Voter List Manipulation

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, সরষেয় ভূত!

মুখ‌্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভোটার-তালিকার কারচুপি ধরতে পথে নেমে পড়েছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১, ২০২৫, ২১:২৩

options
link
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, সরষেয় ভূত!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার-তালিকায় কারচুপি হচ্ছে বলে মুখ‌্যমন্ত্রীর অভিযোগ। প্রশ্ন, বাছাই করা কিছু নাম বাদ দেওয়ার ছক তৈরি হচ্ছে না তো!

Advertisement

নির্বাচনের পর মহারাষ্ট্রে ভোটার-তালিকায় ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের নাম ঢোকানোর অভিযোগ সামনে আসে। এক্ষেত্রে অভিযোগের তির সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। ‘মহাবিকাশ আঘাড়ি’ নামে মহারাষ্ট্রে বিরোধী দলগুলির জোট এই অভিযোগ তোলে। অভিযোগ, ’২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত মধ‌্যবর্তী পাঁচ-ছ’মাসে সেখানকার ভোটার তালিকায় প্রায় ৩৯ লক্ষ নাম যোগ হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের সংখ‌্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই ভূতুড়ে ভোটারের সংখ‌্যা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জোটের আরও অভিযোগ, লোকসভা ভোটে যেসব বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি কম ভোট পেয়েছে– সেখানে এই নতুন ভোটার-সংখ‌্যার হার বেশি। যত সংখ‌্যক নতুন নাম-তালিকায় যোগ হয়েছে, বিজেপির ভোট সেসব কেন্দ্রে ঠিক ততটাই বেড়েছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগে কেজরিওয়ালের আপ অভিযোগ করেছিল, ভোটার-তালিকা থেকে বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রেও অভিযোগের তির ছিল নির্বাচন কমিশনের দিকে।

Advertisement

মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে অপ্রত‌্যাশিত জয় পেয়েছে বিজেপি। এতে ভোটার তালিকায় কারচুপির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। বাংলার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন আচমকা ভোটার-তালিকা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম ঢোকানো শুরু করেছে, কার্যসিদ্ধির জন‌্য কারচুপি করে নির্বাচন কমিশন একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ করেছে। সেই সংস্থা একই ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্রের নম্বরে ভিন রাজে‌্যর বাসিন্দা ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকায় ঢোকাচ্ছে।

ইতিমধ্যে গঙ্গারামপুরের এমন এক ভোটারের বয়ান সংবাদমাধ‌্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যাঁর ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্র তথা ‘এপিক’-এর (EPIC) নম্বরে ভিন রাজ্যের (গুজরাট) এক বাসিন্দার নাম তালিকায় উঠেছে। রাজ্যের ভোটার-তালিকা থেকে বাছাই করা কিছু নাম বাদ দেওয়ার একটা ছক তৈরি হচ্ছে কি না– তৃণমূলের প্রশ্ন তা নিয়েও। মুখ‌্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, কমিশনের ক্ষমতাকে ব‌্যবহার করে বিজেপির এই ষড়যন্ত্রকে মহারাষ্ট্র ও দিল্লি ভোটের অাগে ধরা যায়নি। কিন্তু এখন তারা সচেতন হয়ে গিয়েছে।

মুখ‌্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভোটার-তালিকার কারচুপি ধরতে পথে নেমে পড়েছে। বর্তমান মুখ‌্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ নিয়ে বিরোধীরা প্রবল আপত্তি তুলেছিল– কারণ, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সমবায়মন্ত্রকের উচ্চপদে কাজ করেছেন। ৩৭০ ধারা রদ সংক্রান্ত কমিটি ও রামজন্মভূমি ট্রাস্টের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। এরকম একজন মুখ‌্য নির্বাচন কমিশনারের অধীনে ভোটার তালিকার বিশুদ্ধতা কতটা রক্ষিত হবে, তা নিয়েই বস্তুত সংশয় তৃণমূলের। এই সংশয় থাকা অমূলক নয় মোটেও।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন