জ্যোতি কুমারি

অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সাইকেলে ১২০০ কিমি পাড়ি, জ্যোতির গল্প এবার বড় পর্দায়

বিহারের গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমার জ্যোতির পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৮, ২০২০, ২০:২৬

options
link
অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সাইকেলে ১২০০ কিমি পাড়ি, জ্যোতির গল্প এবার বড় পর্দায়

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জ্যোতি কুমারি পাসওয়ান, গত কয়েক দিনে এই নামটা সোশ্যাল মিডিয়ায় একপ্রকার সরগরম করে রেখেছে। বিহার থেকে ব্রিটেন, সর্বত্রই বেশ চর্চিত। একডাকে তাকে এখন সবাই ‘সাইকেল গার্ল’ বলেই চেনেন। তাঁর অসামান্য প্রতিভা দেখে দিন কয়েক আগেই ফেডারেশন তাকে দিল্লির আইজিআই স্টেডিয়ামে ট্রায়ালের জন্য ডাকে। প্রশংসা কুড়িয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু থেকে আইনমমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদও। তাঁর দারিদ্রতা মেটাতে এগিয়ে এসেছেন লোক জনশক্তি দলপ্রধান চিরাগ পাসওয়ানও। এমনকী প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্বয়ং ইভাঙ্কা ট্রাম্পের থেকেও। বিহারের বিস্ময়কন্যা জ্যোতি কুমারির লড়াকু কাহিনিই এবার বলিউডের পর্দায় আসছে।

Advertisement

‘পিহু’ সিনেমা খ্যাত পরিচালক বিনোদ কাপড়ি বিহারের এই বিস্ময়কন্যা জ্যোতি কুমারির গল্প অবলম্বনে সিনেমা ছবি তৈরি করার কথা জানিয়েছেন। সিনেমার নাম যা হবে, সেই তকমা ইতিমধ্যেই জ্যোতি পেয়ে গিয়েছেন। আজ্ঞে, ছবির নাম হবে ‘সাইকেল গার্ল’। ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন পরিচালক বিনোদ। দিল্লির ভাগিরথী ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের তরফে জানানো হয়েছে, জ্যোতির বাবা মোহন পাসওয়ানও ইতিমধ্যেই সায় দিয়েছেন পরিচালকের এই প্রস্তাবে।

Advertisement

[আরও পড়ুন: বিজ্ঞাপনে শ্রেণিবৈষম্যকে উসকে বিতর্কে বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী, চাইলেন ক্ষমা]

জ্যোতিকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন বিহারের গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারও। যাঁর বায়োপিক সুপার ৩০-তে অভিনয় করেছেন হৃতিক রোশন। জ্যোতির আইআইটি-জেইই কোচিংয়ের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে  নিয়েছেন আনন্দ কুমার। 

Advertisement

বয়স মাত্র মাত্র ১৫ বছর। এর মধ্যেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে বিশ্বের সামনে নজির গড়েছে জ্যোতি কুমারী (Jyoti Kumari )। কৈশোরের ছেলেমানুষিকে বাদ দিয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে গোটা বিশ্বের কাছে। হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে ১২০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে গ্রামে ফিরেছিল সে। মাঝপথে কিছুটা বিশ্রাম নিলেও দু’দিন কপালে খাবার জোটেনি। পেটে খিদে, ক্লান্তি তবু বিহারের বিস্ময়কন্যা জ্যোতির দৃঢ় মানসিকতায় ফাটল ধরাতে পারেনি। বাবা রিক্সা চালাতেন গুরগাঁওয়ে। মার্চে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন তিনি। এরমাঝেই লকডাউন জারি হল। অসুস্থ বাবাকে দেখতে বিহারের গ্রাম থেকে গুরগাঁও গেলেন জ্যোতি। তবে লকডাউনে আর ফিরতে পারেননি। এদিকে রোজগারের জমানো টাকা ফুরোতে থাকে। তার উপর বাড়িওয়ালা উঠে যেতে বলে। এরকম পরিস্থিতিতে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে জ্যোতির গ্রামে ফেরা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। ৫০০ টাকা ধার করে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল কিনে ফেলে সে। অতঃপর দু’ চাকায় সওয়ারি হয়েই নিজের গ্রামে ফিরলেন জ্যোতি। বিহারের সেই লড়াকু কন্যার গল্পই এবার সিনেমার পর্দায় ফুটে উঠবে।

[আরও পড়ুন: করোনাই কাল, বিয়ের পর সৃজিতের প্রথম জামাইষষ্ঠীতে বাদ সাধল লকডাউন]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.