তিনি ‘পরিবর্তনের পোস্টার গার্ল’। ‘রেনেসাঁ’ এবং অপর্ণা সেন, একে-অপরের সমার্থক বললেও অত্যুক্তি হয় না। বিশেষ করে বাংলার ক্ষেত্রে। কিন্তু একটা সময়ে তিনিই ভেবেছিলেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে প্রতিবাদ করে কোনও লাভ নেই! তবে এবার দিল্লির রাজপথে পড়ুয়াদের আন্দোলনেই খুঁজে পেলেন জীবনদর্শনের নতুন পাঠ। দেশের ‘অকুতোভয়’ ছাত্রসমাজকে স্যালুট জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তা ভাগ করে নিয়েছেন অপর্ণা সেন। সেখানেই অভিনেত্রী-পরিচালক জানালেন, কীভাবে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে পড়ুয়াদের থেকে কীভাবে ‘গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের’ পাঠ পেয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
“মনে হত, প্রতিবাদ করে বা গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করেও কোনও লাভ নেই! কারণ, প্রতিবাদ করলেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে— …”

‘নমস্কার, আদাব, জয় হিন্দ’ দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন অপর্ণা সেন। তাঁর মন্তব্য, “আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, গতরাতে আমি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ‘গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের’ প্রকৃত অর্থ শিখেছি। আমি শিখেছি, কীভাবে সংবিধানের উপর আস্থা রাখতে হয় এবং সেইমতো কাজ করতে হয়। বহু মানুষের মতো আমিও একসময় অত্যন্ত হতাশ, বিষণ্ণ এবং উদ্যমহীন হয়ে পড়েছিলাম। মনে হত, প্রতিবাদ করে বা গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করেও কোনও লাভ নেই! কারণ, প্রতিবাদ করলেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে— এমন আশঙ্কাই কাজ করত।” তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকেই জীবনদর্শনের নতুন পাঠ পেয়েছেন অপর্ণা।
“বিষয়টা এতই মর্মস্পর্শী যে, গতরাতে আমি শুধু কেঁদে গিয়েছি। ভাবছিলাম, এই ছেলেমেয়েরা কতটা…”
অভিনেত্রী তথা জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের কথায়, “এই ছাত্রছাত্রীরাই আমাকে দেখিয়েছে যে, এও সম্ভব। কারণ ওঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ের উপর বিশ্বাস রেখেছিল। সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে, অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, তাঁদের কথা শোনা হবে।” আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অপর্ণার সংযোজন, “বিষয়টা এতই মর্মস্পর্শী যে, গতরাতে আমি শুধু কেঁদে গিয়েছি। ভাবছিলাম, এই ছেলেমেয়েরা কতটা সাহসী, কতটা অদম্য এবং কতটা দৃঢ়চেতা। ওঁদের কাছ থেকে কত বড় শিক্ষাই না পেতে পারি আমরা! মন থেকে ওদের শুধু আশীর্বাদ করে বলছিলাম- শাবাশ! শাবাশ! আমরা সকলে তোমাদের কাছ থেকে শিখছি। আমাদের পথ দেখানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।”

“অনশন ভাঙার জন্য সোনম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ। এতদিন ধরে ওঁর এই ত্যাগ চিরস্মরণীয়…”
অন্যদিকে দীর্ঘ ২৬ দিন পর অবশেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অনশন ভেঙেছেন সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে খাইয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও। অনশনরত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকী অনশন ভাঙার আর্জিও জানিয়েছিলেন সেলেবমহলের একাংশ। এবার শেষমেশ শর্তসাপেক্ষে সোনম অনশন ভাঙতেই তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন অঞ্জন দত্ত। পরিচালক তথা অভিনেতার কথায়, “অনশন ভাঙার জন্য সোনম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ। এত দিন ধরে ওঁর এই ত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আপনাকে সাধুবাদ জানাই সোনম। ওঁর সুস্বাস্থ্য আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওঁর সুস্থ থাকা প্রয়োজন। সোনম ওয়াংচুককে স্যালুট জানাই।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মক্কেল নাকি ন্যায়বিচার, কোনটা বেছে নেবে ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’?
-
মৃতের সংখ্যার সঙ্গে পিওকে নিয়ে বাড়ন্ত অস্বস্তি! ‘বিক্ষোভকারীরা জঙ্গি নয়’, বোধোদয় শাহবাজের দলের
-
আবাসের তথ্য যাচাইয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা! গ্রেপ্তার পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী
-
শঙ্কা কাটিয়ে ফিরলেন শুভমান, শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের জয়ের পরও ব্যাট করে গেলেন সিরাজ
-
ভারতের জেলে মদ-গাঁজায় বুঁদ অপরাধীরা! সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, কীসের নেশা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ?