Balochistan

মুক্তিযুদ্ধ ২.০! বাঙালি নয়, এবার পাকিস্তানের মানচিত্র পালটে দেবে বালোচরা

পাকিস্তান ও চিনের যে-অক্ষ ভারতকে এতদিন কৌশলগতভাবে চাপে রেখেছিল, বালুচিস্তান হল সেই অক্ষের সবচেয়ে দুর্বলতম বিন্দু।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১৪:২৫

options
link
মুক্তিযুদ্ধ ২.০! বাঙালি নয়, এবার পাকিস্তানের মানচিত্র পালটে দেবে বালোচরা
রণসজ্জায় বালোচ বিদ্রোহী।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর তৎকালীন বালুচিস্তান স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি দখল করে নেয়। কলমে শেখর সাহা

Advertisement

 

Advertisement

বালোচিস্তানের স্বাধীনতা কেবল পাকিস্তানের ভৌগোলিক মানচিত্রের পরিবর্তন নয়, বরং এটি একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের সর্বময় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক চাবিকাঠি। পাকিস্তান ও চিনের যে-অক্ষ ভারতকে এতদিন কৌশলগতভাবে চাপে রেখেছিল, বালোচিস্তান হল সেই অক্ষের সবচেয়ে দুর্বলতম বিন্দু।

Advertisement

দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত বালোচিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটারের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের ৪৪ শতাংশেরও বেশি, অথচ জনসংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি। এর দক্ষিণে রয়েছে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগর, পশ্চিমে ইরান এবং উত্তরে ভূ-বেষ্টিত আফগানিস্তান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর তৎকালীন বালুচিস্তান স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি দখল করে নেয়। সেই থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত বালোচ জনগণ তাদের স্বাধিকারের জন্য লড়াই করে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম কেবল একটি অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের আধিপত্য বিস্তারের এক অন্যতম প্রধান দাবাঘুঁটি।

বিশ্ব রাজনীতিতে যখনই কোনও অঞ্চলের ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনর্নির্ধারিত হয়, তখন তার চারপাশের ক্ষমতা-কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসে। বালুচিস্তানের স্বাধীনতাও দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বালুচিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও এটি পাকিস্তানের দরিদ্রতম প্রদেশ। অথচ এখানে রয়েছে সুই অঞ্চলের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র, যা কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটালেও স্থানীয় বালোচ সম্প্রদায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত। চাগাই জেলায় রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা ও তামার খনি। এই বিপুল খনিজ সম্পদকে হাতিয়ার করে বেজিং এবং ইসলামাবাদ যৌথভাবে বালুচ জনগণের উপর অর্থনৈতিক উপনিবেশবাদ চাপিয়ে দিয়েছে। ৬২ বিলিয়ন ডলারের ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল বালুচিস্তানের গোয়াদার গভীর সমুদ্র বন্দর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিন জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে সরাসরি আরব সাগরে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছে। বালুচ জাতীয়তাবাদীদের অভিযোগ– এটি কোনও উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং বালুচদের নিজস্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। ফলস্বরূপ, ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠী এখন চিনের এই অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হল– চিন ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক অক্ষ, যা ভারতীয় সামরিক পরিভাষায় ‘দ্বিমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতি’ নামে পরিচিত। ভারত যখনই কাশ্মীরে বা উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তখনই এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে চাপে ফেলার জন্য যৌথ কৌশল অবলম্বন করে। বালুচিস্তান স্বাধীন হলে পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে তার প্রায় অর্ধেক অংশ বিলুপ্ত হবে। একটি খণ্ডিত, অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া এবং ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গু পাকিস্তান আর কখনওই ভারতের জন্য সামরিক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। এর ফলে ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চিরতরে ভেঙে পড়বে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আর পশ্চিম সীমান্তে বিশাল সৈন্য ও সম্পদ মোতায়েন রাখতে হবে না। ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরে ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য চিন দীর্ঘ দিন ধরে ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এই কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুক্তাটি হল– গোয়াদার বন্দর। চিন এই বন্দরটিকে কেবল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভবিষ্যতে তাদের ‘পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি’-র একটি শক্তিশালী সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজের ঘঁাটি হিসাবে ব্যবহার করার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে। গোয়াদারে চিনের স্থায়ী উপস্থিতি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘ফ্রিডম অফ নেভিগেশন’ এবং আরব সাগরে ভারতের চিরাচরিত আধিপত্যের জন্য এক বিরাট হুমকি।

বালুচিস্তানের স্বাধীনতা চিনের এই সাউথ কোয়ার্টার কৌশলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বালুচিস্তান রাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভারতের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কূটনৈতিক মৈত্রী গড়ে তুলবে। এর ফলে গোয়াদার বন্দর চিনের হাতছাড়া হয়ে ভারতের একটি কৌশলগত ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ বন্দরে পরিণত হবে, যা ওমান উপসাগরের প্রবেশদ্বারে ভারতের নৌবাহিনীর অবস্থানকে অজেয় করে তুলবে।

ভারতের জ্বালানি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের একটি বড় অংশ জড়িয়ে রয়েছে পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে। ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারত যে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে এড়িয়ে, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছানো। চাবাহার বন্দর থেকে বালুচিস্তানের গদাদর বন্দরের দূরত্ব সমুদ্রপথে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার। বালুচিস্তান স্বাধীন হলে চাবাহার এবং গদাদর– এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর একে-অপরের পরিপূরক হিসাবে কাজ করতে পারবে, যা এই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ভারত ও তার সহযোগীদের হাতে এনে দেবে। হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক জলপথের ঠিক পাশেই একটি বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের উপস্থিতি ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যে কোনও বৈশ্বিক সংকটের সময় ভারতীয় নৌবাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে।

ভারতকে স্থলপথে পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা পাকিস্তানের একটি দীর্ঘ দিনের রাষ্ট্রীয় নীতি। আফগানিস্তান কিংবা মধ্য এশিয়ার স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের সবচেয়ে সহজ পথ ছিল পাকিস্তানের ভূখণ্ড। কিন্তু রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে পাকিস্তান কখনওই ভারতকে এই ট্রানজিট সুবিধা দেয়নি। একই সঙ্গে, তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-ভারত-পাকিস্তান বা ইরান-ভারত-পাকিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পগুলি পাকিস্তানের অসহযোগিতা ও অন্তর্ঘাতমূলক নীতির কারণে আলোর মুখ দেখেনি। বালুচিস্তান স্বাধীন হলে ভারত পাকিস্তানের এই ভৌগোলিক ব্ল্যাকমেলের শিকার হওয়া থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে। ভারতের জন্য মধ্য এশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডারে সরাসরি প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হবে। স্বাধীন বালুচিস্তানের উপর দিয়ে ভারত সরাসরি আফগানিস্তানের ভিতর দিয়ে তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের সঙ্গে পাইপলাইন ও রেল সংযোগ স্থাপন করতে পারবে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি এবং সস্তা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিগত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বালুচিস্তানে যে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ‘কিল অ্যান্ড ডাম্প’ নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার বালুচ বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীকে গুম করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ মরুভূমি বা পাহাড়ে পাওয়া গিয়েছে। ‘ভয়েস ফর বালুচ মিসিং পারসন্স’-এর মতো সংগঠনগুলো বছরের পর বছর ধরে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও পশ্চিমা বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে পাকিস্তানের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বালুচিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে ভারত নিজেকে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসাবে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতা হিসাবে ভারতের নৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম স্তম্ভ হল ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ এবং ‘লিংক ওয়েস্ট’ নীতি। পূর্বদিকে ভারতের প্রভাব সুসংহত হলেও পশ্চিম দিকে পাকিস্তানের দেওয়ালের কারণে ভারত মহাসাগরের বাইরে স্থলপথে ভারতের বিস্তার থমকে গিয়েছে। স্বাধীন বালুচিস্তান ভারতের এই ‘লিংক ওয়েস্ট’ নীতিতে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে। বালুচিস্তানের নিজস্ব খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে তামা ও সোনার উত্তোলনে ভারতীয় বহুজাতিক সংস্থাগুলি বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ পাবে, যা চিনের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটাবে। এছাড়া, পুনর্গঠিত এই অঞ্চলের পরিকাঠামো নির্মাণ, সড়ক, রেলপথ এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি তৈরিতে ভারতীয় প্রযুক্তি ও শিল্পের জন্য এক বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। করাচি বন্দরের বাণিজ্যিক একাধিপত্য হ্রাস পাবে এবং ভারতীয় বন্দরগুলোর (যেমন মুম্বই বা মুন্ড্রা) সঙ্গে গদাদরের সরাসরি বাণিজ্যিক রুট তৈরি হবে, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুকে ভারতের দিকে স্থানান্তরিত করবে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো মূলত উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদ এবং ভারত-বিদ্বেষের উপর ভিত্তি করে টিকে রয়েছে।

পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও আইএসআই প্রায়শই বালুচিস্তানের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করার জন্য লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ কিংবা আইএস-এর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সেখানে পুনর্বাসিত করেছে। এর বিপরীতে, বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত প্রগতিশীল, উদার এবং ধর্মনিরপেক্ষ ভাবাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। বালোচ সমাজে ধর্মীয় উগ্রবাদের কোনও স্থান নেই; তাদের মূল পরিচয় তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভূমি। ফলস্বরূপ, একটি স্বাধীন বালুচিস্তানের আত্মপ্রকাশ দক্ষিণ এশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলা ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ককে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ভারতের সীমান্তে উগ্রপন্থী ইসলামিক স্টেটের পরিবর্তে একটি উদার ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের উপস্থিতি সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বালুচিস্তানের স্বাধীনতা কেবল পাকিস্তানের ভৌগোলিক মানচিত্রের পরিবর্তন নয়, বরং এটি একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের সর্বময় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক চাবিকাঠি। পাকিস্তান ও চিনের যে-অক্ষ ভারতকে এত দিন কৌশলগতভাবে চেপে ধরে রেখেছিল, বালুচিস্তান হল সেই অক্ষের সবচেয়ে দুর্বলতম বিন্দু।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেবল নীতিবাক্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা যায় না; সেখানে প্রয়োজন হয় বাস্তবসম্মত ও বলিষ্ঠ কৌশলগত পদক্ষেপের। ১৯৭১ সালে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দঁাড়িয়ে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিল এবং নিজের পূর্ব সীমান্তকে নিরাপদ করেছিল, ঠিক তেমনভাবে এখন পশ্চিম সীমান্তের স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে বালুচিস্তানের ন্যায়সংগত স্বাধীনতা সংগ্রামকে কূটনৈতিক, নৈতিক ও কৌশলগতভাবে সমর্থন করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতির একটি অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত।

(মতামত নিজস্ব)
লেখক সমাজকর্মী

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.