাখিদের অবশ্য লঙ্কা খেলে ঝাল লাগে না। আবার হাতিরা লঙ্কার গুঁড়োয় এমনই জব্দ, উপজাতিরা এক সময় হাতি-উপদ্রব আটকানোর জন্য বেড়ায় লঙ্কার গাছ পুঁতে দিত। লঙ্কায় যে-পরিমাণে ‘ভিটামিন সি’ রয়েছে, তা লেবুতেও নেই। জিভ ঝালে পুড়ে গেলে, জল নয়, আসলে দুধ খেলে জ্বলুনি কমে। গোলমরিচের ঝালের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস। তাই আমেরিকায় গিয়ে যখন তিনি স্থানীয় ক্যাপসিকাম খান, ঝালের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে তাদেরও ‘পেপার্‌স’ আখ্যা দেন।

সম্প্রতি, বেতন-বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে আরবান নকশাল ও পাক-যোগ আবিষ্কার করেছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। ‘তিখি মিরচি’ ব্যবহার করে নাকি জনমানসে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। লঙ্কার এহেন ব্যবহার অভিনব, সন্দেহ নেই। তবে যোগী রাজ্যেই বহু মহিলা পেপার স্প্রে রাখেন ব্যাগে, পুরুষের যৌন উপদ্রব সামলাতে, এ-তথ্য ভুললেই বা চলবে কেন!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.