বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যালকোহলের মতোই ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ পদার্থ, ওষুধ ও ক্লান্তির পরীক্ষাতেও চাই সমান কড়াকড়ি।
আরও পড়ুন:
বিমানযাত্রার সুরক্ষায় সামান্যতমও শৈথিল্যের কোনও জায়গা নেই। কিন্তু ৪ আগস্ট ফুকেত-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ঘটনায় সেই প্রশ্নই ফের সামনে আসছে। ১৩৭ জন যাত্রী ও আট জন ক্রু-সহ এয়ারবাস এ৩২০নিও-তে মাঝ-আকাশে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা টারবুলেন্স শুরু হয় এবং বিমানটি মুহূর্তের মধ্যে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় ২০-র বেশি যাত্রী ও ক্রু আহত হন।
এ ঘটনাকে ‘সিরিয়াস ইনসিডেন্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে ‘ডিজিসিএ’। পাশাপাশি ‘এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’-র তদন্তে ফ্রান্সের বিইএ এবং এয়ারবাসের প্রযুক্তিগত প্রতিনিধিরাও যুক্ত হয়েছেন। এই তদন্তেই স্পষ্ট হওয়া দরকার, কীভাবে একের পর এক হাইড্রলিক সিস্টেমের সতর্কবার্তা, এলিভেটর ফ্লাইট-কন্ট্রোলের ত্রুটি, অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, এমারজেন্সির ডোরের সংকেত এবং ইঞ্জিন অ্যান্টি-আইস সতর্কবার্তা একসঙ্গে দেখা দিল। এয়ারবাসের প্রাথমিক তথ্যও প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার দ্বিতীয় দিকটি আরও অস্বস্তিকর। উড়ানের পরে বিমানের কমান্ডিং পাইলটের ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের পরীক্ষার ফল সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে ককপিট ক্রু’দের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। এরপরেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ফ্লাইট ডেক ক্রুদের জন্য ‘যে কোনও পদার্থ বা প্রেসক্রিপশন-বহির্ভূত ওষুধ’-এর বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং করতে বলা হয়েছে। এখানেই সামনে এসেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা। সেটি হল, অ্যালকোহল পরীক্ষায় যে-গুরুত্ব দেওয়া হয়, সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের পরীক্ষায় সেই একই কঠোরতা কি আদৌ রয়েছে?
উড়ানের পরে বিমানের কমান্ডিং পাইলটের ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের পরীক্ষার ফল সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে ককপিট ক্রু’দের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে।
‘সিভিল অ্যাভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ পদার্থ পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু পাইলট বা কেবিন ক্রু নয়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য। কিন্তু বিধি থাকা আর তার নিয়মিত কঠোর কার্যকর প্রয়োগ এক জিনিস নয়। বিমান পরিবহণের পরিধি যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন পাইলটদের দীর্ঘ কাজের সময়, মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়গুলিও নিরাপত্তার আলোচনায় আনতে হবে।
কোনও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ বা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করা ওষুধও যে পাইলটের বিচারবোধ, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং সমন্বয় ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, ডিজিসিএ-র মেডিক্যাল সার্কুলারেও তার সতর্কতা রয়েছে। অতীতের ম্যাঙ্গালুরু ও কোঝিকোড়ের ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলির অভিজ্ঞতা এই সতর্কতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। বিমান চালানোর ক্ষেত্রে এক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই কখনও কখনও শত শত মানুষের জীবন-মৃত্যুর ফারাক গড়ে দেয়। ওইদিন শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি, এটাই স্বস্তির। কিন্তু কোনও দুর্ঘটনা না ঘটাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাফল্য বলে ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। কারণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে একমাত্র কঠোর নিয়ম, স্বচ্ছ নজরদারি এবং তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী