৬ জুন ২০২৬, মুক্তি পেয়েছিল অ্যানিমেটেড মুভি ‘মহাপ্রভু জগন্নাথ’-এর টিজার। জগন্নাথ মন্দিরের প্রশাসনসহ বিভিন্নমহল আপত্তি জানায়। অতঃপর নির্মাতারা গজপতি মহারাজ ও মন্দির প্রশাসনের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেন। আগামী ১৭ জুলাই ছবি মুক্তির দু’দিন আগে দেশজুড়ে স্থগিতাদেশ জারি করল ওড়িশা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ছবির নির্মাতারা।
আরও পড়ুন:
রথযাত্রার দিন ‘মহাপ্রভু জগন্নাথ’ (Mahaprabhu Jagannath)- এর এহেন খবর অত্যন্ত হতাশজনক তা বললে অত্যুক্তি হবে না। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, সিনিয়র আইনজীবী দেবদত্ত কামাত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টির জরুরি শুনানির আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি এদিন মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে রাজি হননি। তবে পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুলাই শুনানির আশ্বাস দেন।
আদালতে দেবদত্ত কামাত জানান, ‘মহাপ্রভু জগন্নাথ’ সিনেমাটি বাচ্চাদের মনোরঞ্জনের জন্য নির্মিত একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। এর কাহিনি ‘স্কন্দ পুরাণ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এই যুক্তিতে ওড়িশা হাইকোর্ট ছবির মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আরও বলেন, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন বা সিবিএফসি ইতিমধ্যেই সিনেমাটোগ্রাফ আইনের পাঁচ নম্বর ধারার অধীনে ছবিটিকে ছাড়পত্র দিয়েছে।

তারপরও কেন ছবি মুক্তিতে ঘিরে এত সমস্যা সেই প্রশ্নই তুলেছেন। মুক্তির একদিন আগে স্থগিতদেশ জারি করা হলে প্রযোজক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন, সেবিষয়টিও আদালতে উত্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সিনেমার জন্য কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। দেশজুড়ে তিনশোর বেশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে প্রযোজকের যে পরিমান ক্ষতি হবে তা পূরণ করা অসাধ্য।

১৫ জুলাই ওড়িশা হাইকোর্ট ‘মহাপ্রভু জগন্নাথ’-এর মুক্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবিধান বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেও, সেই স্বাধীনতা এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত পায়। মিডিয়া রিপোর্ট মোতাবেক, মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারির কারণ প্রসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, ছবিতে যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা অমান্য করেছেন নির্মাতারা।
উল্লেখ্য, জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি মুরাহারি শ্রী রমনের ডিভিশন বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, প্রদর্শনীতে ছবির একাধিক দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে যা প্রচলিত ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক ইতিহাস এবং মন্দিরের দীর্ঘদিনের রীতিনীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। নির্মাতারা সংশোধনের আশ্বাস দিলেও দৃশ্যগুলো অপরিবর্তিত রেখেই ১৭ জুলাই মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই আবেদনের বিরোধিতা করে প্রযোজকের দাবি, ছবির শুরুতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক কাহিনি এবং এর সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে তাঁরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতের উদ্দেশে ছবি তৈরি করা হয়নি। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রথযাত্রার দিন প্রভু জগন্নাথের কৃপায় ‘মহাপ্রভু জগন্নাথ’ জট কাটিয়ে প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখবে কিনা সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
যৌনতা থেকে অপরাধমূলক কনটেন্ট! অনূর্ধ্ব-১৬-দের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের পথে নিউজিল্যান্ড
-
ছাত্রের দুষ্টুমিতে শাসন কেন? ‘সবক’ শেখাতে বেল্ট খুলে প্রধান শিক্ষক, ক্লাস টিচারকে পেটালেন বাবা!
-
দ্রুত চুল ঝরছে জেন জি’র! কোন ৩ কারণে তরুণ প্রজন্মে বাড়ছে এমন সমস্যা?
-
‘ধর্ম দেখে টাকা দিতেন, ফেসবুকেই থাকুন’, অন্নপূর্ণা নিয়ে মমতাকে পালটা খোঁচা শুভেন্দুর
-
আজ থেকেই কার্যকর গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ, ভাঙচুর করলেই বিরাট ‘শাস্তি’, বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর