সংবাদে প্রকাশ, ২ হাজার বছর পরে এক রোমান স্নানাগারে ফের শুরু করা গিয়েছে জলপ্রবাহ। কয়েক মাসের প্রচেষ্টার ফলে প্রত্ন-সংরক্ষণের বিশেষজ্ঞরা এই কাজে সফল হয়েছেন। ২ হাজার বছরের পুরনো জলপ্রবাহ প্রণালী, যেগুলি অকেজো হয়ে ‘মৃত’ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে আবার জীবন্ত করে তুলতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনা ঘটেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের মুগলা প্রদেশের ইয়াতাগান জেলায় ঐতিহাসিক স্ট্রাটোনিকেয়া প্রত্নস্থলে। সংরক্ষণের এই বিশেষ উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিগ্যাসি ফর ফিউচার’। এই সাফল্যের ফলে ফিরে এসেছে জলের প্রাচীন প্রবাহ। রোমান স্নানাগারের পুকুর আবার কানায়-কানায় ভরে উঠেছে জলে।
যদি আবার মনের ও স্মৃতির প্রাচীন প্রণালীগুলোকে জাগ্রত করা যেত, তাহলে ‘মৃত’ সম্পর্কেও ফিরতে পারত প্রাণের প্রবাহ।
এই জল কোনও আপাত কাজে লাগবে না এখন। এই জলে স্নান করা নিষিদ্ধ হয়েছে। এবং এই জল পান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। রোমান আমলের মতো এই স্নানাগারের পুকুরে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় গরম জল প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রাচীন এই পুকুরটির সৌন্দর্য ও মেদূরতা উপভোগ করার জন্যই এমন দীর্ঘ প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যেই ট্যুরিস্ট টানতে শুরু করেছে এই প্রাচীন প্রবাহ ও ভরে ওঠা পুরনো পুকুরটি।
এমন করেই যদি জগৎ জুড়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের থেমে যাওয়া সম্পর্ককে, মরে যাওয়া যোগাযোগকে, স্তব্ধ হয়ে যাওয়া সংলাপকে, শুকিয়ে যাওয়া ভালবাসাকে আবার ফিরিয়ে আনা যেত। যদি আবার মনের ও স্মৃতির প্রাচীন প্রণালীগুলোকে জাগ্রত করা যেত, তাহলে ‘মৃত’ সম্পর্কেও ফিরতে পারত প্রাণের প্রবাহ। সজাগ হত যোগাযোগ। শুরু হত সংলাপ। প্রাণময় হত প্রেম।
পৃথিবীর অনেক ব্রিলিয়ান্ট মন বা ইন্টেলেক্টকে আমরা হারিয়েছি অ্যালঝাইমার’সের প্রতাপে।
সারা বিশ্বে একটি ব্যাধির রাহুগ্রাস ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। স্মৃতিভ্রষ্টতার অসুখ। তিনটি ডাক্তারি শব্দ আতঙ্কের সঙ্গে আমরা হালে শুনতে পাই-অ্যামনেশিয়া, ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার’স।
তিনটি শব্দই জড়িয়ে আছে মস্তিষ্কের সঙ্গে। তিনটি শব্দের সঙ্গে ওতপ্রোত হয়ে আছে স্মৃতিপ্রবাহের অনুষঙ্গ। প্রতিটি শব্দ বার্তা দিচ্ছে মস্তিষ্ক কোষে দুর্বলতার বিভিন্ন পর্যায়ের। স্মৃতিকে যদি জলপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তাহলে ভুলে যাওয়ার অর্থ হতে পারে- স্মৃতির প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আমাদের প্রচেষ্টা হওয়া উচিত পুরনো স্মৃতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার। সেই চিকিৎসায় আমরা এখনও খুব সফল হতে পেরেছি কি?
পৃথিবীর অনেক ব্রিলিয়ান্ট মন বা ইন্টেলেক্টকে আমরা হারিয়েছি অ্যালঝাইমার’সের প্রতাপে। কিছুতেই ফিরিয়ে আনতে পারা যায়নি পুরনো স্মৃতির প্রবাহ। স্মৃতি হারাতে হারাতে এ অসাধারণ মন ক্রমশ স্থবির, পঙ্গু, মৃত হয়ে গিয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের করুণ স্মৃতিভ্রষ্টতা আমাদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছিল। আমরা তাঁর শুকিয়ে যাওয়া মৃত স্মৃতিপ্রবাহে ফিরিয়ে আনতে পারিনি প্রাণ। তবে টি. এস. এলিয়ট অব্যর্থ বলেছেন, পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনে পুরনো বেদনা। কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে! এক অর্থে, এ-ও গ্রহণীয়।
সর্বশেষ খবর
-
বিমান বদলে তুরস্ক থেকে গোপনে পলায়ন! ‘নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবুন’, ট্রাম্পকে খোঁচা ইরানের
-
যন্ত্রে জব্দ মানুষ! ‘সামান্য’ ভুলে কর্মীকে ছাঁটাই করল এআই বস, কী ‘অপরাধে’ গেল চাকরি?
-
অসুস্থ হয়ে কোর্টেই বমি! তীব্র গরমে কাহিল হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় জোকোভিচের
-
এবার বাংলা ভাষাতেও সম্প্রচার হবে ডুরান্ডের ম্যাচ, বড় ঘোষণা ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর
-
সুমিতের সঙ্গে মুখোমুখি জেরায় চরম অসঙ্গতি! সুজয়ের মেদিনীপুরে বাড়িতে তল্লাশি সিআইডির