Anjan Dutt

‘চালচিত্র এখন আবার মুক্তি পেলে ভালো হত’, সেরা বাংলা ছবির সম্মান অর্জনের পর অকপট অঞ্জন

মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষে অঞ্জন দত্ত-র শ্রদ্ধার্ঘ্য ছিল 'চালচিত্র এখন'। ছবিটি জাতীয় পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবি নির্বাচিত হওয়ার পর ফোনালাপে পরিচালক।

শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৩:১২

options
link
‘চালচিত্র এখন আবার মুক্তি পেলে ভালো হত’, সেরা বাংলা ছবির সম্মান অর্জনের পর অকপট অঞ্জন
'চালচিত্র এখন আবার মুক্তি পেলে ভালো হত', সেরা বাংলা ছবির সম্মান অর্জনের পর অকপট অঞ্জন

৭২ তম জাতীয় পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবির সম্মান অর্জন করল আপনার ‘চালচিত্র এখন’। যে ছবি প্রধানত ওটিটি লক্ষ্য করে আর অল্প হল-এ মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবি জাতীয় পুরস্কার পাবে ভেবেছিলেন?

Advertisement

হ্যাঁ, ঠিকই। ‘এসভিএফ’ একই দিনে প্রেক্ষাগৃহেও নিয়ে এসেছিল ওটিটি-র পাশাপাশি। কিছু লোক দেখেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এখন যেমন ট্রেন্ড মানুষ ফাইনালি ওটিটি-তেই দেখবে। আর ঠিক সেটাই ঘটেছিল। প্রচুর মানুষ ওয়েব প্ল্যাটফর্মে দেখলেন ছবিটা। অনেক দেশি-বিদেশি ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে ছবিটা। এবং যেখানেই গিয়েছে কোনও না কোনও পুরস্কার অর্জন করেছে। কলকাতা, ঢাকা, প্যারিস, মাদ্রিদ সব জায়গাতেই। তবে নিশ্চয়ই জাতীয় পুরস্কার অনেক বড় সম্মান আমাদের দেশে। খুব ভালো লাগছে যে, অনেক খেটে আমরা ছবিটা করেছিলাম।

Advertisement

নিজেরা (অঞ্জন এবং নীল দত্ত) প্রযোজনা করেছেন।

Advertisement

সেটাই সবচেয়ে বড় পাওনা। মৃণালদা থাকলে খুব মজা পেতেন। নিজেদের টাকায় বানানো ছবি।

২০১১ সালে আপনার ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ তিনটি জাতীয় পুরস্কার পায়। তার ঠিক ১৫ বছর পর আবার আপনি অর্জন করলেন জাতীয় পুরস্কার।

ছবিটা যারা দেখেছ, তাদের সকলেরই ভালো লেগেছে। যাঁরা বিচক্ষণ এবং যাঁরা অতটা বিচক্ষণ নন, দু’দলেরই ছবিটা খুব ভালো লেগেছে। সেটা ভাবলে আমার ভালো লাগে। অনুরোধ করব যাঁরা এখনও ‘চালচিত্র’ দেখেননি, ‘তাঁরা হইচই-তে দেখে নিন। এই সুযোগে ছবিটা যদি এখন আবার রিলিজ করা যেত ভালো হত।

Anjan Dutt reacts to Chaalchitra Ekhon winning at the 72nd National Film Awards
চালচিত্র এখন

মৃণাল সেনের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আজকে বেঁচে থাকলে বোধহয় সবচেয়ে খুশি হতেন।

হ্যাঁ, অনেক দিনের। প্রচন্ড খুশি হতেন। মজা পেতেন। যাঁরা ছবি দেখেছেন, তাঁরা বুঝবেন, সিংহাসনে বসিয়ে মৃণালদাকে দেখাতে চাইনি। আমি মৃণালদার সমস্ত মজা, পাগলামি রেখেই ছবিটা করেছি। মৃণাল সেন মানে পলিটিক্যাল ফিল্মমেকার সেরকম ভাবে আমি করিনি। আমি একজন মজার, এক্সাইটিং, এনার্জেটিক, মানুষকে যেমন দেখেছি, তেমনই তুলে আনার চেষ্টা করেছি পর্দায়।

এত বাধা পেরিয়ে, কষ্ট করে বানানো ছবিটা জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে শেষপর্যন্ত মর্যাদা পেল।

হ্যাঁ, সম্মান পেয়েছে, তবে এবার বড় মর্যাদা পেল। দর্শকেরও খুব ভালো লেগেছে। সেটা বড় পাওনা।

আপনি সাক্ষাৎকারে বার বার বলেছিলেন, অল্প কিছু লোকজন দেখলেও আপনি খুশি।

কারণ আর কী আশা করব। এখন ছবির যা অবস্থা, বাজারের যা অবস্থা, একটা ছবি করে প্রচুর দর্শক আশা করা খুব মুশকিল। সেন্সিবল ছবি করে বেশি দর্শক আশা করাও মুশকিল। তারা ওয়েট করবে বা মিস করে যাবে। কারণ, সারা ভারতে ডিস্ট্রিবিউশনের অবস্থাটা তেমনই।

এই সময়ে আবার জাতীয় পুরস্কার পরিচালক অঞ্জন দত্তকে কি সাহস দিল?

হ্যাঁ, অবশ্যই। আবার নতুন প্রোডাকশনের সাহস তো নিশ্চয়ই দিল। এবারে তেমন প্রত্যাশা ছিল না। আশা করি মৃণালদাকে যে ভাবে দেখেছিলাম, সে ভাবেই পর্দায় তুলে আনতে পেরেছি। নিজের মতো করে ছবি করার জন্য আবার সাহস দিল এই পুরস্কার। পরিশ্রমটা সার্থক মনে হচ্ছে।

Anjan Dutt opens up about Chaalchitra Ekhon's success at the 72nd National Film Awards
অঞ্জন দত্ত

বাদল সরকারকে নিয়ে একটা ছবি করছিলেন। তার কী আপডেট?

ওটার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আগে নীলের ‘বিয়ে ফিয়ে নিয়ে’ ছবিটা রিলিজ হবে। তারপর এটা মুক্তির পরিকল্পনা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.