গুন্ডা দমনে যে কঠোর আইনের প্রয়োজন রয়েছে তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু তার প্রয়োগ সম্পর্কেও সতর্কতা জরুরি।
আরও পড়ুন:
বিধানসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। সংক্ষেপে যা ‘গুন্ডা দমন বিল’ রূপে পরিচিতি পেয়েছে। বিলটি পাস করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানিয়েছেন ‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে এই বিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত পুরনো একটি আইন সংশোধন করে পাস করা হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। গুন্ডামি রুখতে জোড়া বিলে পুলিশ-প্রশাসনকে প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ‘সুস্থ রাজনীতি যাঁরা করেন, এই প্রস্তাবিত আইন তাঁদের জন্য নয়।’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটির প্রয়োগ হবে না বলেও মুখ্যমন্ত্রী বিলটি পেশ করার সময় যেভাবে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের সময়পর্বের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এবং দুই জমানার কিছু বিতর্কিত নেতার নাম করেন, তাতে বিরোধীরা সম্পূর্ণ আশ্বস্ত বোধ করতে পারছেন না। প্রতিরোধমূলক আটক নিয়ে বিরোধীরা আশঙ্কার কথা বিধানসভায় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিলটির সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের কুখ্যাত রাওলাট আইনেরও তুলনা করেছেন। রাওলট আইনে পুলিশ যে কোনও ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং বিনা বিচারে দু’-বছর পর্যন্ত জেলবন্দি করে রাখতে পারত। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ওই কুখ্যাত ব্রিটিশ আইনটি সম্পর্কে বলতেন, ‘নো দলিল, নো উকিল, নো আপিল’। এর বিরুদ্ধে গান্ধীজি সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন। হালে দুর্বৃত্তায়ন মাত্রাছাড়া হয়েছে। তাই সমাজবিরোধী তথা গুন্ডা দমনে যে কঠোর আইনের প্রয়োজন রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু তার প্রয়োগ সম্পর্কেও সতর্কতা জরুরি।
গুন্ডামি রুখতে জোড়া বিলে পুলিশ-প্রশাসনকে প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।
স্বাধীন ভারতেই আমরা বিভিন্ন সময়ে নাগরিকদের ন্যায্য আন্দোলন ঠেকাতে এই ধরনের আইনের অপপ্রয়োগ দেখেছি। রাজ্যে পাস হওয়া গুন্ডা দমন বিলের তিন নম্বর ধারায় প্রতিরোধমূলক আটকের কথা বলা হয়েছে। কেউ কোনও অপরাধ করতে পারে এই আশঙ্কা থেকে পুলিশকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিগত ৭ বছর ধরে কী ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে- সেসব খতিয়ে দেখে ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ জারি হতে পারে। বিলের এই অংশটি নিয়েই বিরোধীদের আপত্তি। কেউ কেউ আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
রাজ্যে যখন বিল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন সামনে এসেছে বম্বে হাই কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ। আন্দোলনের অপরাধে মহারাষ্ট্র পুলিশ এক ব্যক্তিকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করে। বিচারপতি জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের অধিকার। প্রতিবাদ করার জন্য কাউকে নির্বাসন দেওয়া যায় না। প্রত্যাশা, বিলটি ‘আইন’-এ পরিণত হলে রাজ্য সরকারও পর্যবেক্ষণটি মাথায় রাখবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কাশ্মীরে সন্ত্রাসের ছক, ৬ ভারতীয়-সহ ২৩ পাকিস্তানিকে ইউএপিএ ধারায় জঙ্গি ঘোষণা কেন্দ্রের
-
‘রাজ্য সভাপতি খুঁজতে তৃণমূল সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিক’, চন্দ্রিমার ইস্তফার পর কটাক্ষ জিতেন্দ্রর
-
কাঁটাতার পেরিয়ে তামিলনাড়ুতে! ৫০ বাংলাদেশিকে ট্রেনে তুলে বাংলায় পাঠাচ্ছে বিজয় সরকার
-
গায়েত্রী মন্ত্র-আজানের মেলবন্ধনেই সুখের সংসার সোনাক্ষীর, ক্যানভাসে দিলেন ‘ধর্মপ্রেমে’র পাঠ
-
শেষ ষোলোয় খেলা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা, নেইমারের যন্ত্রণা উপলব্ধি করছেন আন্সেলোত্তি