Arifin Shuvoo

কলকাতায় এসে নিজেকে ‘বাংলার ধুরন্ধর’ বলে পরিচয় দিলেন বাংলাদেশের আরিফিন শুভ, কিন্তু কেন?

'জ্যাজ সিটি'র প্রচারে কলকাতায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। সংবাদ প্রতিদিন-এর সঙ্গে নতুন ছবি নিয়ে আড্ডায়।

Advertisement
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: মার্চ ৬, ২০২৬, ১৯:৩৭

options
link
কলকাতায় এসে নিজেকে ‘বাংলার ধুরন্ধর’ বলে পরিচয় দিলেন বাংলাদেশের আরিফিন শুভ, কিন্তু কেন?
'জ্যাজ সিটি'র প্রচারে কলকাতায় আরিফিন শুভ। ছবি- ফেসবুক

কেমন আছেন?
– খুব ভালো। কিন্তু ঘটনাচক্রে প্রায় ২৩ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে এসেছি। একটা কাজে নিউ ইয়র্কে ছিলাম, সেখান থেকে রাতে কলকাতায় আমি ঢুকেছি। তাই জেট ল্যাগ এবং সবকিছু মিলিয়ে একটু টায়ার্ড। তবে খুব উত্তেজিত যে, দেড়-দু’বছর ধরে একটা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর কাজটা যখন রিলিজ হয়, তার একটা আনন্দ থাকে। এক্সাইটমেন্টের পাশাপাশি আমার মধ্যে নার্ভাসনেস-ও কাজ করে। ১৯ মার্চ সোনি লিভ-এ ‘জ্যাজ সিটি’ আসবে। কীভাবে মানুষ নেবে, তাদের ভালো লাগবে কি না, এই জিনিসগুলো মাথায় ঘুরছে।

Advertisement

‘জ্যাজ সিটি’ আসছে ইদের মুখে।
– ঘটনাচক্রে হয়তো ইদের দিনই আসবে (হাসি)।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সেটা দর্শকদের জন্য আপনার উপহার?
– অনেস্টলি বলছি, যেহেতু রিলিজের ডেট এর আগে একবার ঠিক করা হয়েছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে, এটাই বলব– এটা বোধহয় উপরওয়ালার উপহার, আমার প্রতি এবং আমার সকল দর্শকের প্রতি।

Advertisement

আমি একজন অরাজনৈতিক মানুষ। নিজেকে শুধুমাত্র অভিনয় শিল্পী হিসাবেই দেখতে চাই। আমার অন্য কোনও ব্যবসা নেই, এর আগে বা পরে। শুধুই অভিনয় করি। সেই জায়গা থেকে বলব, শিল্প হল বর্ডারলেস বা সীমানা-বিহীন। অ্যাম নট বিইং ডিপ্লোম্যাটিক রাইট নাউ। সততার সঙ্গেই কথাগুলো বলছি।

গত সেপ্টেম্বরেই কলকাতায় শুটিং করছিলেন এটার। এখন আবার এই শহরেই প্রচারে।
– এটা আগে থেকেই জানা ছিল। কারণ, জ‌্যাজ ক্লাবটাই সাতের দশকের পার্ক স্ট্রিটের গল্প। এবং এটা ওই সময়কে ভিত্তি করে ফিকশনাল গল্প। যেখানে মিউজিক, হিউমার, ভায়োলেন্স সব আছে। আমি বলব, সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক একটা প্যাকেজ। কিন্তু অনেক গভীর বিষয় আছে। আমার ধারণা গভীরতা এবং এন্টারটেনমেন্টের জায়গাটা দর্শকের ভালো লাগবে।

সোনি লিভ-এ খুব একটা বাংলা প্রোজেক্ট আমরা দেখতে পাই না। সেখানে এটা তো খুব বড় ব্যাপার।
– হ্যাঁ, আমার দিক থেকে চিন্তা করলে দিস ইজ মাই ফার্স্ট বলিউড প্রোজেক্ট। আর শুধু বাংলা নয়। এখানে বাংলা বাদে আরও তিনটে ভাষায় আমি অভিনয় করেছি। হিন্দি, উর্দু আর ইংলিশে। অনেকগুলো সিন ওই তিনটে ভাষায় পারফর্ম করতে হয়েছে।

বলা যায়, বলিউডে চোখে পড়ার জন্য এটা বড় সুযোগ আপনার কাছে?
– সেটা তো সময় বলব। যেহেতু সোনি লিভ-এর কাজ, কাস্টিং ডিরেক্টর এবং সকলে ওখানকার। (হাসি)

সিরিজের প্রযোজক অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক সৌমিক সেন। কার সঙ্গে আগে যোগাযোগ হয়েছিল?
– অ্যাকচুয়ালি দু’জনের একজনের সঙ্গেও না।

আরিফিন শুভ। ছবি- ফেসবুক

তাহলে কীভাবে?
– কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়ার ওখান থেকে প্রথমে টেক্সট আসে। এবং প্রায় বছর খানেক পরে আমার সঙ্গে সৌমিকদার আলাপ হয়। এবং তারপর অর্পিতাদির আলাপ হয়। দু’বছর ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে অডিশন দিয়েই কাজটা পেয়েছি।

আপনার চরিত্রের নাম ‘জিমি রায়’। কেমন সে?
– বাংলার ধুরন্ধর (হাসি)। ও খুব পিপল প্লিজিং একটা চরিত্র। অ্যাট দ্য সেম টাইম ইনটেনসিটি আছে চরিত্রের মধ্যে। একই সঙ্গে তার হিউমার আছে। ধরুন, একটা তির আসছে তার পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়াতে খুব দক্ষ।এই দিকগুলো আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে।

সৌরসেনী মৈত্র আপনার বিপরীতে। কেমন লাগল?
– খুব ভালো। শুধু সৌরসেনী নয়। প্রত্যেকে এখানে যারা যারা পারফর্ম করেছে, মেজর অ্যাক্টর থেকে জুনিয়র অ্যাক্টররা পর্যন্ত প্রত্যেকে দারুণ। সকলের কাজ দর্শককে মুগ্ধ করার মতো বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আপনি এতটা ট্র্যাভেল করে এসেছেন। লুকটাও পালটেছেন। সেটা কি নতুন কাজের জন্য?
–  হ্যাঁ, যেটার অর্ধেক কাজ হয়েছে। এই প্রচার পর্ব শেষ করে আবার করব।

সেটার লুকটাই কিন্তু ধুরন্ধর মনে হচ্ছে।
– গ্যাংস্টারের লুক। বাংলাদেশের প্রোজেক্ট।

বিনোদনের কোনও বর্ডার নেই। দুই দেশের মানুষই দুই দেশের বিভিন্ন কালচারাল আসপেক্ট ভালোবাসে। ডেফিনিটলি এটা হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি আগের থেকে ভালো যতটা খবর থেকে বুঝতে পারি। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কতটা আশাবাদী পালাবদলের পরে?
– আমি আসলে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না এই কারণে, যে আমি একজন অরাজনৈতিক মানুষ। নিজেকে শুধুমাত্র অভিনয় শিল্পী হিসাবেই দেখতে চাই। আমার অন্য কোনও ব্যবসা নেই, এর আগে বা পরে। শুধুই অভিনয় করি। সেই জায়গা থেকে বলব, শিল্প হল বর্ডারলেস বা সীমানা-বিহীন। অ্যাম নট বিইং ডিপ্লোম্যাটিক রাইট নাউ। সততার সঙ্গেই কথাগুলো বলছি। আর্ট হ্যাজ নো বাউন্ডারি। এবং আমার কাজ অভিনয় করা। আমি সেটাই করি। পৃথিবীর যেকোনও দেশে যদি আমাকে ডাকা হয়, যে কোনও ভাষায়, যদি তাতে আমি পারদর্শী হই সেখানে আমি কাজ করব। আর বাকি রইল পলিটিকাল ক্যাওস। যা আজকে আছে, কালকে নেই, ওগুলো চলতে থাকবে। ওইসব এই পাশে রেখে, জীবনে সবাই মিলেমিশে বাঁচাটা বেশি জরুরি। কারণ জীবনটা খুব ছোট্ট।

‘জ্যাজ সিটি’র প্রচারে কলকাতায় আরিফিন শুভ। ছবি- ফেসবুক

দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত মনে করেন কি?
– বৃদ্ধি পাওয়া তো উচিত। আমরা দু’দেশের দর্শকই দু’দেশের কনটেন্ট দেখি।

চঞ্চল চৌধুরি, মোশারফ করিম, জয়া আহসান কাজ করছেন। আপনিও করছেন।
– আমি বোধহয় সবথেকে কম কাজ করেছি।

তাও যথেষ্ট প্রমিনেন্ট কাজ করেছেন, ‘মুজিব : দ্য মেকিং অফ আ নেশন’ ও ‘আহা রে’ করেছেন। আদান-প্রদান বৃদ্ধি তো দুই দেশের জন্যই ভালো। কারণ ভাষাটা তো এক।
– ভাষাটা এক। আর বিনোদনের কোনও বর্ডার নেই। দুই দেশের মানুষই দুই দেশের বিভিন্ন কালচারাল আসপেক্ট ভালোবাসে। ডেফিনিটলি এটা হওয়া উচিত।

নতুন কাজের কথা চলছে এপারে?
– আমি আগ বাড়িয়ে কিছু বলি না। ১৯ মার্চ যাক।

আপনার মা বেঁচে থাকলে বড় খুশি হতেন। এমন একটা বড় প্রোজেক্টে কাজ করলেন।
– একদম তাই। আমার কেরিয়ারে অত্যন্ত রিমার্কেবল কাজ এটা। মা খুব খুশি হতেন। জানি না কী বলতেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.