চলচ্চিত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে ঠিক কোন বিষয়টি? দারুণ চিত্রনাট্য, বিশাল বাজেট, অসাধারণ অভিনেতা ও তারকার সমাহার, না কি প্রোমোশনাল স্ট্র্যাটেজি? সমস্ত শর্ত পূরণ করেও কি ছবির সাফল্য নিশ্চিত করা যায়? সাম্প্রতিক ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তাকে সময়ের নিরিখে কিছুটা নজিরবিহীনই বলা চলে।
আরও পড়ুন:
কাছাকাছি সময়ে মুক্তি পেল দুটি ছবি। প্রথমটি ‘টক্সিক’, যার বাজেট ৫০০ কোটি টাকা। প্যান ইন্ডিয়ায় ছয়টি ভাষায় মুক্তি পেয়ে কাঁপিয়ে দেবে এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। মুখ্য ভূমিকায় দক্ষিণী তারকা যশ, কিয়ারা আডবাণী, তারা সুতারিয়া, নয়নতারা। ২৬ আগস্ট মুক্তির আগে সারা দেশ টগবগ করে ফুটছিল। অন্যদিকে তার কয়েক সপ্তাহ আগে প্রায় নিঃশব্দে মুক্তি পেয়েছে আধ্যাত্মিক ছবি ‘হনুমান অংশ’ (Hanuman Ansh)।
বাজেট মাত্র ২ কোটি টাকা। ভাষা মূলত হিন্দি, যার মধ্যে কিছুটা ব্রজভাষা ও বুন্দেলি মেশানো। মুখ্যচরিত্রে শোভিনভ সত্য, চন্দন কে আনন্দ, রাজীব মিশ্র। বলা বাহুল্য দ্বিতীয় ছবিটি প্রায় কোনও প্রচার ছাড়াই মুক্তি পেয়েছিল। দুটি ছবির ফলাফল সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল। অথচ বাস্তবে ঘটল সম্পূর্ণ অন্য ঘটনা। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ছবিটিই গড়ে ফেলল অবিশ্বাস্য রেকর্ড।

এই উত্থানকে নিছক সাফল্য না বলে ভারতীয় সিনেমার সাম্প্রতিক সময়ের এক অভিনব বক্স অফিস ম্যাজিক বলাই যায়। নিম করোলি বাবার জীবন ও আধ্যাত্মিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশাল চতুর্বেদী পরিচালিত ছবিটি ৭আগস্ট মুক্তির দিন ব্যবসা করেছিল মাত্র ১০ লক্ষ টাকা। প্রথম সপ্তাহের পর ছবিটিকে প্রায় ব্যর্থ বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল ছবির ভাগ্য।
দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং ওয়ার্ড অফ মাউথের জোরে বাড়তে থাকল শো। ৩০০টি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়ে একসময় প্রায় ২০টিতে নেমে যাওয়া স্ক্রিনের সংখ্যা চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছে গেল ৫০০০ এরও বেশি। এর অনেক বেশি স্ক্রিন পেয়েও ‘টক্সিক’ তার বাজেটের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেনি। অথচ ‘টক্সিক’ ছবির টেকনিক্যাল দক্ষতার ছিটেফোঁটাও নেই এই ছবিতে।

খুব সাধারণভাবে বানানো এক আধ্যাত্মিক গুরুর জীবনের ঘটনা ছবিতে উঠে এসেছে সহজ সরলভাবে। তা হলে ছবির এই অভাবনীয় সাফল্য কি শুধুই বিষয়ভিত্তিক? কিন্তু এই জেন জি-আলোড়িত সময়ে দাঁড়িয়ে তেমনটাও চোখ বুজে বলে দেওয়া যায় না। আবার এমনও নয় যে ‘টক্সিক’-এর দর্শক কমেছে বলেই ‘হনুমান অংশ’ ছবির সাফল্য এসেছে।
প্রসঙ্গত ওই একই সময়ে বাংলায় মুক্তি পেয়েছে দুটি ছবি। ‘টক্সিক’-এর কারণে শুরুতে কম স্ক্রিন পেলেও পরবর্তীতে স্ক্রিন সংখ্যা বেড়ে ভালো ব্যবসা করেছে দুটি ছবিই। এই পরিসংখ্যানই যেন বলে দিচ্ছে বড় বাজেটের ছবি বিশাল প্রত্যাশা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত দর্শককে হলে ফেরায় ছবির বিষয়বস্তু এবং তার প্রতি তৈরি হওয়া বিশ্বাস ও আবেগ। সব ক্ষেত্রে বিরাট প্রচার নয়, বরং লোকমুখে অরগ্যানিক প্রচারও একটি সাদামাটা ছবিকে সাফল্যের শীর্ষে তুলে দিতে পারে এ সত্য প্রমাণিত। ‘হনুমান অংশ’ ছবির সাফল্য ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইঙ্গিতবহ হয়ে রইল আগামী দিনে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
মমতার জোটের ডাক উপেক্ষা! উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি